loading...

ডোমার সরকারি কলেজে শিক্ষককে মারধর, গ্রেপ্তার ১

0

রাশেদুল ইসলাম আপেলঃ

“নীলফামারীর ডোমার সরকারি ডিগ্রি কলেজের বখাটে ছাত্ররা এক শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে। আহত সলেমান আলী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক। তিনি ডোমার বোড়াগাড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”

নীলফামারীর ডোমার সরকারি ডিগ্রি কলেজের বখাটে ছাত্ররা এক শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে। আহত সলেমান আলী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক। তিনি ডোমার বোড়াগাড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার দুপুরে ডোমার সরকারি ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রাতে প্রধান অভিযুক্ত শান্ত রহমান, নাজমুল, মুন্না, সৈকত চৌধুরিসহ অজ্ঞাত ১৬/১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা সবাই উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। রোববার কলেজ থেকে নাজমুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে শান্ত ও নাজমুল পলাতক।

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মালেক জানান, শনিবার দুপুরে মুন্না ও তার সহযোগীরা কলেজ ভবনে প্রথম বর্ষের ছাত্র সফিকুল আনামকে কলেজে না আসার হুমকি দেয় এবং মারধর করে। সেখানে প্রভাষক সলেমান প্রতিবাদ করার সঙ্গেই বখাটে ছাত্ররা তাকেও মারধর করে। মারতে মারতে তিনতলা থেকে নিচে নিয়ে আসে। আমি তাকে বাঁচাতে আসলে বখাটে ছাত্ররা আমার গায়েও হাত তুলে।

আহত সলেমান আলী সংবাদকর্মীকে বলেন, আমি এ অন্যায়কে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবো না। আমার মনুষ্যত্ববোধ এবং সৌজন্যবোধ অন্যায় থেকে দূরে। এরকম হামলার শিকার শিক্ষকরা অহরহ হচ্ছেন। আজ আমিও হলাম। কাল আরেকজন হবে। তাই দোষীদের আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ডোমার সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবিউল করিম জানান, দুমাস আগে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শান্ত রহমান শিক্ষকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই যাত্রায় সে বেঁচে যায়। এবার অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বদেব রায় (তদন্ত) জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পলাতকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, নীলফামারীর ডোমারেই বেড়ে ওঠা সলেমান আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। ৩৬ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি তার গ্রামের কলেজেই প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।

ডোমার সরকারি ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র আটজন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫০০ এর উপরে। কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি শাখা ও দুটি বিষয়ে অনার্স কোর্সও চালু রয়েছে। এরমধ্যে বিজ্ঞানের শিক্ষক দুজন, মানবিকের একজন, ব্যবসায় শাখার দুজন, বাংলার একজন, অর্থনীতির দুজন শিক্ষক রয়েছে। তবে ইংরেজি বিষয়ে কোনো শিক্ষকই নেই।

loading...
%d bloggers like this: