আজ ঈশ্বরগঞ্জের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, গবেষক আবু ফাতেমা মুহাম্মদ ইসহাকের এর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী

0

ইশতিয়াক আহমেদ ইসহাক, ঈশ্বরগঞ্জ(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ

আবু ফাতেমা মুহাম্মদ ইসহাক পঞ্চাশের দশকের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আজ উপেক্ষিত এক বিস্মৃত নাম। অথচ মননশীলতার ক্ষেত্রে সাহিত্যে তার অবদান কিছুতেই খাটো করে দেখার মতো নয়। ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ সারা দেশে তাঁর সুনাম ও খ্যাতি বিস্তৃত। একান্ত নিভৃতচারী, ঐতিহ্যসচেতন ও আদর্শনিষ্ঠ এই জ্ঞানসাধক ও সাহিত্যসেবকের লেখালেখি বা রচনার পরিমাণও একেবারে কম নয়। আমাদের বিবেচনায় বাংলাদেশের অন্যতম মননশীল গদ্যশিল্পী, সমালোচক, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও বহু গ্রন্থের প্রণেতা মরহুম আবু ফাতেমা মুহাম্মদ ইসহাকের বহু বিচিত্র বিষয়াভিসারী রচনাগুলো বাংলা সাহিত্যের সম্পদ হিসেবে মর্যাদা পাওয়ার ন্যায্য দাবিদার। কিন্তু যোগ্য হাতের কলমে তার সৃষ্টিকর্ম মূল্যায়নের অভাবে বাংলা সাহিত্যে তার অবস্থান বা স্থান নির্ধারণের বিষয়টি অপরীক্ষিতই রয়ে গেছে। ১৯৯২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাংলা সাহিত্যের নিভৃতচারী এই লেখক।

জ্ঞানতাপস আবু ফাতেমা মুহাম্মদ ইসহাক ১৯২৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের বড়ইবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৩৬১ বঙ্গাব্দে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় মুহাম্মদ ইসহাকের লেখা প্রথম প্রকাশিত হয়। পরিণত বয়সে তিনি দৈনিক আজাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক দেশ, দৈনিক পয়গাম, দৈনিক জাহান, আজকের বাংলাদেশ, আজকের স্মৃতি, দৈনিক ভূমণ্ডল প্রভৃতি জাতীয় ও আঞ্চলিক কাগজে লেখালেখি করেন। তেমনি মাসিক মোহাম্মদী, মাসিক আল-ইসলাহ, মাসিক জালালাবাদ, জাগরণ, শিখা, চিন্তা, মহুয়া, ঊষশী, শীষ, জনমত, কলতান, মাসিক মদীনা, নেদায়ে ইসলাম, সাপ্তাহিক জাহানে নও, মাসিক নওরোজ প্রভৃতি পত্রিকায় প্রায় নিয়মিত তার রচনা পত্রস্থ হয়। বাংলা সাহিত্যে মীর মশাররফ হোসেন, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, রিয়াজ উদ্দীন মাশহাদী, মৌলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, এয়াকুব আলী চৌধুরী, এস ওয়াজেদ আলী, সৈয়দ এমদাদ আলী, অধ্যক্ষ ইবরাহীম খাঁ, খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ প্রমুখ আদর্শনিষ্ঠ মননশীল লেখক যে-সাহিত্যধারা সৃষ্টি করেছিলেন, সেই ধারারই অন্যতম যোগ্য উত্তরসূরি আবু ফাতেমা মুহাম্মদ ইসহাক।

%d bloggers like this: