আমাকে খলনায়ক বানানোর চেষ্টা হয়েছে: জোকোভিচ

0

ক্রীড়া ডেস্ক,

তাঁর আয়োজিত বিতর্কিত টেনিস প্রতিযোগিতা নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন নোভাক জোকোভিচ। এবং পাল্টা তোপ দেগে বললেন, তাঁকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে খলনায়ক বানানোর চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি জানিয়ে দিয়েছেন, ৩১ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে খেলবেন কিনা এখনও ঠিক করেননি।

‘যেসব সমালোচনা আমাকে নিয়ে করা হয়েছে, তা অত্যন্ত কদর্য,’ সার্বিয়ার একটি সংবাদপত্রকে বলেছেন নোভাক। যোগ করেছেন, ‘সেগুলো শুধুই সমালোচনা, বলা যাবে না। অনেকটাই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে আক্রমণ করা হয়েছে। একটা বড় নামকে যেন টেনে নামাতে হবে, এমনই অভিসন্ধি ছিল। যেনতেন প্রকারেণ তাকে বিদ্ধ করতেই হবে, এটাই ছিল লক্ষ্য।’

সার্বিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ায় জোকোভিচের আয়োজিত ‘আদ্রিয়া টুর টেনিস’ প্রতিযোগিতা নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয় কারণ, সেখানে অংশ নেওয়া একাধিক খেলোয়াড় এবং ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে থাকেন। সস্ত্রীক জোকোভিচ স্বয়ংও আক্রান্ত হন।

অনেকেই বিশ্বের এক নম্বর টেনিস খেলোয়াড়কে এর জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে থাকেন। একাধিক ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যায়, প্রতিযোগিতা চলাকালীন, করোনা-বিধিকে তুচ্ছ করে খেলোয়াড়েরা আলিঙ্গন করছেন, শারীরিক দূরত্ববিধি মানছেন না। এমনকি, নৈশ পার্টিও করেন তাঁরা।

জোকোভিচ কিন্তু সকলকে মনে করিয়ে দিতে চান, ‘আমার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না। মহামারীর কারণে খেলা বন্ধ ছিল। বলকান এলাকায় সমস্যায় থাকা খেলোয়াড়, টেনিস সংস্থাদের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক উদ্দেশ্য নিয়ে একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চেয়েছিলাম।’

তাঁর আরও দাবি, ‘আমরা সবরকম নিয়মকানুন মেনেই চলার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু একটা বড় শিক্ষা পেয়েছি। কতগুলো জিনিস নিশ্চয়ই অন্যভাবে করা যেত।’

তবে সার্বিয়ার বেলগ্রেডে ১৩ ও ১৪ জুন প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে করোনা-বিধি একেবারেই মানা হয়নি। সারা বিশ্বে যেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ পর্যন্ত দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হচ্ছে, সেখানে বেলগ্রেডে খেলা দেখতে হাজির ছিলেন চার হাজার দর্শক। ক্রোয়েশিয়ার জাদারেও প্রায় সমসংখ্যক দর্শক হয়েছিল। ক্রোয়েশিয়া সরকার ঘোষণা করে, দর্শকদের দু’মিটার ব্যবধান রাখার দূরত্ব-বিধি মানতে হবে।

কিন্তু জোকোভিচ এবং রাশিয়ার আন্দ্রে রুবলেভের মধ্যে ফাইনাল বাতিল করে দিতে হয় গ্রিগর দিমিত্রভের করোনা ধরা পড়ায়। মন্টেনেগ্রো এবং বসনিয়ায় পরের দু’টি পর্বও বাতিল করে দিতে হয় এবং ক্রীড়া বিশ্বে বিতর্কের ঝড় ওঠে জোকোভিচ এবং তাঁর আয়োজিত প্রতিযোগিতা নিয়ে।

%d bloggers like this: