আজ ২৫ বৈশাখঃ কবিগুরুর জন্মদিন

0

বারী সুমন:

আজ পঁচিশে বৈশাখ। বাংলাদেশের জাতীয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ (বঙ্গাব্দ) এই দিনে, পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ও মাতা সারদা সুন্দরী দেবীর কোল জোড়ে পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের জন্য প্রথমে তাঁকে ভর্তি করা হয় ক্যালকাটা ট্রেনিং একাডেমিতে। তারপর অল্প সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন প্রতিষ্ঠানেই পড়ালেখায় আগ্রহী হতে পারেন নি, মনোযোগী ছাত্র হিসেবে শিক্ষকদের প্রশংসা তিনি কখনোই পান নি। অ্যাকাডেমিক শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেন নি, কিন্তু সারা জীবন ধরেই প্রচুর পড়ালেখা করেছেন।

১৮৮৩ সালে মাত্র বাইশ বছর বয়সে যশোরের মেয়ে ভবতারিণীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিয়ে হয়। কোলকাতার ঠাকুর পরিবারে এসে ভবতারিণীর নতুন নাম হলো মৃণালিনী।

১৮৯০ সালে পিতার নির্দেশে জমিদারি দেখাশোনার জন্য তিনি স্থায়ীভাবে শিলাইদহে চলে আসেন।

ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদচারণা পরেনি। তিনি কবিতা, সঙ্গীত, ছোটগল্প, নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহীনি লিখেছেন। আমাদের জাতীয় সংগীতও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুশো পঞ্চাশেরও বেশি বই লিখেছেন, লিখেছেন বহু গান, মনের খেয়ালে এঁকেছেন অনেক ছবিও। রবিঠাকুরের উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে হলোঃ কাব্যগ্রন্থ-“সোনারতরী”, “বলাকা”, “গীতাঞ্জলি”, “চিত্রা” ইত্যাদি।
উপন্যাসের মধে রয়েছেঃ “গোরা”, “ঘরে বাইরে”। এছাড়াও নাটক, এবং বহু শিশুতোষ কবিতা লিখেছেন।

১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে “গীতাঞ্জলি’র” জন্য এশীয়দের মধ্যে প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতায় এই মহান কবি ৮০ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন।

%d bloggers like this: