loading...

গুজব

0

লেখকঃ মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান, অফিসার ইনচার্জ, গফরগাঁও থানা, ময়মনসিংহ।

দেশব্যাপী মাথাকাটা
ছেলেধরা যখন ভাইরাল,
আমিও শঙ্কিত
কী জানি কী হবে কাল।
হলও তাই, সেদিন গোধূলি পার করে
সন্ধ্যা এবং রাতের অন্ধকারে ভাবছিলাম একা বসে;
আর ঠিক এ সময়
বেজে উঠল সেলফোন।
অপর প্রান্ত থেকে বলতে থাকল,
দীঘা গ্রামে সারাদেশের মত
কল্লাকেটে এক নারীকে করল খুন।
আমি খানিকক্ষণ বসে ভাবলাম, আর যাচাই করতে ছুটে চললাম সেই পানে।
অকুস্থলে পৌঁছে পেলাম সত্যবার্তা।
আসলে কল্লাটা কাটেনি কেটেছে বুকের একটু উপরটা।
আমি তদন্তে পেয়ে গেলাম ক্লু।
এবার তাইলে গ্রামের আশপাশে একটু মারি ডু…
একজন নারী বিধবা নারী মাও বটে।
আমি চিন্তায় পড়লাম এটা কেন হলো? কিভাবে হলো? আর সারাদেশজুড়ে রটলো কল্লাকাটার ঘটনা ।
আহত নারীর চিকিৎসা হল আর তার পরদিন নিজ বাড়ি ফিরল।
তার পরদিনের পর দিন সে বাড়ীতেই
সকালের নাস্তার ঘন্টাখানেক পড়ে,
ছোট্ট শিশু ঘুম থেকে হঠাৎ উঠলো কেঁদে। আর পাশের ঘর থেকে দৌড়ে গিয়ে কোলে তুলে নিলেন।
আর কেঁদে কেঁদে বললেন দাদু
কী হয়েছে রে? ওরে বাছাধন ওরে!
বাতাসে ওপাশ থেকে সংবাদ এলো,
গফরগাঁও দীঘা গ্রামের ঐ বাড়িতেই
আবারও শিশুর কল্লা গেল।
ছুটে চললাম আর ভাবলাম
এ কী করে হয়!
একই বাড়ীর দুই কল্লা এখন কি যে হয়?
এবারও জানা গেল সরেজমিনে,
আসলে কল্লাটা কাটতে পারেনি
কেটেছে বুকের পাঁজরের একটু উপরের মাংসটারে।
তদন্তের সমীকরণে,
অবশেষে বের হল মূল রহস্য এবং আসল ঘটনা কী সে।
চাচি নিলুফা হয়েছেন পাঁচ বছর আগে বিধবা।
পারিবারিক কলহ আর মানসিক যন্ত্রণায় নিজেই কাটলেন
নিজের শরীর, আর তার ঠিক চার দিন পর ব্লেড হাতে নিয়ে নিজেই কাটলেন দেবরের দেড়মাসের শিশুর বুকের তাজা মাংস।
বিবেকটা যখন হল ধ্বংস।
পারিবারিক কলহের ঘটনা চালিয়ে দিতে চাইলেন গুজবের কল্লাকাটার রটনায়। দীঘা তো নয় সারাদেশের আর কোন গ্রামের কোন বাড়ীতে
গুজব ছড়িয়ে আর যেন না হয়,
কখনও কল্লাকাটার রটনা।

loading...
%d bloggers like this: