loading...

ময়মনসিংহের ফুলপুরে ২ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ বাবার অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার:
বৃদ্ধ বাবা জমি লিখে না দেয়ায় নিজ সন্তানদের দ্বারা শারীরিক, মানসিক অত্যাচার ও প্রাণনাশের হুমকি সহ বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে।
জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে অসহায় বাবা নিজ পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন মেয়েদের শশুরবাড়ীতে।
বৃদ্ধ বয়সে যখন বাবা-মাকে সন্তানদের দেখভালের কথা, তখন হতভাগা এক পিতা সন্তানদের হাতে হচ্ছেন অত্যাচারিত।
ঘটনাটি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের টিকুরী গ্রামে।
পারিবারিক ভাবে ও স্থানীয়রা জানায়,
ওই গ্রামের মৃত্যু জবেদ আলী মুন্সির ছেলে মো.আব্দুল হালিম পেশায় একজন কৃষক। তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে।

দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে  মাওলানা আবুল বাসার বর্তমানে  ময়মনসিংহ শহরের ভাটিকেশর একটি মসজিদে ইমামতি করেন। দ্বিতীয় ছেলে আব্দুস সাত্তার, পৈত্রিক জমিতে কৃষি কাজের পাশাপাশি পিতা হালিম সাহেবের দেয়া নিজের পুকুরে মাছ চাষে সহায়তা করতেন। মেয়েদের মধ্যে চার মেয়েকেই বিয়ে দিয়েছেন।

ছোট ছেলে ও তাঁর স্ত্রী কে নিয়ে একসাথে বাড়িতেই থাকতেন হালিম সাহেব। বাড়ীতে থাকাকালিন প্রায় সময়ই ছোট বৌ বিভিন্ন ভাবে তার শ্বশুর হালিম সাহেব ও তার শ্বশুড়ির প্রতি বিরুপ আচরণ শুরু করেন। স্বামী আব্দুস সাত্তার বাড়ীতে আসলে তার শ্বশুর শ্বশুড়ির বিরুদ্ধে  অপপ্রচার চালাতেন।ছেলেও স্ত্রীর কথা বিশ্বাস করে মা বাবার সাথে খারাপ আচরন করতেন, এমনকি পিতার গায়ে হাতও তুলেছেন। ছেলে হয়ে নিজের পিতাকে নির্যাতন এর মত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না।

এমন ঘটনা কেউ যেন না জানে হালিম সাহেব  সহৃ করে নিজেদের মধ্যেই  তা চেপে রাখতেন।
এরমধ্যে গত কয়েকমাস আগে হালিম সাহেবের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে দুই ছেলে মায়ের চিকিৎসার  তেমন কোন খোঁজ খবর নেন নাই। কিন্তু চার মেয়ে সম্পূর্ন চিকিৎসা ও সার্বক্ষণিক সেবা দিয়েছেন। কিন্তু গত তিন/চার মাস আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। হালিম সাহেব তার স্ত্রীর চিকিৎসায় বেশ কিছু টাকা ঋণ হওয়ায় উক্ত টাকা ফেরৎ ও মেয়েদেরকে তাদের পাওনা জমি লিখে দিতে যখন চিন্তা ভাবনা করছেন তখনই শুরু হয় যত সমস্যা।
মেয়েদেরকে জমি লিখে দেয়ার কথা শুনে দুই ছেলে চরম বিরোধিতা করেন, তারা পিতার নিকট তাদের নামে জমি লিখে দিতে চাপ দেন এতে হালিম সাহেব রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন প্রকার হুমকি এমনকি বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বারবার চাপ দেয়। এরমধ্যে বাড়ীতে রক্ষিত জমির দলিলপত্র বড় ছেলে মাওলানা আবুল বাসারের পরামর্শে ছোট ছেলে আব্দুস সাত্তার সরিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় ছেলেদের অত্যাচারে আর বাড়ীতে থাকতে পারলেন না হালিম সাহেব। বাড়ীথেকে পালিয়ে মেয়েদের বাড়ীতে আশ্রয় নেন। এর মধ্যে হালিম সাহেব চার মেয়েকে ১৫০ শতক জায়গা লিখে দিতে ফুলপুর রেজেষ্ট্রি অফিসে গেলে সেখানে সাব-রেজিষ্টার বরাবরে ছেলেরা অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাব-রেজিষ্টার দুই দিনের সময় নেন পরবর্তিতে অভিযোগ মিথ্যা বিধায় জমি ৪ মেয়ের নামে রেজিষ্ট্রি হয়। জমি রেজিষ্ট্রি হওয়ার পর দুই ছেলে পিতার প্রতি ব্যাপক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরই মাঝে গত রমজানে ৪ মেয়ে সহ হালিম সাহেব নিজ বাড়ীতে গেলে ছোট ছেলে চার বোন সহ পিতার উপর আক্রমন করেন, একপর্যায়ে ছোট ছেলে দরজার পড়ে মাথায় আঘাতপান। এই অবস্থায় একঘরে সকলকে তালা বন্ধকরে অবরোদ্ধ করে রাখে। পরে ফুলপুর থানার পুলিশ গিয়ে চার মেয়ে ও হালিম সাহেবকে উদ্ধার করেন। এই অবস্থায় মাথায় আঘাত পাওয়ায় ছোট ছেলের স্ত্রী বাদী হয়ে চারবোন সহ মোট ৬জনকে আসামী করে ফুলপুর থানায় মামলা করেন। বর্তমানে মামলায় সকলেই কোর্টথেকে জামিনে আছেন।
এই ঘটনায় হালিম সাহেব থানায় মামলা করার জন্য গেলে  থানায় কোন প্রকার সহযোগিতা না পেয়ে তিনি কোর্টে মামলা করেন ছেলে ও ছেলেদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে। পরবর্তিতে বড়ছেলে কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাকে হাজতবাসের আদেশ দেন,পরবর্তিতে কয়েকদিন হাজত বাসেরপর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে হালিম সাহেব  মেয়েদের বাড়ীতে দিনাতিপাত করছেন এবং নিজ বাড়ীতে যেতে না পেরে অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন, এমনটাই জানান এ প্রতিবেদককে।
ইমাম,মাওলানা ও ব্যবসায়ী পিতা পুত্রের সঙ্গে বৃদ্ধ বাবার দ্বন্দ্ব ও মামলা-মোকদ্দমার ঘটনায় হতবাগ প্রতিবেশিরা।

হালিম সাহেব পুত্রের অত্যাচারের বিচার সহ নিজ জীবনের নিরাপত্তাসহ শেষ সম্বল রক্ষা ও জীবনের বাকি সময়টুকু যেন নিজ বাড়িতেই থাকতে পারেন, এমনটাই দাবি, হতভাগা বাবার।

loading...
%d bloggers like this: