ঢাকা ২৯.৯৯°সে ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঈশ্বরগঞ্জে ধর্ষণ ও অবৈধ গর্ভপাতে মৃত্যু, প্রধান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও অবৈধ গর্ভপাতে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে এক ইউপি চেয়ারম্যান এবং আওয়ামীলীগ নেতাসহ ৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। এনিয়ে উপজেলা জুড়ে তোলপাঁড় সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৬ মে) দুপুরে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা ও জজ আদালতের আইনজীবী মকবুল হোসেন। তিনি জানান, গত ২৪ মে (মঙ্গলবার) জেলা নারী ও শিশু আদালতে নিহতের পিতা স্বপন বাদি হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গণ্য (এফআরআই) করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন-উপজেলার ৯ নম্বর উঁচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, তাঁর বড় ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, নিহত মেয়ের মা আছমা, চেয়ারম্যানের বডিগার্ড দুলাল মিয়া ও মাহাবুবুল আলম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চরআলগী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি স্বপন মিয়া তার পরিবার পরিজন নিয়ে উচাখিলা বাজারে বসবাস করে আসছিল। তার বাসায় ইউপি চেয়ারম্যান শফিক যাতায়াত করতো। তাকে বাসায় না আসার জন্যে নিষেধ করায় চেয়ারম্যানের পরামর্শে স্বপনকে তালাক দিয়ে আসমা ও তিন কন্যা সন্তান নিয়ে বাজারের সীডস্টোর ভবনে বসবাস শুরু করে। সীডস্টোরের বাসায় চেয়ারম্যান নিয়মিত যাতায়াত অব্যহত রাখে।

এ সুযোগে স্বপনের স্ত্রী আসমার মৌন সম্মতিক্রমে দ্বিতীয় কন্যা স্বর্ণা (১৬) কে বিবাহ করার মিথ্যা প্রলোভনে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে কিশোরী স্বর্ণা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এতে আসামিরা বিপাকে পড়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই কিশোরীকে কবিরাজী ঔষধ সেবন করায়। এতে অন্তঃসত্ত্বা স্বর্ণার ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হলে গত ৯ মে কিশোরীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তার তাকে ঢাকায় রেফার করে।

কিন্তু আসামিরা স্বর্ণাকে ঢাকায় না নিয়ে বাড়ী নিয়ে আসে। পরদিন তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে ১১মে ভিকটিমকে ঢাকায় ন্যাশনাল নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২মে রাত ২টার দিকে স্বর্ণা মারা যায়।

লাশ ঢাকা থেকে এনে এলাকায় দাফন কাফন না করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ভিকটিমের বাড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে উপজেলার ইসলামপুর জামিয়া গাফুরিয়া মাদ্রাসার কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে আইনজীবী মকবুল হোসেন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান শফিক ভিকটিমকে তাঁর মায়ের মৌন সম্মতিতে মিথ্যা বিবাহের প্রলোভনে টানা ধর্ষণে করলে এক পর্যায়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এতে আসামিরা বিপাকে পড়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই কিশোরীকে কবিরাজী ঔষধ সেবন করায়। এতে ভিকটিমের ব্যাপক রক্তক্ষরণ হলে গত ৯ মে কিশোরীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। কিন্তু আসামিরা ভিকটিমকে ঢাকায় না নিয়ে বাড়ীতে গোপন করে রাখলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকলে গত ১১ মে ভিকটিমকে ঢাকায় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে গত ১২ মে রাত ২টার দিকে কিশোরীর মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, মেয়েটি ব্রেইন স্ট্রোকে মারা গেছে। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর