ঢাকা ২৭.৯৯°সে ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বদলগাছীতে পটলের বাম্পার ফলন দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা

প্রতিনিধি বদলগাছী (নওগাঁ):

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা সবজি চাষের বিখ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত । এ উপজেলার অধিকাংশ জমিতে সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়ে থাকে। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পটলের ফলনও খুব ভাল হয়েছে।

আর দামও মোটামুটি ভাল।পটলের ভাল দাম পেয়ে খুশি পটল এলাকার পটল চাষীরা। বদলগাছী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর এই উপজেলায় ৩৪৫ হেক্টর জমিতে পটলের চাষাবাদ হয়েছে।
জানাযায়, বেশ কিছু দিন আগে থেকে বাজারে পটল উঠা শুরু হয় এবং বাজারে প্রথম থেকেই ভালো দাম পেতে শুরু করে এলাকার কৃষকরা। খরচের তুলনায় এবার পটল চাষীরা লাভ বেশি গুনছে। তাই বাজারে দাম ভাল থাকায় খুশি এলাকার পটল চাষীরা।

পটলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হাট-বাজারে এখন প্রচুর পরিমানে পটল উঠতে শুরু করেছে। এ উপজেলার সবজির সবচেয়ে বড় হাট বদলগাছী সদর হাট, কোলা হাট, ভান্ডারপুর হাট, গোবরচাপাহাট ও বালুভড়া হাট। এ হাটগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে আট ট্রাক পটল ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ হয়ে থাকে।
সরেজমিনে গত শনিবার ছিল বদলগাছী হাটে ও মাঠে গিয়ে দেখাযায়, ভোর থেকে চাষীরা পটল নিয়ে আসতে শুরু করেছে। প্রতিমন পটল ৮শত ৫০ থেকে ৮শত ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

তবে মাচায় থাকা পটলের গুনগত মান ভাল থাকায় চাষীরা দামও একটু বেশি পাচ্ছেন। ভাল দাম পেতে বৃষ্টির পানির হাত থেকে পটল ক্ষেত রক্ষা করতে চাষীরা একটু কষ্ট করে মাচা করে দিয়েছেন। মাচায় পটলের ফলন ভাল হয় এবং গুনগত মানও ভাল থাকে। এছাড়া অধিক ফলনের জন্য প্রতিদিন ভোওে কৃষকরা পুরুষ ফুল স্ত্রী ফুলে ঠেকিয়ে কৃত্তিম ভাবে পরাগায়ন ঘটানো হয়ে থাকে।
উপজেলার কাদিবাড়ী গ্রামের কৃষক ফজলু বলেন, তিনি এবছর ১০ কাঠা জমিতে পটলের আবাদ করেছেন। এবং প্রথম থেকে দামও ভালো পেয়েছেন। এখনও বাজারে দাম ভাল পাওয়া যাচ্ছে। পটলে তেমন রোগ বালাইও নাই এবছর। পটলের ফলনও ভালো হয়েছে। তিনি আরও বলেন গত দুই বছর থেকে বাজের পটলের দাম ভালো থাকায় এই উপজেলার কৃষকরা পটল চাষাবাদে বেশি ঝুকছেন তাই আগামী বছরও পটল চাষাবাদ এই উপজেলায় আরও বৃদ্ধি পাবে ।
উপজেলার বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী ছালাম বলেন, এখন পটলের মৌসুম। আমরা কয়েকজন মিলে এই কাঁচা মালের ব্যবসা করি। প্রতি হাটে প্রায় ২শত থেকে ৩ শত মন পটল কিনি। আর এ হাট থেকে ৫০ থেকে ৭০ টনের অধিক পটল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে তিনি ঢাকায় ব্যবসা করেন আর প্রতি কেজি পটল বিক্রয় করে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত লাভ করেন।
বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পটলের আবাদ খুব ভালো হয়েছে । ফলনও হয়েছে খুবই ভালো এবং পটল ক্ষেতে কোন প্রকার রোগ বালাই নেই বললেই চলে । অপরদিকে বজারে পটল এর দাম রয়েছে ভালো । আর এজন্য কৃষকরা অনেক খুশি। তিনি আরও বলেন এবছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ও ভালো দাম পাওয়ার কারনে কৃষকদের পটল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের পটল সহ সকল প্রকার সবজি চাষে কিটনাশক ব্যবহার না করার জন্যও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর