ঢাকা ২৭.৯৯°সে ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

স্বর্ণা ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আলোচিত স্বর্ণা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি ও জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে খালি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখার অভিযোগ উঠেছে। এজন্য বাদীর মামা উপজেলার চর আলগী গ্রামের হারেছ উদ্দিন বাদি হয়ে নিরাপত্তাহীনতার জন্য ময়মনসিংহ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত রেখে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- ২০৪/২১ তারিখ: ০৮-০৬-২০২১ইং। আসামিরা হলেন, ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, শামছুল আলম, নুর মোহাম্মদ, সানি ও রনি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৭ মে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ১৮নং চর আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বটগাছ তলা থেকে আসামি নূর মোহাম্মদ ও রনিসহ অজ্ঞাত ৩/৪জন কে নিয়ে স্বর্ণা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বাদী স্বপন ও তার ছেলে তরিকুলকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে উঠিয়ে ময়মনসিংহে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত স্বর্ণা ধর্ষণ-হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক স্বপনকে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি প্রদান করে বলেন যে, মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে ও তার ছেলেকে খুন করে লাশ বস্তায় ভরে গুম করে ফেলবে। তখন স্বপন মামলা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে, আসামীরা স্বপনের চোখ বেঁধে হাতপায়ে কাঠের রুল দিয়ে আঘাত করে। এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে এখান থেকে মুক্তি দিবে না বলে হুমকি প্রদান করতে থাকে। এমতাবস্থায় তরিকুল তার বাবার এ দূরাবস্থা দেখে আসামীদের পায়ে পরে প্রাণভিক্ষা চায়।

এসময় শফিক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কথামত মামলা প্রত্যাহারসহ যাবতীয় কাজ করলেই এখান থেকে মুক্তি পাবে। তখন স্বপন ও তার ছেলে উপায়ন্তর না দেখে তাদের শর্ত মেনে নেবে বলে স্বীকার করে। পরে শফিক চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার লোকজন একশত টাকার দশটি ষ্ট্যাম্প নিয়ে আসে। তন্মেধ্যে মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত মিথ্যা বানোয়াট লেখা প্রিন্ট করা ৪টি ষ্ট্যাম্পে স্বপন ও তার ছেলের স্বাক্ষর নেয় এবং মোবাইলে ছবি ধারণ করে রাখে। যা দিয়ে দুটি এফিডেভিট তৈরি করা হয়। বাকি ৬টি খালি ষ্ট্যাম্পে তাদের স্বাক্ষর রেখে এই বলে হুমকি প্রদান করে যে, যদি তারা অবাধ্য হয় তাহলে এই খালি ষ্ট্যাম্পে ইচ্ছেমত অংক বসিয়ে টাকা আদায় করবে।

পরে সন্ধ্যার দিকে আসামী নূর মোহাম্মদ তাদেরকে নিয়ে ময়মনসিংহ ব্রীজ মোড়ে আসে। তখন স্বপন ও তার ছেলে প্রস্রাবের বাহানায় সু-কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

মামলার বাদী হারিছ উদ্দিন জানান, স্বপন ও তার ছেলে প্রাণনাশের ভয়ে আত্মরক্ষার জন্য এখনো বিভিন্ন আত্মীয়র বাড়ীতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি তার মামা হিসাবে তার নিরাপত্তার জন্য এ মামলাটি করেছি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন করার জন্য ওসি ডিবি ময়মনসিংকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি ডিবি শাহ কামালে কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মামলার কোন কাগজ এখন পর্যন্ত আমার কাছে আসেনি। তবে পূর্বের মামলাটির লাশ উত্তোলনের প্রস্তুতি ও আসামী গ্রেফতার প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তরুনিকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করাতে গিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন তরুনির বাবা। এ মামলায় চেয়ারম্যানের বড় ভাইসহ মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ২৩ মে (রোববার) জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক মো. রাফিজুল ইসলামের কাছে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আবেদন করেন নিহতের পিতা স্বপন মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৫ জনকে আসামি করে ৩১ মে সোমবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


x