ঢাকা ৩১.৯৯°সে ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মিশরের আল- আজহারে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের ৫০টি শিক্ষা বৃত্তির অনুমোদন

বিশ্বখ্যাত আল- আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ও মিসরের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আল-ইমামুল আকবার, শাইখুল আজহার, আহমাদ আত-তায়্যিব ও মিসরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম গত ৩ই জুন ২০২১ (রোজ বৃহস্পতিবার) পূর্ব নির্ধারিত সময় দুপুর ১২.৩০ মিনিটে এক বৈঠকে মিলিত হন ।

দুজনের এই রুদ্ধদার বৈঠকে আলোচনা শেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, আলোচনা সফল হয়েছে। আল- আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের অধ্যয়ন সংক্রান্ত নানাবিধ সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছি। বর্তমানে প্রতি বছর বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আল- আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০টি শিক্ষা বৃত্তি থেকে বৃদ্ধি করে ৫০টিতে উন্নেতি প্রধানের অনুরোধ করলে, শাইখুল আজহার তা অনুমোদন করেন ও এই বছর বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিশেষ কোঠা থেকে অতিরিক্ত আরো ৩৩টি বৃত্তি দিয়ে আগামী বছর থেকে প্রতি বছর ৫০টি বৃত্তির কার্যকর হবে বলে জানান।

রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, আল- আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসন সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানিয়ে বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীকে চির স্মরণীয় রাখতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি ছাত্রাবাস নির্মাণের কথা বললে, আল-ইমামুল আকবার নীতিগত অনুমোদনে রাজি হন। যা কায়রোর কেন্দ্রস্থল আল- আজহারের ক্যাম্পাসের নিজস্ব জমিতে বাংলাদেশ সরকারের শুধু নির্মান খরচ বহন করতে হবে।

স্নাতক সমাপন করে মাস্টার্সে থিসিস প্রবেশে দীর্ঘ সময় ব্যয়ের কথা আলোচনা করলে ডঃ আহমাদ আত-তায়্যিব এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। বাংলা ভাষা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বাংলা ভাষা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার আবেদন করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন ও আল- আজহারের মধ্যম পন্থী আদর্শকে বাংলাদেশময় ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশে আল-আজহার ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন মিসরের এই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।

রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, করোনা মহামারি চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ঈমাম প্রশিক্ষণ, ইসলামী স্কলার ও শিক্ষা বিভাগ থেকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি সফর বিনিময়ের কথাও আলোচনা হয়েছে। আলাপচারিতার একপর্যায়ে রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলাম শায়খুল আজহারকে বাংলাদেশে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন তিনি তা গ্রহন করেন ও করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, শায়খুল আজহার বাঙ্গালী জাতির প্রতি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্হান স্পষ্ট করে বলেছেন, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বাঙ্গালী জাতিকে সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে মূল্যায়ন করে।

আল- আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশী ছাত্রদের মেধা, মনন বিকাশ ও সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ইসলামের সঠিক দাওয়াত প্রচারের জন্য নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্বদেশে ফিরে গিয়ে ইসলামের মধ্যমপন্থি চিন্তাকে প্রচার ও প্রসার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বললেন, আজহার ইসলামের উদার আদর্শকে প্রচার করে, ভ্রান্ত চিন্তা-দর্শনকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে, সমস্ত ধর্মে স্বীকৃত শান্তির বাণী প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে আল–আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ হাজার ১৫৫টি শ্রেণিকক্ষে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষক পাঠদান করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাঠগ্রহণ করেন ৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের ২০ শতাংশ বিদেশি। বর্তমানে ১০২টি দেশের শিক্ষার্থী আল–আজহারে লেখাপড়া করছেন।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


x