ঢাকা ২৭.৯৯°সে ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নড়াইলের পারবিঞ্চুপুর দুই পক্ষের সংঘর্ষ গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচ গ্রামের মানুষ গ্রেপ্তার আতঙ্কে

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকেঃ
নড়াইলের পারবিঞ্চুপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। এরপর পারবিঞ্চুপুরসহ আশপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছে। অধিকাংশ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

বিস্তারিত আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্য ও ছবির ভিত্তিতে জানা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশীদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা মিহির মোল­ার দ্বন্দ্ব রয়েছে। পূর্ববিরোধের জের ধরে গত ২ ডিসেম্বর পারবিঞ্চুপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গ্রামটির ১৪-১৫টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় সুজাত মোল­া (৩০), আনিমুল মোল­া (৪০), বনি মোল­া ৯৩২), সনি মোল­া (২৮), রেবেকা খাতুন (৪৫) গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ৩ ডিসেম্বর নড়াইলে ‘কালিয়ায় পারবিঞ্চুপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পাঁচজন গুলিবিদ্ধ, ভাঙচুর’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় গত বুধবার মিহির মোল­ার সমর্থক পারবিঞ্চুপুর গ্রামের হাশিম মোল­া আদালতে মামলা করেন। এতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুনার রশীদসহ ৪৯ জনের নাম উলে­খ করা হয়েছে। মিহির মোল­া বলেন, ‘হারুন ও তার দলবল আমার বাড়িসহ অনেকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
তারা স্বর্ণালংকারসহ গরু, ছাগল, হাস-মুরগি নিয়ে যায়।’ তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে হারুনার রশিদ বলেন, ‘মিহির মোল­াই খুলনা থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনেছিলেন। তাঁরা গ্রামে প্রবেশ করে ফাঁকা গুলি ছুড়লে গ্রামবাসী তাঁদের প্রতিহত করেন। এ সময় পাঁচ-ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। বাড়ি ভাঙচুর বা লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’এদিকে, এ ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছে পারবিঞ্চুপুরসহ নোয়াগ্রাম, দেওয়াডাঙ্গা, ভোমবাগ, ও বুড়িখালী গ্রামের বাসিন্দারা।

হাশিম মোল­ার স্ত্রী সীমা বেগম বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। মামলা করার পরও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। বরং পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। পাকা ধান জমিতে নষ্ট হচ্ছে। এলাকার অনেক পরিবারেরই একই অবস্থা।’ পুরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর হারুন শেখ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছেন। আসামিরা পুলিশের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পাঁচ গ্রামের বেশির ভাগ পুরুষ মানুষ এলাকাছাড়া।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর