loading...

ঝালকাঠিতে দুবাই প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নে একদল সন্ত্রাসী দুবাই প্রবাসীর নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন ভবনে ব্যাপক তান্ডব ও ভাংচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার বেশাইন খান গ্রামে এঘটনা ঘটে।

মটোরসাইকেলের বহর নিয়ে ছাত্রলীগ নামধারীদের এ হামলায় কেউ হতাহত না হলেও এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঝালকাঠি একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে টের পেয়ে দ্রুতো হামলাকারীরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের ফেলে যাওয়া ৮ টি মোটরসাইকেল জব্দ করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে বেশ কয়েকজন হামলাকারীর ধস্তাধস্তি হলে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে অভিযোগে জানাগেছে।

প্রতক্ষদর্শীরা জানায়- উক্ত ছাত্রলীগ নেতা নেতৃত্বে অর্ধশত ব্যক্তি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বেশাইন খান গ্রামের সোহরাব মোল্লার ছেলে প্রবাসী সাইফুল ইসলামের বাসায় প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও শাপল নিয়ে বাস ভবনের সুদৃশ্য গেট, বাগানে লাগানো বৈদ্যুতিক লেম্প, সিসি ক্যামেরা ও এসি সহ মূল্যবান মালামাল ব্যাপক ভাঙচুর করে।

ইতিমধ্যে সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে ঝালকাঠি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহামুদ হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এরআগেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা তাদের ৮ টি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ওই ৮টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে ঝালকাঠি থানায় নিয়ে আসে।


ভূক্তভূগী পরিবার জানায়, সম্প্রতি তারা স্বপরিবারে বসবাসের জন্য গ্রামে একটি পাকা ভবন নির্মাণের সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক ফোন করে তাদের কাছে পাচঁ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ও টাকা না দিলে ভবন করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। তারা হুমকি উপেক্ষা করে তিনি ভবনটি নির্মাণ সম্পন্ন করে বর্তমানে ঘরে বাবা মা ও পরিবারের অন্যরা বসবাস শুরু করে। আর পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা ঘরের সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

৬সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে একটি মটোরসাইকেলে দুই যুবক তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে সিসি ক্যামেরা খুলে ফেলে। এরপর উক্ত ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে বেশ কিছু মোটরসাইকেলে এসে একদল হামলাকারী ব্যাপক তান্ডব ও ভাংচুর চালায়। প্রকাশ্য দিনের বেলা মহড়া দিয়ে চালানো এই হামলা ও তান্ডবকালে ঘরে থাকা প্রবাসীর পরিবারের সদস্যরা জীবনরক্ষার স্বার্থে ও আতঙ্ক বাইরে বেড় হয়নি বলে জানায়।

তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহামুদ হাসান প্রবাসী সাইফুলের পিতা সোহরাব মোল্লাকে ঝালকাঠি পুলিশ সুপারের কার্যলয়ে নিয়ে আসলে পুলিশ সুপার ফতিহা ইয়াসমিন তার সাথে আলাপ করে বিস্তারিত ঘটনা শোনেন ও থানায় মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।

প্রবাসী সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে জানায়- কীর্তিপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুস শুক্কুর মোল্লা তার কাছে দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এই টাকা না দেওয়ায় তিনি একাধিকবার ফোন করেও হুমকি ধামকি দেন। সেই হুমকির জেরেই তার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত মোল্লা তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এ হামলা চালিয়েছে। উক্ত চাদাবাজ চক্রটি ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য আমাকে বিএনপির লোক বলে তারা প্রচার করছে। অথচ আমি বহুদিন ধরে জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে রয়েছি।

এব্যাপারে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)এমএম মাহমুদ হাসান বলেন, যারা হামলা করেছে, তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ দিলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

loading...
%d bloggers like this: