অবশেষে মুক্তাগাছার প্রসিদ্ধ মন্ডার মূল্য স্থিতিশীল হলো

0

এ এস এম সাদেকুল ইসলাম:

মুক্তাগাছা উপজেলা ভূমি সহকারী কমিশনার ( এসিল্যান্ড) উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানার উদ্যোগে প্রসিদ্ধ মণ্ডার মূল্য নির্ধারণ হলো চারশত সত্তুর টাকা সেই সাথে রাজস্ব খাতে ভ্যাট যুক্ত হয়ে
রাজস্ব খাতে বাড়তি আয়েরও সম্ভাবনা।

যুগ যুগ ধরে মুক্তাগাছার একমাত্র প্রসিদ্ধ মণ্ডার সুনাম মুক্তাগাছাকে সারা দেশে এমনকি বিদেশেও পরিচিতি দিয়ে আসছে। মণ্ডার প্রসিদ্ধতা, স্বাদ ও অভিন্নতা সারাদেশের মানুষকে মুক্তাগাছার দিকে বার বার আকৃষ্ট করেছে। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে মণ্ডার গুনগত মানের নিম্নমুখীতা এবং অসহনশীল দাম বৃদ্ধি মুক্তাগাছার মন্ডার প্রসিদ্ধতাকে ও জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে যা মুক্তাগাছার ঐতিহ্যবাহী মণ্ডার ভবিষ্যৎ কে হুমকির মুখে ফেলেদেয়, এবং করে তুলে মুক্তগাছা বাসীদের উদ্বিগ্ন ও অসন্তুষ্টি।

প্রায় ৩ মাস পর মুক্তাগাছা বাসীর দাবী ও ভার্চুয়াল আন্দোলনের মুখে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মন্ডার দাম নির্ধারণ হলো ৪৭০ টাকা এবং প্রতি কেজিতে ৭৩ টাকা সরকারি রাজস্ব খাতে যুক্ত হবে। মন্ডার বর্তমান মূল্য কেজিতে ৫৬০ টাকা নির্ধারন করা হয়। গ্রাহকদের সাশ্রয়ের পাশাপাশি উপজেলার সরকারি কোষাগারে বড় পরিমান একটা আর্থিক যোগান আসবে, যা আগে ছিলো সামান্যই। এবং সেই সাথে মণ্ডার মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মণ্ডা ব্যাবসায়ীদের কড়া নির্দেশনাও রয়েছে।

মণ্ডার দাম বাড়ার পর থেকে মুক্তাগাছা বাসীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করে আসছিলো। এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় মুক্তাগাছাবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ বিরাজ করে আসছিলো। সেই সাথে মণ্ডার দাম কমানো ও গুনগত মান উন্নত করতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোড় দাবী জানিয়ে আসছিলো মুক্তাগাছা হেল্প লাইন সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
সোস্যাল মিডিয়ায় মণ্ডার দাম কমানো ও মানোন্নয়নের আন্দোলনে সফল নেতৃত্বে অগ্রণী ভূমিকা আইটি এক্সপার্ট ( মুক্তাগাছা হেল্পলাইন) মোহাম্মদ সাজাদুল করিম। যার ফেইসবুক পেইজ মুক্তাগাছা হেল্পলাইন নামে পরিচিত।
মুক্তাগাছা বাসী তাদের ঐতিহ্য রক্ষায় সচেতন নাগরিকের ভুমিকা পালন করতে পেরেছে। এবং মুক্তাগাছার সচেতন নাগরিক মহল তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলে ও অধিকার আাদায়ে সক্ষম বলেও জানান।

সাজাদুল করিম বলেন দীর্ঘ তিনমাস ধরে মণ্ডার মুল্য সহনীয়তা ও গুনগত মান বজায় রাখার জন্য আমি কাজ করে আসছিলাম খুবই আত্নকেন্দ্রিক ভরসা ও মনোশক্তি কে কেন্দ্র করেই। পাশে পেয়েছি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা। কিন্তু দুঃক্ষজনক যে, এই ধরনের নাগরিক অধিকার তথা জনস্বার্থে যাদের এগিয়ে এসে দায়িত্বশীল আচরণ করা বা পাশে থেকে সহযোগিতা করা অবশ্যক ছিলো তাদের পক্ষ থেকে কোনপ্রকার যোগশীলতা পরিলক্ষিত হয়নি। বরং দায়িত্বশীলদের অনেকে হয়তো বিষয় টি আমলে নিতে চায়নি বা এটা তাদের সামর্থের বাইরে বা দায়িত্বের বাইরে বলে বিবেচনায় নিয়ে ছিলেন। স্বল্প ক’জন ছাড়া কারো কাছ থেকেই কোন প্রকার ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
আমরা সাধারণ জনগণ অধিকাংশরাই এর সমাধান আদৌ হবেনা বলে ধরেই নিয়েছিলাম। এটার কারণ হয়তো এখনো আমাদের জনসেবায় প্রশাসনের বা জনগণের সেবকদের প্রতি পূর্ণ আস্থা আসেনি।

কিন্তু মুক্তাগাছার ঐতিহ্য মণ্ডার বিষয়ে প্রশাসনের ইতিবাচক ভুমিকা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাশীলতা ও ভরশার জায়গা আরও ভিত্তিশীল করে তুলবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুক্তাগাছা মহোদয় এর দিকনির্দেশনা এবং বিশেষকরে মুক্তাগাছা উপজেলা এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা মহোদয়ের সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা এই কাজটিকে আরও সহজ করে দিয়েছে।
সেই সাথে মুক্তাগাছার ঐতিহ্য রক্ষায় মণ্ডার দামের স্থিতিশীলতা ও গুনগত মান বজায় রাখতে একটা দীর্ঘমেয়াদি নীতি বা পরিকল্পনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

আমি পরিশেষে একটি মেসেজ সকলকে দিতে চাই যে, আমাদের ক্রিটিসিজম এবং ব্যার্থ ধারণা গুলো দূরে রেখে শুরুটা করতে হবে এবং সকলের সম্মিলিত স্বতস্ফূর্ত সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা থাকলে এবং নাগরিক সমস্যা ও অধিকার সংবলিত বিষয় গুলো ও সমাধানের দাবী সমূহ সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে পারলে অন্ধকার ঘুঁচে আলো আসবেই ইনশাআল্লাহ।

মোঃ সাজাদুল করিম মুক্তাগাছা,উপজেলা প্রশাসনের প্রতি ,কৃতজ্ঞতাবশত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, এবং মুক্তাগাছার সার্বিক বিষয়ে নাগরিক অধিকার আদায়ে হেল্পলাইন মুক্তাগাছা, হেল্পলাইনের সকল সচেতন সদস্য ও পরিচালনা বৃন্দকে দৃঢ়তার সাথে পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

%d bloggers like this: