ঢাকা ৩০°সে ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম :
বৃষ্টি সন্ধ্যা ঈশ্বরগঞ্জবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মাহমুদ হাসান সুমন ঈশ্বরগঞ্জবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে এমপি ফখরুল ইমাম এর ঈদ শুভেচ্ছা প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহম্মেদ এমপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেল দুস্ত পরিবার ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে চতুর্থ দফায় ডাঃ প্রিন্স সেনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত পবিত্র ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সিলেটে ভারতফেরত করোনা আক্রান্ত নারীর মৃত্যু জগন্নাথপুরে হামলায় আহত ব্যক্তি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বান্দরবানে প্রধানমন্ত্রী’র ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করলেন পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং করোনাকালে ঈদুল ফিতরের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের করনীয়

১৫ মাসে যৌন নিপীড়নের শিকার ৬২ ছেলে শিশু, মৃত্যু ৩

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। আজ যারা শিশু, কাল তারাই বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে। আজ যারা বিখ্যাত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, একদিন তারাও শিশু ছিলেন। তাই শিশুদের নিয়ে তাদের রয়েছে নানা ভাবনা। কিন্তু সারাদেশে বিভিন্ন মাদরাসায় বহু ছেলেশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। আর এর জন্য দায়ী হচ্ছেন কখনো খোদ মাদরাসা শিক্ষক তথা মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যানে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মাসে মাদ্রাসায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে অন্তত ৬২ শিশু। যাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছে।

শিক্ষার শেকড়ের স্বাদ তেঁতো হলেও এর ফল মিষ্টি। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর আদর্শ নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে শিশুটি। গত ১ এপ্রিল হঠাৎ বাড়ি চলে আসে। তার শরীরে তখন অনেক জ্বর। ওষুধ খাইয়ে কিছুটা সুস্থ করে তোলার পর তাকে মাদ্রাসায় যেতে বলা হয়। কিন্তু কিছুতেই সে যেতে রাজি হয় না। গত বুধবার জোর করে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে সে মাদ্রাসার গেটে দাঁড়িয়ে শিক্ষক ইয়াকুব আলীকে গালাগাল শুরু করে। এরপর দৌড়ে চলে যায় থানার সামনে। সেখানে মাকে বলে, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবে সে। তখন বেরিয়ে আসে তার ওপর হওয়া পাশবিক নির্যাতনের কথা। ওই শিক্ষক একাধিকবার তাকে বলাৎকার করে তা গোপন রাখতে হুমকি দিয়েছেন বলেও জানায় সে।

এরকম ঘটনা শুধু একটি নয়, দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় বহু ছেলেশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। অভিযোগ কখনও শিক্ষক, কখনও সিনিয়র ছাত্র বা মাদ্রাসাসংশ্নিষ্ট কারও বিরুদ্ধে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর মাদ্রাসায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে অন্তত ৫২ শিশু। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছে। এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে আরও ১০ শিশু।

সংশ্নিষ্টরা জানান, মাদ্রাসাগুলোয় দিনের পর দিন ছেলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চললেও তা বন্ধে এখনও তেমন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বিপথগামী কিছু শিক্ষক ও মাদ্রাসাসংশ্নিষ্টরা এটাকে অপরাধ বলেই গণ্য করেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে ধর্মের নানা অপব্যাখ্যা দেন জড়িতরা। আবার ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করে রেখে তা ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে শিশুদের জিম্মি করার ঘটনাও রয়েছে। গত ৭ এপ্রিল সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বাজারগ্রামের কফিল উদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি এক শিশুর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। গ্রেফতারের পর তার মোবাইল ফোনে আরও কয়েক শিশুর সঙ্গে একই অপকর্মের ভিডিও পাওয়া যায়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইয়াছিন আলম চৌধুরী জানান, বলাৎকারের দৃশ্য তিনি মোবাইল ফোনে ধারণ করে ওই শিশুদের ভয় দেখিয়ে আবারও বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন।

মাদ্রাসা বোর্ডকে শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে :মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, এমন ঘটনা অনেক হচ্ছে, তবে তা জানা যাচ্ছে কম। যখন কেউ মারা যায় বা নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে তখনই কেবল তা প্রকাশ্যে আসে। মাদ্রাসা বোর্ডকে এ ব্যাপারে শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে। কেন এসব ঘটছে তা খুঁজে বের করতে হবে। জড়িতদের যথাযথ শাস্তি দিতে হবে।

তিনি বলেন, সেখানে এমন কোনো কমিটিও নেই যেখানে নির্যাতনের শিকার শিশুরা কথা বলতে পারবে। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দরিদ্র শিশুরা মাদ্রাসায় পড়ে বলে তাদের নানা অজুহাতে দমিয়ে রাখাও সহজ হয়।

আইনে অস্পষ্টতা :সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছেলেশিশুদের বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে শিশু আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু। তাই ধর্ষণের শিকার শিশু ছেলে হোক বা মেয়ে- উভয়ের ক্ষেত্রে ওই আইনে বিচার করা যাবে। ১৮ বছরের বেশি বয়সী ছেলেদের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা প্রযোজ্য হবে। সেখানে এই অপরাধকে ‘অস্বাভাবিক যৌনাচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে যাবজ্জীবন সাজার বিধান রয়েছে। তবে দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় দেওয়া ধর্ষণের সংজ্ঞায় শুধু নারীর কথা বলা হয়েছে। তাই এটি সংশোধন করে নারী ও পুরুষ উভয়ের উল্লেখ করা দরকার।

উল্লেখ্য, ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী ওয়ালিউর রহমান দোলন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছেলেশিশুদের ধর্ষণ বা বলাৎকারের কথাটি উল্লেখ নেই। এটি অবশ্যই থাকা দরকার। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকার কারণে বলাৎকারের ঘটনায় মামলা খুব কম হয়।




আপনার মতামত লিখুন :



অপরাধ এর সর্বশেষ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর