ঢাকা ৩১°সে ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দুই বন্ধুর ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় ছিল আরেক বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক :

তিন বন্ধু মিলে বেড়াতে যান দোহারের মৈনট ঘাটে। সেখানে গিয়েই ছিনতাইয়ের শিকার হন তারা। খোয়া যায় তাদের নগদ টাকা আর মোবাইলফোন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ওই ছিনতাইয়ের শিকার হন তিন বন্ধু জয়, সেলিম ও মামুন।

ছিনাতাইয়ের শিকার হওয়ার পর তারা অজ্ঞাতদের আসামি করে দোহার থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তারও করে।

ঘটনার দুমাস পর মামলাটির তদন্তভার নেয় ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। উদঘাটন হয় তিন বন্ধুর একজন জয়ের পরিকল্পনাতে সেদিনকার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল।

ক্লুলেস এই মামলার সহস্য উম্মোচন করে পিবিআই জয়সহ ছিনতাইয়ে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার আদালতে তারা ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

শনিবার পিবিআই ঢাকা জেলা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক সালেহ ইমরান ঢাকা টাইমসকে বলেন, দোহারের মৈনট ঘাটে বেড়াতে যাওয়ার নাম করে বন্ধু সেলিম এবং মামুনের সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে গ্রেপ্তারকৃত জয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জয়ের বন্ধু আলিফকে দায়িত্ব দেয় জয়। আলিফ তার অপর দুই বন্ধু রনি এবং সাগরকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশা নিয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে মৈনট ঘাটে অপেক্ষা করতে থাকে।

ইমরান আরো জানান, সেদিন রাত অনুমান ১০টার দিকে সেলিম, মামুন ও জয় মৈনট ঘাটে প্রবেশ করলে জয়ের ইশারায় চাকু দেখিয়ে প্রথমে জয়ের কাছ থেকে মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয় আলিফ। পরে মামুনের কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেয় রনি এবং সাগর।

জয়ের নিখুঁত অভিনয় এবং পরিকল্পনাতেই এই ছিনতাই হয়েছে বিষয়টা জানার পর তার বন্ধুরা বিস্ময় প্রকাশ করেছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জানা গেছে, ছিনতাইয়ের ঘটনার পর দোহার থানায় মামলা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুজনকে আটক করলেও ছিনতাইয়ের রহস্য এবং অপর সহযোগীদের বিষয়টা অধরাই থেকে যায়।

পরে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ মামলাটির তন্দন্তের দায়িত্ব দেন সালেহ ইমরানকে। তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে কেরানীগঞ্জের জিয়া নগর ও কালিন্দী এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে জয়, আলিফ ও দেলোয়ার নামের তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরে আসামিরা শুক্রবার আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন :