loading...

গৌরীপুর পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধে, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

0

ফারুক আহাম্মদ :

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পেনশনসহ বেতন-ভাতার দাবিতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে স্থবির হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার সকল কার্যক্রম। জানা গেছে, পৌরসভায় দাপ্তরিক ও সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে বেতন-ভাতা সরকারি করনের দাবিতে গত ১৪ ই জুলাই থেকে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিতে গৌরীপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন সেখানে অবস্থান করছেন। পৌরসভা কার্যালয়ের সব দপ্তরে ঝুলছে তালা। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরসভার বাসিন্দারা।

টানা ১৮ দিন ধরে অত্র পৌরসভার সকল কার্যক্রম বন্ধথাকার ফলে পৌর শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় শহরের জনবহুল এলাকা সহ অলিগলিতে জমেছে ময়লার স্তূপ। ফলে যেমন দুগন্ধ ছড়াচ্ছে তেমনি কুকুর বিড়াল ও কাকে ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে একাকার করছে পুরো এলাকা। এ অবস্থায় দুঃবিসহ জীবন যাপন করছেন পৌর বাসিরা। রাতে সড়ক বাতি না জ্বলায় ঘুট ঘুটে অন্ধকার পৌর এলাকায়। টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। কর সংগ্রহ, নাগরিক সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেবাগ্রহীতারা ফিরে যাচ্ছেন। পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আফাজউদ্দিন , মো: আব্দুস সালাম ও লাইলা বেগম জানান, পৌরসভার কর্মচারিদের আন্দোলনের কারণে এলাকায় রাতে সড়ক বাতি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সন্ধ্যা হলেই পুরো পৌর এলাকা ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে। অন্যদিকে জন্ম নিবন্ধন করতে আসা পৌরসভার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, তার বাচ্চার জন্য জন্ম নিবন্ধন করতে গত ৩ দিন ধরে পৌরসভায় আসছেন। কিন্তু পৌর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জন্ম নিবন্ধন করতে পারছেন না।

ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির জানান, ট্রেড লাইসেন্সের জন্য তিনি আজ ১০ দিন যাবত আসছেন, কিন্তু অফিস বন্ধ থাকায় কাজ হচ্ছে না ফলে তার ব্যবসায়ী কর্মকান্ডে সমস্যা হচ্ছে। একই কথা জানালেন, পৌরসভার বাসিন্দা আমির হোসেন, তিনি গত পাঁচ দিন ধরে নাগরিক সনদের জন্য পৌরসভায় আসছেন। কিন্তু পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নাগরিক সনদ পাচ্ছেন না। বর্তমানে সারা বাংলাদেশে ডেংগু মশার বংশ বিস্তার রুধে যখন সকল জায়গা পরিস্কার পরিচ্ছনতা করার কথা সেখানে গৌরীপুর পৌরসভা ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। পৌরসভার এমন অবস্থায় ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুদ মিয়া রতন বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বর্তমান আন্দোলন ফলে পৌর নাগরিকদের যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক।

আমরাও চাই তাদের বেতন ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে দেয়া হউক। তাদের কে আমরা বিভিন্নভাবে বলছি সামনে ঈদ উল আজহা উপলক্ষে যাতে পৌরসভার কার্যক্রম চালু করা যায়। যদি তারা এরমধ্যে না আসেন তাহলে আমরা মেয়র সাহেবের নির্দেশে এলাকায় কয়েকদিনের মধ্যে ময়লা পরিস্কার ও রাস্তার সড়ক বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হবে।

loading...
%d bloggers like this: