Durnitibarta.com
ঢাকামঙ্গলবার , ১৫ নভেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভিজিডি কর্মসুচি: ঈশ্বরগঞ্জের ২১ মাসে ৪ হাজার বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগ

প্রতিবেদক
বার্তা বিভাগ
নভেম্বর ১৫, ২০২২ ১:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের রাজিবপুর ইউনিয়নে ভিজিডি কর্মসুচির দুইশত কার্ডের ২১ মাসে প্রায় চার হাজার দুইশত বস্তা (১২৬ টন) চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভোক্তভোগী চার নারী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়, বিগত ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর ৩১৬ জনের নামে ভিজিডি কার্ড (মাসে ৩০ কেজি চাল) অনুমোদন হয়। তাদের মধ্যে দুইশত ভোক্তভোগী কার্ড না পাওয়ায় চাল পায়নি। পরে বিষয়টি সন্দেহ হলে খোঁজখবর নিয়ে তারা জানতে পারে ২১ মাস ধরে দুইশত ভোক্তভোগীর চাল কে বা কাহারা জাল সাক্ষর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি চেয়ারম্যান আব্দুল আলী ফকিরকে জানালে তিনি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভোক্তভোগীদের হুমকি দেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে ভোক্তভোগীদের সাথে কথা বললে ভোক্তভোগী রোকেয়া বেগম বলেন, আমার নামে ভিজিডির কার্ড হয়েছে আমি নিজে জানি না। কিছুদিন আগে কার্ড হওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ২২ মাস যাবৎ আমার সাক্ষর জাল করে চাল কে বা কাহারা তুলে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পরে বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানালে কদিন আগে তিনি আমাকে ৩০ কেজি চালের একটি বস্তা দিয়েছেন।
আরেক ভোক্তভোগী মজিতা খাতুন বলেন, আনুমানিক দুই বছর আগে মেম্বার আমার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র ও ছবি নেয়। কিন্তু পরে আমাকে কিছু জানায়নি। কিছুদিন আগে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড করতে গেলে জানতে পারি আমার নামে ভিজিডি কার্ড আছে। পরে চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করলেও কোন লাভ হয়নি।

সাবেক চেয়ারম্যান মোতাব্বিরুল ইসলামের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে তিনি বলেন, আমার জানামতে আমার সময় কোন অনিয়ম হয়নি। কিভাবে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই।

এবিষয়ে রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আলী ফকির জানান, অভিযোগের কথাটা পরস্পর শুনছি কিন্তু ইউএনও সাহেব আমাকে কিছু বলে নাই। প্রকল্পটা আগের চেয়াম্যানের আমলের, আমিতো মাত্র কয়েকমাস পেয়েছি। তখনেই হয়তো একজনের কার্ড আরেক জনে নিয়েছে, কিছু কার্ড বেচা কেনা হইছে, কার্ড তো ঠিক আছে অনিয়ম হইছে বিতরণে।

ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার প্রানেশ চন্দ্র মিত্র বলেন, যতগুলি কার্ড আছে ততগুলি চাল দিয়েছি। আমি উপস্থিত থেকে কার্ড ধারীর হাতে চাল বুঝিয়ে দিয়েছি। যে চাল নিচ্ছে সে প্রকৃত মালিক কিনা তা তো আমি জানিনা। চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ সচিব স্বাক্ষর করে তাদের কার্ড দিয়েছে। তারাই বলতে পাবে প্রকৃত মালিক কে।

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ্জহুরা বলেন, আমি অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানিনা। যদি অভিযোগ আসে তাহলে ইউএনও সাহেব আছেন উনি হলেন সভাপতি উনার সাথে পরামর্শ করে তদন্ত পুর্বক ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজা জেসমিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।