আড়াইশ কোম্পানির শেয়ার ক্রেতাশূন্য

0

ব্রিটিশ অ্যামেরিকান ট্যোবাকোর শেয়ার বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় শেয়ারের মধ্যে অন্যতম। শক্ত মৌলভিত্তির এ শেয়ারটি বৃহস্পতিবার ছিল ক্রেতাশূন্য।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে দেখা গেল, দিনের সর্বনিম্ন দরে বিক্রির জন্য ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৪টি শেয়ার বসানো রয়েছে। কিন্তু কোনো ক্রেতা নেই।

সারাদিনে কোম্পানিটির ২ হাজার ৪৮৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে সর্বনিম্ন দরে অর্থাৎ ৯০৭ টাকা ৬০ পয়সা করে।

এদিন ব্যাংক ও আর্থিকখাত, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, ওষুধ, প্রকৌশলসহ প্রায় সব খাতেই একই চিত্র দেখা গেছে বহু শক্ত মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে। বিক্রেতারা বসে আছে, ক্রেতা নেই।

ডিএসইর ওয়েবসাইটের তথ্যে, দেশের প্রধান এই পুঁজিবাজারের বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ৩১১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। এরমধ্যে দর বেড়েছে ১১টির, কমেছে ৩৬টির এবং ২৬২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

যে ২৬২টি শেয়ারের দর আগের দিনের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে, সেগুলোর প্রায় সবই ছিল ক্রেতাশূন্য।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন অবস্থা আগে কখনও দেখা যায়নি, এমনকি ২০১০ সালের বড় ধ্সের সময়েও।

শক্ত মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারেরও ক্রেতাশূন্য হওয়ার পেছনে মহামারীর আতঙ্ক এবং ‘কৃত্রিমভাবে’ শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বেঁধে দেওয়াকেই দায়ী করছেন তারা।

এইমস অব বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ইয়াওয়ার সায়ীদ বিডিনিউজ টোযেন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুরকম প্রভাব হতে পারে। এইরকম একটা সময়ে (মহামারী) শেয়ার কেনাটা প্রায়োরিটি লিস্টে কমই আছে। যার টাকার দরকার সে হয়ত বিক্রি করে কিছু টাকা তুলে নিতে চাইবে।

“এখন নতুন করে বিনিয়োগ করি, সেরকম মানসিকতা বোধহয় এখন মানুষের নাই। থাকার কথাও না, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া অবধি।”

আরেকটি প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, “বাজার খুলেছে। কিন্তু বাজারে একটা মূল্য সীমা দিয়ে রাখা হয়েছে যে, এর কমে কেনা-বেচা করা যাবে না। শেয়ার মূল্যে একটা কৃত্রিম ব্যারিয়ার দেয়া রয়েছে।

“এটা তো হতে পারে না। সে ওই দামে কিনতে রাজি না। সেজন্য মানুষে যাচ্ছে না।”

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্ক আর টানা দরপতনের পর গত ১৯ মার্চ সার্কিট ব্রেকারের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়।

তাতে বলা হয়, ১৯ মার্চের আগের পাঁচ দিন প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের ক্লোজিং প্রাইসের গড় হবে ওই কোম্পানির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস। পাঁচদিনের গড় দামের নিচে কোনো শেয়ার লেনদেন হবে না।

যেমন ব্রিটিশ অ্যামেরিকান ট্যোবাকোর প্রতিটি শেয়ারের দর ৯০৭ টাকা ৬০ পয়সার নিচে নামতে পারবে না। একারণেই বিক্রির জন্য অনেকে অপেক্ষা করলেও ক্রেতা নেই বললেই চলে।

দুই মাস বন্ধ থাকার পরে প্রথম লেনদেনে রোববার সূচক বেড়েছিল দেশের দুই পুঁজিবাজারে। পরের চারদিনই কমেছে সূচক। এসময় বিক্রির চাপও বেড়ে যায়।

%d bloggers like this: