ঢাকা ২৯.৯৯°সে ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বেদে পেশার আড়ালে ইয়াবার কারবার

ভাসমান বেদে দলের ছদ্মবেশ ধারণ করে নদীপথে ঢাকায় এসে ইয়াবা পাচার করত একটি চক্র। চক্রটি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে তারা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইজিবাইক, সিএনজি ও টেম্পো ব্যবহার করে পথ পাড়ি দিত।

দ্বিতীয় ধাপে তারা সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মুন্সিগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করত। মানুষের সন্দেহ দূর করতে পথের মাঝে বিভিন্ন মনিহারি দ্রব্য যেমন-চুড়ি, কড়ি, চুল বাঁধার ফিতা, শিশুদের কোমরের ঘণ্টা, চেইন, সেইফটিপিন, বাতের ব্যথার রাবার রিং বিক্রি করত।


এ সময়ে তাদের সঙ্গে থাকা রান্না করার টিনের চুলার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে আনা ইয়াবার কথা স্বীকার করে এবং রান্না করার চুলার নিচের অংশ কেটে তার ভেতর থেকে মোট ৭৭ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে। এ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গ্রেফতার চক্রের সদস্যরা হলেন- মো. তারিকুল ইসলাম (২৩), মো. সিনবাদ (২৩), মো. মিম মিয়া (২২), মো. ইমন (১৯) ও মো. মনির (২৮)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ছদ্মবেশ ধারণের সরঞ্জামাদি, রান্নার হাড়ি-পাতিল, বালতি, বহনযোগ্য ডিসপ্লে র‌্যাক এবং নানান ধরনের ইমিটেশন অলঙ্কার উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (৫ মে) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার।

তিনি বলেন, গ্রেফতারদের পূর্বপুরুষরা বেদে সম্প্রদায়ের লোক ছিল। বর্তমানে বেদে সম্প্রদায়ের আয় রোজগার কমে যাওয়ায় গ্রেফতাররা কক্সবাজার সীমান্ত থেকে ইয়াবা এনে ঢাকায় সরবরাহ করত।

লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার বলেন, র‌্যাব-২ এর একটি দল র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, একদল মাদককারবারি মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে নদীপথে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজ এলাকায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে আসছে। এ প্রেক্ষিতে র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল গতকাল মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদপুরের বসিলা মধ্যপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সেখান থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

তিনি আরও বলেন, ভাসমান বেদে দলের ছদ্মবেশ ধারণ করে তারা মাদক পাচার করত। এ সময়ে তারা সঙ্গে থাকা বহনযোগ্য রান্না করার টিনের চুলার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে আনা ইয়াবার কথা স্বীকার করে এবং রান্না করার চুলার নিচের অংশ কেটে তার ভেতর থেকে মোট ৭৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক (সিও) বলেন, কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা ও সমুদ্রপথে বাংলাদেশে আসা ইয়াবা ট্যাবলেট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল তারা। তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অভিনব কায়দা হিসেবে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক বহন করে নিয়ে আসত। তারা মাদকের চালান কক্সবাজার এলাকা থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কখনই মহাসড়ক ব্যবহার করত না।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে তারা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইজিবাইক, সিএনজি ও টেম্পো ব্যবহার করে পথ পাড়ি দিত। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রাম সিটি গেটসহ বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট এড়াতে প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হাটহাজারী-মানিকছড়ি-গুইমারা-রামগড় হয়ে ফেনী আসতো।

সেখান থেকে তারা নোয়াখালীর চৌমুহনী-সোনাইমুড়ী এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে মতলব লঞ্চঘাট পর্যন্ত আসত। দ্বিতীয় ধাপে তারা সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মুন্সিগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করত। এতে তাদের চার-পাঁচদিন অথবা কোনো কোনো সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেত বলে জানায়।

এই দীর্ঘ সময় তারা বেদেদের মতাই জীবন-যাপন করত ও সাধারণ মানুষের সন্দেহ দূর করতে পথের মাঝে বিভিন্ন মনিহারি দ্রব্য যেমন-চুড়ি, কড়ি, চুল বাঁধার ফিতা, শিশুদের কোমরে বাঁধার ঘণ্টা, চেইন, সেইফটিপিন, বাতের ব্যথার রাবার রিং বিক্রি করত। মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের কৌশলের মুখোমুখি ইতোপূর্বে কখনও হয়নি এবং তারা যে রুট ব্যবহার করছে তাও একেবারে নতুন বলা চলে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ছদ্মবেশ ধারণের সরঞ্জামাদি, রান্নার হাড়ি-পাতিল, বালতি, বহনযোগ্য ডিসপ্লে র‌্যাক এবং বিভিন্ন ধরনের ইমিটেশন অলঙ্কার উদ্ধার করা হয়।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর