ইজারার আগেই সরকারি বালু হরিলুট

0

রংপুরের পীরগঞ্জে কয়েকজন রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায় কয়েক কোটি টাকার সরকারি বালু হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। ইজরার আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খননকৃত সিএফটি বালু দিনে-রাতে প্রকাশ্যে ট্রাকে, ভ্যানে ও ড্রামে করে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টেন্ডারের অপেক্ষায় পড়ে থাকা প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি বালু প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় ইচ্ছে মতো হরিলুট হচ্ছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও প্রভাবশালী কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার কারণে কারোই টনক নড়ছে না। এতে করে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রামে করতোয়া নদীর খননকৃত ওই বালু দিনেরাতে ড্রাম (বড়) ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। একই চিত্র চতরা ইউনিয়নের টোংরাদহ গ্রামে। এখান থেকে প্রতিদিন পনেরো-বিশটি ড্রাম ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে সরকারি বালু দিনে রাতে চুরি হচ্ছে।


প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় ইচ্ছে মতো হরিলুট হচ্ছে


নাম না প্রকাশের শর্তে টোংরাদহের কয়েকজন জানান, ১৪নং চতরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহিনের হুকুমেই প্রতিদিনই বালু বিক্রি ও সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। চেয়ারম্যানের লোক হিসেবে পরিচিত আনিসার, শাহিন, তোজাম্মেলসহ বিভিন্নজন এর সাথে জড়িত। এদের সহযোগিতায় টোংরাদহ থেকে পাউবোর মজুদকৃত সরকারি বালু হরিলুট করে লাভবান হচ্ছেন কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা।

এদিকে রংপুর পাউবো সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর, ও বিছনা এবং চতরা ইউনিয়নের টোংরাদহ সহ বিভিন্ন স্থানে গত শুকনো মৌসুমে নদী খনন করে লাখ লাখ সিএফটি বালু নদীপাড়ে স্তুপ করে রাখে। ওই বালু টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি বা ইজারার জন্য প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

পাউবোর এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, করতোয়া নদী খননে ৭০ লাখ সিএফটি বৈধ বালু হয়েছে। প্রতি সিএফটি ৬ টাকা (বাস্তবে আরো বেশি) দরেও কেউ ইজারা মূল্যে টেন্ডার দাখিল করলে প্রায় ৪ কোটি টাকা হবে। ওই টাকা পুরোটাই সরকার পাবে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সরকার এই রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরকারি বালু হরিলুট করে লাভবান হচ্ছেন কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা


এদিকে বালু হরিলুট ও বালুর স্তুপ দখলে নেয়ার চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনপ্রতিনিধিদের কয়েকটি গ্রুপ বিভিন্ন সময়ে মারমুখি অবস্থানে ছিল। এতে করে উপজেলা প্রশাসন গত ৮ এপ্রিল বিছনা ও দক্ষিণ দুর্পাপুর গ্রামে নদীটির খননকৃত দেড় কিলোমিটার এলাকায় বালু উত্তোলন, খনন না করার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিছুদিন সেই নির্দেশনা মানা হলেও এখন আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু লুটেরা। অন্যদিকে চতরার টোংরা দহে প্রশাসনের নজর না থাকায় সেখানে উৎসবের আমেজেই সারি সারি গাড়িতে বালু হরিলুটে পকেট ভারি হচ্ছে প্রভাবশালীদের।

এ ব্যাপারে টুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, আমি বালু হরিলুট ও উত্তোলন বন্ধে চেষ্টা করেছিলাম। এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসন দায়সারা অভিযান চালিয়ে এখন নিরব ভূমিকায় আছে। তারা সবই জানে কিন্তু ব্যবস্থা নেয় না। এ কারণে যাদের প্রভাব আছে তারা বালু হরিলুট করেই চলেছে।

বালু হরিলুট বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল হোসেন। তিনি বলেন, বালু রক্ষায় এ্যাসিল্যান্ডকে ২ বার ভ্রাম্যমাণ আদালত করার জন্য পাঠিয়েছি। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান জানান, বিষয়টি অবগত করে একাধিকবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতা চেয়েছি। তারা চেষ্টাও করে যাচ্ছেন।

%d bloggers like this: