আমারে বাচাও,আমার দমডা খালি বন্ধ অইয়া আয়ে

0

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। 

সাত বছরের শিশু হাওয়া আক্তার ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়ে আছে গত ২৫ দিন ধরে। সেখানের একটি বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। শরীরের প্রায় ৫০ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় দিন দিন তার শরীরের অবস্থার অবনতি হচ্ছে। প্রায় নিস্তেজ অবস্থায় থেকেও মাঝেমধ্যে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে মা-বাবাকে বলে, ‘আমারে বাঁচাও, আমার দমডা খালি বন্ধ অইয়া আয়ে’।

মঙ্গলবার শিশুটির রিকশা চালক বাবা মঞ্জু মিয়া মেয়ের এ ধরনের আকুতির কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে দেশের বিত্তবান ব্যক্তিদের সহায়তা কামনা করেন।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই শিশুটি হচ্ছে নান্দাইল উপজেলার মুশলী ইউনিয়নের উত্তর মুশলী গ্রামের মো. মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। রঞ্জু মিয়া একজন রিকশাচালক। গৃহপরিচারিকা স্ত্রী ও তাঁর আয়ে চলে ছয় সদস্যের সংসার। রঞ্জু জানান, গত প্রায় ২৬ দিন আগে এক সকালে তার মেয়ে হাওয়া বাড়ির পেছনে এক জায়গায় অন্য শিশুদের নিয়ে চড়ুইভাতি খেলছিল। এ সময় একটি চুলায় আগুন ধরিয়ে রান্নার সময় হঠাৎ চুলার আগুন ধরে তার জামায়। এ সময় ‘আগুন’ ‘আগুন’ করে দৌড়ে চলে যায় পাশের জঙ্গলে। সেখানে লোকলজ্জা আগুন ধরা পরনের প্যান্ট খোলার চেষ্টাকালে আগুন ধরে যায় শরীরের বিভিন্ন অংশে। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। সেখান থেকে পরদিন দ্রুত তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটি। সেখানে ৮০১ নম্বর রুমে ২৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা যায়, প্রতিদিন শিশুটির প্রয়োজন হচ্ছে ও পজেটিভ ২ ব্যাগ রক্ত ছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ। যা যোগাড় করা রিকশাচালক বাবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না। এ অবস্থায় দিনদিন শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটছে। দুর্বল হয়ে যাচ্ছে শরীর। ভালোভাবে কথাও বলতে পারছে না।

চিকিৎসক বলছে, শিশুটির উন্নতি হতে হলে প্রয়োজনমতো ওষুধ ছাড়াও ভালো খাবারের প্রয়োজন। শিশুটির বাবা মঞ্জু মিয়া বলেন, আমার ছেড়িডারে কিবায় বাচাইয়াম, অতো টেহা পাইয়াম কই? চোখের সামনে এইবায় মরার আগে আমার মরন অনেক ভালা’।

শিশুটিকে সাহায্য ও চিকিৎসায় সহযোগিতা জন্য যোগাযোগ করুন
০১৭১৮০৭৭৫৮৮ (বিকাশ), ০১৯২৩৫৬৯২৪০ (নগদ)। 

%d bloggers like this: