‘আতিয়া মহলে’ নিহত চার জঙ্গির একজন মুসা

0

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে যে চার জঙ্গি নিহত হয়েছে তাদের মধ্যে একজন মুসা বলে ধারণা করছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা, যিনি জেএমবির শীর্ষ নেতা ছিলেন বলে জানিয়েছে তারা।

কাউন্টার টেরোরিজমের কর্মকর্তারা জানান, যে ছবি দিয়ে মুসা বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন, সেই ছবির সঙ্গে পুলিশের কাছে থাকা ছবির মিল পেয়েছেন তারা। এজন্য নিহতদের মধ্যে মুসাও রয়েছেন বলে ধারণা তাদের।

গত জুলাই থেকে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ। এদের মধ্যে সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপতায় নেতৃত্বদানকারী হিসেবে চিহ্নিত তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, নুরুল ইসলাম মারজান, হলি আর্টিজানে হামলাকারীদের প্রশিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামও রয়েছেন। তবে জঙ্গিরা একজন নেতার মৃত্যুর পর অন্য একজনকে নেতৃত্বে বসায় জানিয়ে পুলিশ বলছে, শীর্ষ জঙ্গিদের ধরতেও তাদের অভিযান চলছে।

adv-05

গত ডিসেম্বরে ঢাকার আশকোনায় একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি নেতা মুসাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। মুসাই এখন জঙ্গি তৎপরতার নেতৃত্বে থাকাদের একজন বলে জানিয়েছিল বাহিনীটি।

গত শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ সুরমার আতিয়া মহলের নিচতলায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। অভিযান চালানো বিপজ্জনক হওয়ায় পরে তলব করা হয় পুলিশের বিশেষ ইউনিট সোয়াট ও সেনা কমান্ডো দলকে।

শনিবার সকালে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলেও জঙ্গিদের পরাভূত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারা ভেতর থেকে বোমা ও গ্রেনেড ছুঁড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।

পরদিন রবিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছিলেন, সিলেটের যে জঙ্গি আস্তানাটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে সেখানে বড় কোনো জঙ্গি নেতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই প্রশ্নের জবাব পেতে অভিযান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

সেনাবাহিনীর অভিযান মুসা ছাড়াও আরও চার জঙ্গি নিহত হয়। তাদের মধ্যে একজন নারীও আছেন। তবে তাদের নামপরিচয় এখনো জানা যায়নি।

%d bloggers like this: