loading...

চামড়া পচে বিপুল টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

0

সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করার কারণে এবারও নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমান কোরবানির পশুর চামড়া। গতবার ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এবার তারও বেশি নষ্ট হতে পারে ধারণা এখাত সংশ্লিষ্টদের। এদিকে উপযুক্ত দাম না পেয়ে অনেকেই চামড়া রাস্তায় ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউবা বাধ্য হচ্ছেন নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে।

এবার গরম থাকায় ৬ ঘন্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই করা হয়নি। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের লবন না মেখে খোলা য়ায়গায় চামড়া জমিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

তার ওপর কোরবানির দিন রাতের বৃষ্টিতে চামড়া আরও নষ্ট হয়ে গেছে। এ ধরণের চামড়া এখন বেচতেও পারছে না পাড়া-মহল্লার সংগ্রাহকরা। যদিও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সিন্ডিকেট করে পাইকাররা চামড়ার দাম কমিয়েছে।

এ অবস্থায় এবার সংগ্রহ হওয়ার পর্যায়ে কোরবানির পশুর অনেক চামড়া নষ্ট হবে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করায় গতবারও ৩৫ শতাংশ কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা চামড়া আসছে পাইকারি বাজার পোস্তায়। পোস্তায় দুই ধরনের চামড়া আসছে এখন। মঙ্গলবার কোরবানি হওয়া চামড়া ৫০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে এখানে। তবে যারা গতকালের চামড়া লবন ছাড়া নিয়ে আসছেন তাদেরগুলি কিনছেন না পাইকাররা। যাও বিক্রি হচ্ছে তার দাম ৫০ থেকে ১০০টাকা।আর খাসির চামড়ার বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

মৌসুমি ব্যবসায়ী হারুনুর রসিদ পোস্তায় চামড়া বিক্রি করতে এসেছেন ঢাকা টাইমসকে বলেছেন, তিনি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে প্রতিপিস চামড়া কিনেছেন। কিন্তু সকাল থেকে চামড়া নিয়ে বসে আছে কেউ কিনছেন না।

হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, হাটহাজারী রোডের আতুরার ডিপো এলাকায় রাস্থার পাশে হাজার হাজার পিস চামড়া পড়ে রয়েছে। কোনও পাইকারি ব্যবসায়ী এগুলো কিনছেন না। বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে ময়লার গাড়িতে করে এগুলো ফেলে দিতে হবে। একে তো লবন দেয়া হয়নি তার ওপর বৃষ্টিতে চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিপিস চামড়া ৩০ টাকাও করেও নিতে চাননি ব্যবসায়ীরা।

পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা সকাল ১০টা পর্যন্ত রাস্তার বসে ছিল চামড়া নিয়ে। কিন্তু বিক্রি করতে না পেরে একপর্যায়ে চামড়া রাস্তায়ফেলে দিয়ে চলে যান তারা।

রাজশাহী ব্যুরো জানাচ্ছে, নগরীর বেলপুকুর এলাকায় মঙ্গলবার চামড়া বিক্রি করতে আসেন অনেকেই। কিন্তু দেখা যায় চামড়াগুলো লবণ দেয়া হয়নি। অনেক চামড়া পচে গেছে দেখে পাইকারা কিনছে না। খোলা আকাশের নিচে চামড়া পরে থাকায় বৃষ্টির পানিতে ক্ষতি্র হয়েছে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, জেলার ঘাটাইলে দেশের বসচেয়ে বড় হাট। কিন্তু এখান চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। হাটে চামড়া কেনার মতো লোক নেই বললেই চলে। যেই গরু কেনা হয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা সেই চামড়া বিক্রি হচ্ছে দুইশ থেকে চারশ টাকায়। অন্য সময় এই রকমের চামড়া দুই থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর খাশির চামড়া এমনি দিয়েদেয়া হচ্ছে।

এখানকার পাইকাররা বলছেন, আগে এসময় ট্যানারি মালিকার অনেক ফোন দিত চামড়ার জন্য। কিন্তু এবার তারা চামড়া কেনার জন্য ফোনও দিচ্ছে না। ফলে তারা চামড়া কিনতে উৎসাহিত হচ্ছে না।

চামড়ার দাম নিয়ে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নিজেরা দোষ করে এ দোষ আমাদের ওপর চাপালে হবে না। এটাতো স্বাভাবিক গতকাল যে পশু জবেহ করা হয়েছে তার চামড়ায় এখনও লবণ না দিলে টেম্পার নষ্ট হয়ে যাবে। এর ওপর যদি বৃষ্টিতে ভিজে যায় তাহলে তো পচে যাবে চামড়া।’

তবে এবার কি পরিমান চামড়া নষ্ট হয়েছে সেটি জানাতে পারেননি এ খাতের এই নেতা। তার ভাষ্য, প্রতিবারই উল্লেখ যোগ্য চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এবার সারাদেশ থেকে তারা তথ্য নিচ্ছেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি কি পরিমাণ চামড়া পচে নষ্ট হয়েছে।

সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কেনা হচ্ছে জানিয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা বকেয়া টাকা এখনও দেয়নি। বকেয়া টাকা না পাওয়ায় চামড়ার লক্ষমাত্রা অনুযাযী কিনতে পারছি না। তবে ভালোমানের চামড়া আমরা সরকার নির্ধারিত দামেই কিনছি।’

চামড়া কম কেনার পেছনে আরেকটি যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘গতবারের টাকাই এখনও ট্যানারি মালিকরা আমাদের দেয়নি। এখন ট্যানারি মালিকরা এগিয়ে না আসলে এর সমাধান হবে না। সরকারকে এ ব্যপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা লবন ছাড়া চামড়া কিনি না। লবণ দেওয়া চামড়া কিনে থাকি। তবে এবার এখনও চামড়া কেনা শুরু করিনি। চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই কিনবো।’

এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম গত বছরের দামে অপরিবর্তিত রেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গরুর কাঁচা চামড়ার মূল্য রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাসির কাঁচা চামড়ার মূল্য সারা দেশে ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির কাঁচা চামড়ার মূল্য সারা দেশে ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির সময় চামড়া ছাড়ানোর সময় অসতর্কতা বা না-জানার কারণে বছরে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছর এক কোটি ১৫ লাখ পশু জবাই হয়। এর মধ্যে গরু-মহিষ সাড়ে ৫৪ লাখ, আর ছাগল ও ভেড়া ৫১ লাখের বেশি। এবার গতবারের চেয়ে পাঁচ শতাংশ বেশি ধরেছেন তারা। তাতে কাঁচা চামড়ার পরিমান গিয়ে দাঁড়াতে পারে এক কোটি ১১ লাখ থেকে এক কোটি সাড়ে এগারো লাখে।

loading...
%d bloggers like this: