ঢাকা ২৮.৯৯°সে ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পুলিশ কনস্টেবলের প্রতারণার শিকার গৌরীপুরের কলেজ ছাত্রী খাদিজা (পর্ব ১)

ক্রাইম রিপোর্টার:

চুরে না শুনে ধর্মের কাহিনী!!!

প্রেম করে বিয়ে, দুই মাস যেতে না যেতেই নির্যাতন সহ তালাকের হুমকি শুরু। করেন দ্বিতীয় বিয়েও। দিচ্ছেনা ভরনপোষন, এমন অভিযোগ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের পানাটী এলাকায় পুলিশ কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। যার কং নং ৫৪৩৯ এফপিবিএন হেড কোয়ার্টার্স উত্তরা, ঢাকা।

স্বামীর অমানুসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্ত্রী খাদিজা আক্তার পুলিশ হেড কোয়ার্টারে মৌখিক অভিযোগ এবং ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যাহার নং নারী ও শিশু সহায়তা সেল স্মারক নং ৫৩। অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে ও স্বেচ্ছায় তালাক দেয়ার জন্য জাহাঙ্গীর, তার বড় ভাই সাদ্দাম এবং ছোট ভাই পুলিশ কনস্টেবল আরিফ, খাদিজাকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে চলেছে অনবরত।

লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, ছাত্র জীবনেই পরিচয় হয় খাদিজার সাথে। পরিচয় থেকে প্রেম এবং দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দুজন আবদ্ধ হয় বিবাহ বন্ধনে। ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে খাদিজাকে বিয়ে করে জাহাঙ্গীর। ময়মনসিংহ শহরে ভাড়া বাসায় উঠে তারা বসবাস শুরু করে। বিয়ের একমাস ভালোই কাটছিলো, এর পর থেকে খাদিজার সাথে শুরু হয় জাহাঙ্গীরের দূর্ব্যবহার। দুই আড়াই মাস পরে হঠাৎ খাদিজাকে না জানিয়েই নিজ পরিবারকে খুশি করতে আবারো বিয়ে করেন জাহাঙ্গীর।

দ্বিতীয় বিয়ে করার পর জাহাঙ্গীরের চলা ফেরায় আচার-আচরণে সন্দেহ হয় খাদিজার। গোপনে খবর নিয়ে জানতে পারে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই নিয়ে তখন থেকে দু’জনের বিরোধ দেখা দেয়। দ্বিতীয় বিয়ের কারণ জানতে চাইলে বিরোধ আরো বেড়ে যায় এবং এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর খাদিজার খোঁজ খবর নেয়া বন্ধ করে দেয়। খাদিজা জানান, এর পর থেকে শুধু জাহাঙ্গীর নয়, তার ভ্রাতাদ্বয়সহ পরিবারের সকল সদস্য নানানভাবে তাকে হুমকি দিয়ে চলছে। বর্তমানে খাদিজা আইনী বিচারের আশায় পুলিশ প্রসাশনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, স্ত্রী খাদিজা দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করিলে কনস্টেবল জাহাঙ্গীর স্বজোরে খাদিজার পেটে লাথি মারিলে সঙ্গাহীন হয়ে মাটিতে লুটে পরে যায় খাদিজা। খাদিজার খালা শামিমা আক্তার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুততম সময়ে অপারেশন করার পরামর্শ দিলে খালার সহযোগিতায় খাদিজা আক্তারের অপারেশনের কাজ সম্পন্ন হয়। এখনো পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারেনি খাদিজা।

এ বিষয়ে কনস্টেবল জাহাঙ্গীরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করিলে সম্পুর্ন ঘটনা এড়িয়ে যায় সে। ব্যার্থ হয়ে বড় ভাই সাদ্দামের সাথে তার মুঠোফোনে (০১৯৩৭-৫৭৫৮৮৭) যোগাযোগ করিলে প্রতিবেদককে হুমকি স্বরূপ কথাবলে।

বিস্তারিত আরো তথ্য নিয়ে আসছি আগামী পর্বে………………




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর