ঢাকা ৩১°সে ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে জাল টাকা তৈরি ও সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাল টাকা তৈরির কাজে জড়িতরা কয়েক ভাগে বিভক্ত। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ অর্ডার অনুযায়ী জাল নোট তৈরি করে, অপর গ্রুপ টাকার বান্ডিল পৌঁছে দেয়, আরেক গ্রুপ এসব টাকা বাজারে ছড়িয়ে দেয়। এই চক্রটি প্যাকেট আকারে সুনির্দিষ্ট কিছু লোককে সরবরাহের জন্য বিপুল পরিমাণ জালনোট তৈরি এবং বাজারে সরবরাহ করে আসছিল।

র‌্যাব-১ এর বিশেষ অভিযানে রাজধানীর আশুলিয়া থেকে জাল টাকা ব্যবসায়ী চক্রের দুজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মিজানুর রহমান ও রেজাউল ইসলাম। বিকালে র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ মুশফিকুর রহমান তুষার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

রবিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা আশুলিয়া থানার ভাদাইল গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে এক লাখ ৪৪ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট, পাঁচটি মোবাইলফোন, একটি কি-বোর্ড, দুটি টোনার, একটি ল্যাপটপ, একটি লেমিনেটিং মেশিন, একটি প্রিন্টার, ১০টি স্ক্যানার বোর্ড, দুটি থাই বোর্ড, ৮৫০ গ্রাম টু পার্ট পেপার জল ছাপ, তিন বোয়ম সোনালী রং, পাঁচটি অ্যান্টি কাটার, একটি হিট লাইট, পাঁচটি হিট লাইট বাল্ব, পাঁচটি রাবার, দুটি অ্যান্টি কাটার ব্লেড, দুটি ক্লাম, ছয়টি স্কেল, দুটি ফয়েল পেপার, একটি হাতুড়ি, তিনটি লিকুইড রং, তিনটি গাম, দুই কেজি পেইন্ট, দুই কৌটা হলুদ রং, পাঁচটি সেনসিটিজার, দুটি ব্যাগ, চারটি থাইগ্লাস, ২২ কেজি টাকা বানানোর কাগজ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানিয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জালনোট তৈরি করে আসছিল। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে জালনোট তৈরি করে।

গ্রেপ্তারকৃত মো. মিজানুর রহমান ২০১২ সালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এর আগেও তিনি মাদক মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর জেল খাটেন। পরে তিন মাস আগে বেরিয়ে তিনি অধিক লাভের লোভে জাল টাকা তৈরি চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। আর গ্রেপ্তারকৃত মো. রেজাউল ইসলাম এই অবৈধ জাল টাকা তৈরিতে সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।




আপনার মতামত লিখুন :