loading...

এ ভাবে নদী গর্ভে বিলীন হতে থাকলে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে সাঘাটা

0

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গত চারদিন ধরে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল নেমে আসায়, পানির স্রোতে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, বাঙ্গালী, কাটাখালি, আলাই‏ নদী সহ সব নদীতে পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

প্রতিদিন ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে কিছু দিনের মধ্যে বসত বাড়ি সহ সাঘাটার অনেক গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন অভিজ্ঞ মহল। সেই সঙ্গে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে সাঘাটা । প্রতিবছর বর্ষায় নদী ফেঁপে ফুলে ওঠে। পানিতে থই থই করে নদী পাড়ের মানুষের বাড়ির আঙ্গিনা। পানি বাড়লেও ভাঙ্গন এবং কমলেও আরও তীব্রতা শুরু হয় ভাঙ্গনের। ভাঙ্গনে প্রতি বছর নদী গ্রাস করে শত শত একর জমি।

৪৪ বছরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র গিলে খেয়েছে প্রায় ৫০টি গ্রামের কয়েক হাজার একর আবাদি জমি। পানিতে ভেসে গেছে পূর্ব পুরুষদের কবর সহ অসংখ্য ঘর-বাড়ি। এরমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় স্থানীয় লোকজন নদী ভাঙ্গন রোধ কল্পে যেসব উদ্যোগ নিয়েছিল তারমধ্যে কয়েকটি স্থানে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করে। তবে এতে কোন কাজ হয়নি।

সরকারী ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে সাঘাটার সামনে ব্লক ফেলে ভাঙ্গন কিছুটা রোধ হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ২১টি পয়েন্টের মধ্যে ২টি পয়েন্টকে স্মরণকালের স্পর্শকাতর।

একটি হলো হলদিয়া সাবেক বাজার এলাকা ও অপরটি হলদিয়ার গোবিন্দপুর গ্রাম, বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ায় সদ্য রোপনকৃত ধানের চারা ও শাক-সবজির আবাদ নষ্ট হয়েছে। নদী ভাঙ্গন কবলিত লোকজন ইতিমধ্যে ওয়াবদা বাদ সহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

গো-চারণ ভূমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছে খামারি মালিকেরা। হলদিয়ার শাহআলম বলেন, ‘হামার বাড়িঘর যমুনা গিলে খেয়েছে বহুদিন আগে‘।

ভরতখালী ইউপি চেয়ারম্যান ছামছুল আজাদ শীতল জানান, নদী ভাঙ্গন কবলিত লোকজনদের স্থায়ী পূর্ণবাসন করা দরকার। এলাকাবাসী নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

loading...
%d bloggers like this: