ইসলামের প্র্রচার ও প্র্রসারে সউদী সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস

0

বিশেষ সংবাদদাতা:

সউদী আরবের পবিত্র মসজিদে হারাম এবং মসজিদে নববীর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ বিন নাসির বিন মোহাম্মদ আল খুজাইম বাংলাদেশ ও সউদী আরবের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদারে প্র্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্র্রশংসা করে বলেছেন, তার দেশ ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে।
ড. মুহাম্মদ আল খুজাইম মসজিদে নববীর ইমাম আবদুল মেহসিন বিন মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল কাশেমকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলে ছিলেন আরো চার সদস্য। গতকাল বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে ইসলামের প্রচার ও প্রসারসহ মুসলিম বিশ্বের কল্যাণের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রেস সচিব জানান, সাক্ষাতে সউদী প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মক্কা-মদীনার প্রধান দুই ইমামের বাংলাদেশ সফরে দেশবাসী আনন্দিত বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা এসেছেন আমরা আনন্দিত। মক্কা এবং মদিনা দু’টি পবিত্র স্থান। আমাদের হৃদয়ে এর বিশেষ স্থান রয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে দু’টি পবিত্র মসজিদের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সকল উপজেলায় মসজিদ কাম ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা প্রদানে সউদী প্রতিশ্রæতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ড. মোহাম্মদ আল খুজাইম বিগত আট বছরে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, আমাদের ধারণা হচ্ছে, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ একটি পরিবর্তিত দেশ। দেশটি এখন খুবই ভালো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সউদী বাদশা সালমান বিন আবদুুল আজিজ আল সাইদকে অভ্যর্ত্থনা জানাতে বাংলাদেশ অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে। জবাবে আল খুজাইম বলেন, সউদী বাদশা বাংলাদেশের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং তার সফর কর্মসূচি চ‚ড়ান্ত করতে আলোচনা চলছে।

সউদী আরবের দু’টি পবিত্র মসজিদের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসলামের প্রচার ও প্রসারে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের উচ্ছ¡সিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা মুসলমানদের এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য অনেক কিছু করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ কর্মকান্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মোহাম্মদ আল খুজাইম বলেন, সউদী আরবও অন্যান্য দেশের ন্যায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তিনি বিশ্বের সকল মুসলিম দেশ শান্তিতে বসবাস করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি চান বাংলাদেশের সকল ধর্মের লোক তাদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের মাধ্যমে তারাও শান্তিতে বসবাস করবে।
প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে সউদী আরবে কর্মরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকরা দু’টি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তিনি বলেন, সউদী আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত সম্পর্ক রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম সবচেয়ে উত্তম ধর্ম এবং শান্তি, মানবতা ও সংহতির ধর্ম। সন্ত্রাসীরা তাদের বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মাধ্যমে এই শান্তির ধর্মকে ক্ষতি করছে। প্রধানমন্ত্রী ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, সরকার প্রতিটি উপজেলায় মসজিদ কাম ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করবে। তিনি বলেন, তার সরকার ইতোমধ্যেই একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আরো উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আলোচনায় ইসলামের প্রচারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর তার সরকার এই ফাউন্ডেশনকে উন্নত করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনা করে সউদী প্রতিনিধি দলের নেতা বলেন, মহান আল্লাহ বঙ্গবন্ধুকে যেন বেহেশত নসীব করেন। বাংলাদেশের আতিথেয়তায় তারা মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান সফররত মক্কার সিনিয়র এই ইমাম।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ বজলুল হক হারুন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সউদী আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সউদী রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আল মুতাইরি অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ভোর রাতে সউদী এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছান পবিত্র মক্কা ও মদীনার দুই ইমামসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলেম-ওলামা মহাসম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা এসেছেন তারা। ওলামা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন এই দুই ইমাম। আগামী ৭ এপ্রিল তাদের সউদী আরবে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। গত চল্লিশ বছরের মধ্যে এই প্রথম পবিত্র বায়তুল্লাহ শরীফ ও মসজিদে নববীর ইমামদ্বয়সহ সউদী আরবের শীর্ষ পর্যায়ের ছয় সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে।

%d bloggers like this: