ঢাকা ২৮.৯৯°সে ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভেজাল ও বিষাক্ত আইসবারে সয়লাব গৌরীপুরের পাড়া-মহল্লা

জ্যৈষ্ঠর গরমে চলছে মানহীন অস্বাস্থ্যকর আইসবারে ব্যবসায়ীদের রাজত্ব। এখন ভেজাল ও বিষাক্ত আইসবারে সয়লাব ময়মনসিংহের গৌরীপুরের পাড়া-মহল্লা। আম, লিচু, লেবুসহ নানা ফলের স্বাদে ক্যামিকেল মিশ্রিত ৫ টাকার হাই স্পিড, রোবোর অবস্থান গৌরীপুরের প্রায় কনফেকশনারি দোকানসহ মুদি ও পানের দোকানে। বিশেষভাবে ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে স্কুল সম্মুখসহ গ্রামের দোকানগুলোতে।

প্রতিনিয়ত উপজেলার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আনাচে-কানাচে যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা আসইসক্রিম ফ্যাক্টরির লোকেরা পিকআপ ভ্যান ও ভ্যানগাড়ি করে বিভিন্ন এলাকায় সরবারহ করছে ফলের স্বাদে এসব ক্যামিকেল মিশ্রিত আইসবার। অতিমাত্রায় কম কমিশনে দেওয়ায় তিনগুণ লাভে এসব আইসবার ক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে সকল শ্রেণীর দোকানিরা। বিষাক্ত রসায়নিক, মেয়াদোত্তীর্ন ময়দা, নোংরা পানি, রং ও ছ্যাকারিন দিয়ে বানানো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক এসব আইসবার খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এসব আইসবার ক্রেতারা।

বিশেষ করে স্কুল পড়ূয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসব আইসবারে আকৃষ্ট। ওষ্ঠাগত গরমে দেহে একটু শান্তির পরশ যোগাতে কোন কোন সময় ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও অনায়াশে মুখে নিচ্ছে এসকল বিষাক্ত আইসবার। রাস্তার রং মিশ্রিত এসকল ভেজাল আইসবার খেয়ে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে কলেরা, ডায়েরিয়াসহ নানান রোগে। এরকম একটি আইসবার ফ্যাক্টরীর তথ্য আসে কাছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে উঠেছে এ ফ্যাক্টরীটি। আইসবারের নাম রুবো ড্রিংস ও হাই স্পিড। ২৪টা আইসবার দিয়ে একটি প্যাকেট করা হয়। যদিও প্যাকেটের গায়ে লিখা রয়েছে প্রস্তুতকারক জেলিট আইসবার ফ্যাক্টরী, ময়মনসিংহ, গোড়িপুর, গাজিপুর। অথচ প্রস্তুতকারী ফেক্টরীটি খুঁজে পাওয়া যায় গৌরীপুরের রামগোপালপুর ইউনিয়নের নোয়াঁগাও গ্রামে। বসত ঘড়ের ভিতরে মেশিন বসিয়ে দিনে রাতে এসব আইসবার প্রস্তুত করা হয়। এই ফেক্টরীটির নেই কোন অনুমোদন বা ছাড়পত্র। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সও নাই।

আইসবারের গায়ে লিখা আছে শ্রাবণী আইসক্রিম ফ্যাক্টরী, লালপুর, নাটর। অথচ উৎপাদন হচ্ছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। উৎপাদন উপকরণ লিখা রয়েছে পানি, চিনি, সাইট্রিক অ্যাসিড (ই-৩৩০), অ্যাস-করবিক অ্যাসিড (ই-৩৩০), ক্লাস-২ প্রিজারভেটিভ, পটাসিয়াম সরবেট (ই-২০২), সোডিয়াম ক্লোরিড (সল্ট), স্ট্যাভিলাইজার (ই-৪০৭), কনটেইল পারমিটেড ফুড কালারস (ই-১০২), (ই-১৩৩) এবং এডেড ফ্লেভার। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, নোংরা পানি, চিনি, বার্লী, ছ্যাকারিন ও লেভেলবিহীন ক্যামিকেল (যার নাম প্রস্তুতকারক নিজেও জানেনা) দিয়েই প্রস্তুত করা হচ্ছে এসব আইসবার। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও গড়ে ওঠা আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত আইসক্রিম।

 

ফ্যাক্টরীটির মালিক রাসেল মিয়া জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শকের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে আমি এই ফ্যাক্টরীটি চালাচ্ছি। তবে কাগজটি এখন আমার কাছে নেই। নবায়নের জন্য স্বাস্থ্য পরিদর্শকের কাছে টাকাসহ কাগজ জমা দিয়েছি। গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মুজিবর রহমান জানান, রাসেল নামক একজনের একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরী রয়েছে গাজিপুরে, যাকে কিছুদিন আগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিলো। কিন্তু তার যে অন্যত্রে আরো ফ্যাক্টরী রয়েছে তা আমাদের জানা নেই। গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসান মারুফ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে দেখা হবে প্রতিষ্ঠানটির আইনগত বৈধ্যতা রয়েছে কিনা, না থাকলে আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর