ঢাকা ২৯.৯৯°সে ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঈশ্বরগঞ্জের স্বর্ণা হত্যা মামলা আদালতের নির্দেশে থানায় নথিভুক্ত

কিশোরীকে ধর্ষণ ও অবৈধ গর্ভপাতে মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৫ জনকে আসামি করে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। যার নং ২৯ তারিখ ৩১/০৫/২১।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) আব্দুল কাদির মিয়া দুর্নীতি বার্তাকে বলেন, উল্লেখিত আসামীদের গ্রেফতারী অভিযান অব্যহত রয়েছে।

আসামিরা হলেন- উপজেলার ৯নং উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, তার বড় ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, নিহত মেয়ের মা আছমা, চেয়ারম্যানের বডিগার্ড দুলাল মিয়া ও মাহাবুবুল আলম।

এর আগে, গত ২৩ মে (রোববার) জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক মো. রাফিজুল ইসলামের কাছে মামলার আবেদন করেন নিহতের পিতা স্বপন মিয়া। পরদিন ২৪ মে (সোমবার) মামলাটি আমলে নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশকে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছিলেন ময়মনসিংহ জেলা ও জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাড. মকবুল হোসেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চরআলগী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি স্বপন মিয়া তার পরিবার পরিজন নিয়ে উচাখিলা বাজারে বসবাস করে আসছিল। তার বাসায় ইউপি চেয়ারম্যান শফিক যাতায়াত করতো। তাকে বাসায় না আসার জন্যে নিষেধ করায় চেয়ারম্যানের পরামর্শে স্বপনকে তালাক দিয়ে আসমা ও তিন কন্যা সন্তান নিয়ে বাজারের সীডস্টোর ভবনে বসবাস শুরু করে। সীডস্টোরের বাসায় চেয়ারম্যান নিয়মিত যাতায়াত অব্যহত রাখে।

এ সুযোগে স্বপনের স্ত্রী আসমার মৌন সম্মতিক্রমে দ্বিতীয় কন্যা স্বর্ণা (১৬) কে বিবাহ করার মিথ্যা প্রলোভনে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে কিশোরী স্বর্ণা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এতে আসামিরা বিপাকে পড়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই কিশোরীকে কবিরাজী ঔষধ সেবন করায়। এতে অন্তঃসত্ত্বা স্বর্ণার ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হলে গত ৯ মে কিশোরীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তার তাকে ঢাকায় রেফার করে।

কিন্তু আসামিরা স্বর্ণাকে ঢাকায় না নিয়ে বাড়ী নিয়ে আসে। পরদিন তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে ১১মে ভিকটিমকে ঢাকায় ন্যাশনাল নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২মে রাত ২টার দিকে স্বর্ণা মারা যায়।

লাশ ঢাকা থেকে এনে এলাকায় দাফন কাফন না করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ভিকটিমের বাড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে উপজেলার ইসলামপুর জামিয়া গাফুরিয়া মাদ্রাসার কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে আইনজীবী মকবুল হোসেন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান শফিক ভিকটিমকে তাঁর মায়ের মৌন সম্মতিতে মিথ্যা বিবাহের প্রলোভনে টানা ধর্ষণে করলে এক পর্যায়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এতে আসামিরা বিপাকে পড়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই কিশোরীকে কবিরাজী ঔষধ সেবন করায়। এতে ভিকটিমের ব্যাপক রক্তক্ষরণ হলে গত ৯ মে কিশোরীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। কিন্তু আসামিরা ভিকটিমকে ঢাকায় না নিয়ে বাড়ীতে গোপন করে রাখলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকলে গত ১১ মে ভিকটিমকে ঢাকায় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে গত ১২ মে রাত ২টার দিকে কিশোরীর মৃত্যু হয়।

স্বর্ণা হত্যা মামলার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সরেজমিন উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিককে পাওয়া যায়নি। তবে মামলায় তালিকাভূক্ত আসামী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জুর ছেলে ও চেয়ারম্যানের ভাতিজা নায়েব এ জাহান মণি প্রতিবেদককে জানান, মেয়েটি ব্রেইন স্ট্রোকে মারা গেছে, অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

স্বর্ণা হত্যা মামলাঃ

ঈশ্বরগঞ্জে ধর্ষণ ও অবৈধ গর্ভপাতে মৃত্যু, প্রধান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর