ইইউবিতে ‘করোনা পরবর্তী ক্যারিয়ার চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক,

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ‘ইইউবি’ ‘করোনা-পরবর্তী ক্যারিয়ার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। আলোচনায় করোনায় চাকরি হারানো ও কর্মক্ষেত্রে করণীয় কি বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার রাশিদা স্বরলিপি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইইউবির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডাইরেক্টর, ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. ফারজানা আলম বলেন, আমরা এমন একটা সময়ে আছি- যারা চাকরি ক্ষেত্রে আছেন তাদের অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন। কারণ নিউ নরমাল জীবনে চাকরির বাজার ছোট হয়ে আসছে। যারা নতুন চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন তাদের জন্য সামনের দিনগুলো আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু ক্যারিয়ার চ্যালেঞ্জ সব সময় ছিল।

আমি যতদূর জানি যে, ক্লাস সেভেন থেকে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বা ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং কোর্স শুরু হয়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টও ঠিক এ কাজটি করে। আজকের আলোচনায় যারা অংশ নিচ্ছেন তারা প্রত্যেকে যে যার জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের সঠিক পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার উদ্দেশ্যে এ আয়োজন।

আলোচনায় ফুয়াং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার কাজী রাফি বলেন, কর্মক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বের বাস্তব চিত্র। দেশে আমাদের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা যখন ১০জন প্রার্থী চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছি অন্ততপক্ষে এক হাজার প্রার্থী আসছেন। এর বড় কারণ ফ্যাক্টরি-ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ভেঙে পড়েছে।

জাতীয়ভাবে এ সংকট মোকাবিলা করার জন্য আমাদের নিজস্ব যেসব রিসোর্স আছে, সেসব জায়গায় বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। সরকারের সঙ্গে ব্যক্তি উদ্যোক্তা যারা আছেন তাদের এসব খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। অনেকের হাতে টাকা আছে কিন্তু তাদের চিন্তা হচ্ছে এ টাকা নিয়ে দেশের বাইরে চলে যেতে হবে, এ মেন্টালিটি থেকে আমাদের বের হতে হবে। তার সঙ্গে উদ্যোক্তাবান্ধব আইন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে সরকারকে। যেসব তরুণ চাকরি খুঁজতে আসেন ইন্টারভিউ বোর্ডে যখন তাদের মুখোমুখি হই সত্যিকার অর্থে যোগ্য কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। দেখা যায় কাজ রিলেটেড দশটি প্রশ্ন করা হলে সে কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে না। তার মানে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় একটা গ্যাপ রয়ে গেছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করার সময় এসেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ জার্নালের ভারপ্রাপ্ত নিউজ এডিটর জুবায়ের আহমেদ নবীন বলেন, কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন হলেও নিজের সঙ্গে থাকে জ্ঞান বা নলেজ। প্রাকটিক্যাল এবং থিওরিটিক্যাল নলেজের মধ্যে অনেক বড় একটি গ্যাপ আছে। প্রাকটিস করতে করতে মানুষ অভিজ্ঞ হয়, আর যে পড়াশোনা করে আসে সে কর্মক্ষেত্রে এসে প্রাকটিক্যাল নলেজ অর্জন করে। দুটোর সংমিশ্রণ যখন ঘটে তখন একজন মানুষ তার কাজের জন্য পারফেক্ট হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়। পুরোপুরি পারফেক্ট হওয়ার জন্য এ নলেজ বা জ্ঞানের সঙ্গে ভালোবাসার সংমিশ্রণ ঘটানো জরুরি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইইউবির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সিনিয়র লেকচারার মুশফিকা বিনতে কামাল বলেন, করোনা-পরবর্তী পৃথিবীতে আমরা টেকনিক্যালি অনেক বেশি আপডেটেড, যেটা আগে ছিলাম না। ট্রেডিশনালি যে শিক্ষাব্যবস্থা ছিল সেখান থেকে আমাদের নতুন দিকে যাত্রা শুরু হয়েছে। ক্লাস পদ্ধতি এখন ডিজিটাল, এতে শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ভার্চুয়াল ট্রেনিংয়েও সহজে যুক্ত হতে পারছে। শিক্ষার্থীদের এ সুযোগ গ্রহণ করা উচিত।

ইইউবির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কোর্স কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র লেকচারার খন্দকার রাহাত মোর্শেদ বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন অনলাইনে ফ্রি-অব কস্টে অনেক ট্রেনিং অফার করছে, আমার মনে হয় শিক্ষার্থীদের এসব ভার্চুয়াল ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করা উচিত। এ কোর্সগুলো তাদেরকে জব ফিল্ডে নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে সহায়তা দেবে। তবে মনে রাখতে হবে, এখন জব মার্কেটে অনেক বেশি প্রয়োজন কমিউনিকেশন স্কিল এবং প্রেজেনটেশন স্কিল। এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বিকল্প নেই।

তেজগাঁও কলেজের ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের প্রধান প্রফেসর ইসরাত আলী বলেন, অনলাইনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে এটা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সবার জন্যই নতুন অভিজ্ঞতা। এর জন্য ডিজিটাল ডিভাইস উভয়েরই দরকার হচ্ছে। এ সময়ে একজন শিক্ষক বা একজন শিক্ষার্থীর কাছে ডিজিটাল ডিভাইস না থাকা মানে পুরো সিস্টেম থেকে ঝরে পড়া। সঙ্গে ইন্টারনেটের সংযোগ তো থাকতে হবেই। শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ থাকে গ্রামে। তাদের জন্য ইন্টারনেট সুনিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে না। এ জন্য সরকারকে আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে রাশিদা স্বরলিপি বলেন, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মাননীয় ভিসির উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ওয়ালটনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে ডিজিটাল ডিভাইস সরবরাহ সহজ করা হয়েছে।

এছাড়া চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ছাত্রছাত্রীরা যাতে টিকে থাকতে পারে সেজন্য টিউশন ফির ‍ওপর ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়েছে। এজন্য ভর্তি ফি কমানো হয়েছে ৩০ শতাংশ। ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা আমাদের সবার। আজকের আলোচনা থেকে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য, ‘ভার্চুয়াল গোলটেবিল আলোচনায় টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছেন রুবেল শেখ ও ইমরান নাজির।

%d bloggers like this: