ঢাকা ২৮.৯৯°সে ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নীলফামারীতে মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ 

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রী মার্জিনা খাতুন (৪০) কে মারধর সহ নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মোনাব্বেরুল হক (৪৮) এর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত স্বামী উপজেলার উত্তর বড়ভিটা দলবাড়ী এলাকার মৃত কমর উদ্দিনের ছেলে। নির্যাতিত স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের বাবার বাড়ি জলঢাকা উপজেলার বড়ঘাট চেংমারী এলাকায়।

নির্যাতিত স্ত্রী মর্জিনা খাতুন হাসপাতালের বেটে শুইয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার স্বামী মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে বলে। এতে আমি রাজি না হলে আমাকে জবাই করবে বলে হুমকি দেয়। এ বিষয়ে আমাকে খুব মেরেছে নির্যাতন করেছে। এক কন্যা সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো? তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমি জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতেছি।

সরেজমিনে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত দুই মাস পূর্বে ওই এলাকার স্থানীয় একটি মসজিদে ইমাম রাখা, না রাখা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত ২৫ মে মোনাব্বেরুল হক বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে নীলফামারী জেলা বিজ্ঞ আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং ৪৫/২০২১। এই মামলায় বাদী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনা খাতুনকে ২নং স্বাক্ষী করেন।

এ মামলায় মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিভিন্ন ভাবে চাপ দেয় বাদী মোনাব্বেরুল হক। তার স্ত্রী মানুষকে ফাঁসাতে রাজি না হলে শুরু হয় তার উপর নির্যাতন। একপর্যায়ে মারার হুমকিও দেন । নির্যাতনের শিকার মর্জিনা খাতুন অসুস্থ হয়ে পরলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত ২১ মে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

মসজিদের মোয়াজ্জেম বলেন, মোনাব্বেরুল মিথ্যা মামলা করতেছে।

এছাড়াও স্থানীয় মুসল্লীদের অনেকে জানায়, মোনাব্বেরুল হক যে মামলাটি করেছে এটা মিথ্যা। আসামীদের ফাসাঁনোর জন্য বিভিন্নভাবে পায়তারা করতেছে। এখানে যে বিষয় নিয়ে বিরোধ সেটা হচ্ছে ইমামকে কেন্দ্র করে খড় শুখানো। মিথ্যা বিষয়ে মামলা দিয়েছে।

এ বিষয়ে বাদির শশুর বাবা বলেন,বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে। স্ত্রী নির্যাতনকারী মোনাব্বেরুল হক জানায়,শত্রুরা আমার স্ত্রীকে ভুলভাল বুঝিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

মামলা বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন,মামলাটির তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত শেষ হলে রিপোর্ট দেয়া হবে।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর