ঢাকা ২৭°সে ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম :
ফুলপুরে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ছাত্রদলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল সিলেট নগরীর আখালিয়া থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার হেলডস্ ওপেন স্কাউট গ্রুপ ও কৃষি ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগ এতিমদের মাঝে ঈদের পোশাক বিতরণ ফুলপুরে মানবাধিকার কমিশনের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত  ত্রিশালে সাংবাদিক এনামুল ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিজ উদ্যোগে কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তার হাত বাড়ালেন ডাঃ প্রিন্স সেন রাশিয়া থেকে আসবে এক কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দ্বিতীয় ধাপে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ময়মনসিংহে র‌্যাবের অভিযানে নকল স্বর্ণের বারসহ আটক-১ ঈশ্বরগঞ্জে ২৪ কেজি গাঁজাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪

অবশেষে ধর্ষিত অন্তঃসত্ত্বা কিশোরি নিয়ে মুখ খুললেন কিশোরির মাতা

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
অবশেষে হালুয়াঘাটে ধর্ষিত আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধি কিশোরিকে নিয়ে মুখ খুলেছেন কিশোরির আসল মাতা মিনারা খাতুন। তিনি ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত রামনগর কন্যাপাড়া গ্রামের মৃত আজমত আলীর পুত্র মাহাবুর (৩৫) ও হোসেন আলীর পুত্র আছর উদ্দিন জড়িত বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, গত রোযার মাসের পূর্ব থেকে প্রায় ২ বছরেরও অধিক সময় ধরে ধর্ষিতা কিশোরি তার মায়ের বাপের বাড়ি হালুয়াঘাটের উত্তর রামনগর কন্যাপাড়া গ্রামে থাকতেন। তখন কিশোরি মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলো।

এদিক ওদিক ছোঁটাছুটি করে বের হয়ে যেতো। মাহবুর সেই সুযোগে মাঝে মাঝে রাতের আধারে মেয়েকে ধরে এনে তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে যেতেন। দীর্ঘ সময় ধরেই বিভিন্ন কৌশলে মাহবুর তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেন। একই সাথে সুর মিলিয়েছেন কিশোরির নানা বৃদ্ধা আইজ উদ্দিন। তিনি ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তিরও দাবী করেন। কিশোরির মাতা মিনারা ও নানা আইজ উদ্দিন জানান, গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাতে প্রতিবন্ধি কিশোরি ও তার পিতা মিরাজ উদ্দিনকে হাঁসের মাংস ও রুটি খাওয়াবে বলে ডেকে নিয়ে যান প্রতিবেশি আছর উদ্দিন। সেখানে সেদিনও কিশোরির পিতাকে জিম্মি করে ধর্ষণ করেছেন বলে তারা জানান। পরেরদিন ঘটনাটি জানাজানি হলে কিশোরির পিতাকে কিছু টাকা দিয়ে তা ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে কিশোরির পিতা মিরাজ উদ্দিন ১ হাজার টাকা মাহবুরের কাছ থেকে পেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। টাকা দিয়ে বলেছিলেন যেন রাতের ঘটনা কাউকে তিনি না বলেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাহবুরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি দু’একবার রাতে প্রতিবন্ধি কিশোরিকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে তার নানার বাড়িতে পৌছি দিয়েছেন বলে স্বীকার করলেও ধর্ষণের কথা অস্বীকার করেন। তার সাথে আছর উদ্দিনও অস্বীকার করেন।
এদিকে অন্তঃসত্ত্বা ঘটনার প্রকাশের প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও মামলা হয়নি থানায়। সুত্রে জানা যায়। কিশোরি প্রায় দেড়মাস যাবৎ হালুয়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুধু তাই নয়, কিশোরিকে কে বা কারা হাসপাতালে ভর্তি করেছে এমন তথ্য নিয়েও ধুম্রজাল সৃষী হয়েছে। কিশোরির পিতা বলেন, উপজেলার মাইজপাড়া গ্রামের বারেক নামে এক ব্যাক্তি কিশোরির পিতাকে সাথে নিয়ে মেয়েকে ভর্তি করিয়েছেন। পরে বারেককে জিজ্ঞেস করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এছাড়া হাসপাতালের ভর্তি রেজিষ্টারে কিশোরির আজিজুল হক নামে এক স্বামীর নাম লিখানো হয়েছে। বারেকই এই স্বামীর নাম লিখিয়েছেন বলে মেয়েটির পিতা মিরাজ উদ্দিন জানান।
পাশাপাশি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সুত্রে জানা যায়, কিশোরিটি এখন ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। কিশোরির সাথে কথা বললে তিনি এক এক সময় এক এক ধরনের কথা বলেন। সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেননি ঐ কিশোরি। জানতে চাইলে কখনো চুপ করে থাকেন আবার কখনো হাঁসতে থাকেন। তবে তাকে গত রমজান মাসে ধর্ষণ করেছে বলে সাংবাদিকদের জানান। বর্তমানে তার পেটে বাচ্চা রয়েছে বলে ঐ কিশোরি দাবী করেন। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত সেবিকাও বাচ্চার বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, অভিযোগকারী না থাকায় মামলা নিতে পারছেন না। অভিযোগ পেলে অবশ্যই মামলা দায়ের হবে বলে নিশ্চিৎ করেছেন। তবে বিষয়টি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করছেন বলে জানান।




আপনার মতামত লিখুন :



অপরাধ এর সর্বশেষ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর