উন্নত দেশ গঠনে পুলিশের মানবিকতা অপরিহার্য : ময়মনসিংহে ডিআইজি হারুন

0

প্রদীপ বিশ্বাস,ময়মনসিংহ:

বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন শৃংখলা ও পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের বিষয়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ব্যারিষ্টার মোঃ হারুন অর রশিদ বিপিএম এর সভাপতিত্বে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে নবনির্মিত ড্রিলসেডে রবিবার সকালে উর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের সাথে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ময়মনসিংহের সুযোগ্য ও দায়িত্বশীক পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান পিপিএম এই সভা সঞ্চালনা করেন। সভায় জেলার সকল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাকেল, সহকারী পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতেই প্রধান অতিথি চলমান কোভিড-১৯ সংকটময় মূহূর্তে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মানবিক কার্যক্রমে ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের এই সংকটময় মূহুর্তে বাংলাদেশ পুলিশের প্রাত্যাহিক ও মানবিক কার্যক্রম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। পুলিশের এই মানবিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে প্রদানের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো মাদক। যুব সমাজকে এই মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ দেশের মোট জনসংখ্যার ৭০% হলো ৩০ হতে ৩৫ বছর বয়সী যুবক। এদেরকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারলে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত ভিশন-২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। মাদক নির্মূলের প্রতি বিশেষ গুরত্বারোপ করে, তিনি সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাদক নির্মূলে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। আগামী একমাসের মধ্যে স্ব-স্ব এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে তাদের সহযোগীসহ মূল হোতাদের চিহ্নিত করে চিরুণী অভিযান পরিচালনা করার জন্য বিশেষ নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মাদক নির্মূলে বিপদগামী শিক্ষার্থী ও যুবকদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং মাদক নির্মূলে স্থানীয় ওসিদের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। অফিসার-ইনচার্জগণদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল সম্ভব সমূলে মাদক নির্মূল করা।
এছাড়া তিনি সকল থানার ওসিদেরকে সন্ধ্যার পরে স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটি পড়ুয়া কোন ছাত্র যাতে বিনা প্রয়োজনে বাহিরে অবস্থান না করে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করণের বিশেষ পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে প্রথমে পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। এ বিষয়ে তিনি সকল স্তরের পুলিশ সদস্যদেরকে আইজিপির সাম্প্রতিক ম্যাসেজ পৌঁছে দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘অবৈধ অর্থ উর্পাজন করে বাড়ী গাড়ী করার ইচ্ছা থাকলে পুলিশের চাকুরী ছেড়ে দিতে হবে”
জনসাধারণের সাথে ভালো আচরণসহ গ্রেফতারকৃত আসামীদের সাথে যেন নিষ্ঠুর আচরণ না করা হয়, পাশাপাশি থানায় আগত সেবা প্রার্থীদের সাথে যেন ভালো আচারণ করা হয় সেই বিষয়ে সকলে তিনি কঠোর নির্দেশনা দেন।
এছাড়াও তিনি পুলিশী সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিট পুলিশিং এর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করতে সকল থানার অফিসার-ইনচার্জদেরকে বিশেষ নির্দেশ প্রদান করেন।

শবশেষে ডিআইজি চলমান পরিস্থিতিতে সকল পুলিশ সদস্যদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করে বলেন, পুলিশ সদস্যদের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। পুলিশের প্রত্যেক সদস্যের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি রাখতে সকল ইউনিট ইনচার্জদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

%d bloggers like this: