ঢাকা ৩০°সে ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সংসারে রাজি না হওয়ায় স্ত্রী-শ্যালিকাকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল একাধিক পরকীয়ার। এটা নিয়ে পারিবারিক কলহের মধ্যে বিয়ে বিচ্ছেদের নোটিশ পাঠান স্ত্রী। দুই সন্তান থাকায় স্বামী চাচ্ছিলেন নোটিশ প্রত্যাহার করে সংসারটি পুনরায় জোড়া লাগাতে। এতে সম্মত হননি স্ত্রী। মাঝখানে এসে শ্যালিকা গালিগালাজও করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েই স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারকে কুপিয়ে এবং শ্যালিকা শিমু আক্তারকে গলাটিপে হত্যা করেন রিকশাচালক রনি মিয়া।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পূর্ব নাখালপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই ঘাতক রনি মিয়াকে আটক করেছে। নিহত দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

আটক রনি মিয়ার বরাত দিয়ে পুলিশ ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছে, প্রায় ১৪ বছর আগে ইয়াসমিনের সঙ্গে রনির বিয়ে হয়। তাদের সংসাদে আদুরি নামের ১৩ বছরের এবং রোকসানা নামে চার বছরের দুই মেয়ে রয়েছে। ইয়াসমিন ও শিমু নাখালাপাড়া এলাকায় থাকতেন। দুই বোন সেখানে একটি পোশাকের কারখানায় কাজ করতেন।

রনি পুলিশকে জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরে ইয়াসমিন একাধিক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এতে চার মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

শনিবার দুপুরে রনি ইয়াসমিনের বাসায় এসে তাকে বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ প্রত্যাহার করে দুটি মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সংসারটি আবারো করার জন্য অনুরোধ করেন। এ সময় শিমু তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তখন রনি উত্তেজিত হয়ে শিমুকে গলাটিপে ধরেন। এতে তার মৃত্যু হয়। ইয়াসমিন বাধা দিতে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন রনি।

নিহত ইয়াসমিন আক্তার ও শিমু আক্তার নরসিংদীর রায়পুরা থানার বাগাইখান্দি গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে। এক ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে ইয়াসমিন সবার বড় এবং শিমু চতুর্থ।

ইয়াসমিনের চাচা সায়েদ আলী ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছেন, রনি পেশায় একজন রিকশা চালক। তিনি জুয়া খেলতেন এবং নেশাও করতেন। ফলে তাদের সংসারে অশান্তি ছিল। বেশকিছু দিন আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তবে কী কারণে রনি এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আকলিমা আক্তার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা নিহত ইয়াসমিনের পরিবারকে খবর দিয়েছি। তারা গ্রাম থেকে ঢাকার পথে রয়েছে। তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’




আপনার মতামত লিখুন :