loading...

কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীর সঠিক সিদ্ধান্তে পেট্রাপোল বন্দরে নেই ট্রাকের লম্বা লাইন

0

মোঃ রাসেল ইসলাম,যশোর ব্যুরো প্রধান: বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরনের জন্য দ্রুত শুল্কায়ন ও পন্য খালাশে নতুন নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়িত হওয়ায় বেনাপোলর ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে এখন আর নেই সারি সারি ট্রাকের লম্বা লাইন। সেখানকার সরকারী ও বেসরকারী পার্কিং গুলোতেও তেমন একটা পণ্য বোঝাই ট্রাকের জট নেই।

কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরীর জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে দিনের রাজস্ব দিনে আদায় করতে হবে। সেই সাথে ভারত থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫/৬’শ পণ্য বোঝাই ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করাতে হবে।

ভারত বাংলাদেশ কাস্টমস ও বন্দর ব্যবহারকারী ষ্টোক হোল্ডারদের সমন্বয়ে আমদানি রফতানি বানিজ্য গতিশীল করতে কাজ শুরু হয় মাঠ পর্যায়ে। উচ্চ শূল্কের পন্য দ্রুত পরীক্ষন ও শুল্কায়ন কার্যক্রম দ্রুত করতে লোকবল ও বাড়ানো হয়।

চলতি জুন মাস ব্যাপী প্রতিটি কাস্টমস অফিসারকে পর্যায়েক্রমে সকাল ৭ টা থেকে রাত ১২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। ভারত থেকে যে সব কর্মকর্তারা দিন ব্যাপী বেশী বেশী আমদানি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারবে তাদের জন্য রিওয়ার্ড়ের ব্যবস্থাও করেন কমিশনার। আমদানি করা পণ্য দ্রুত স্ক্যানিং করে পরীক্ষন কাজ সম্পন্ন শেষে ট্রাক টু ট্রাক খালাশের অনুমতি দেয়ায় বন্দর থেকে শুরু হয় দ্রুত পণ্য খালাশ।

বেনাপোল কাস্টম হাউসে ইতিপূর্বে যে সব পণ্য চালান খালাশ করতে ৬/৭ দিন সময় নিত এখন অধিকাংশ পন্যচালানই একদিনেই খালাশ করা সম্ভব হচ্ছে।

দ্রুত রাজস্ব আদায়ে জন্য এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহন করায় গতকাল একদিনেই ৮০০ ট্রাক মালামাল বন্দরে প্রবেশ করেছে।বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে সড়কের কাজে ব্যবহারের জন্য পাথর ও বোল্ডার স্টোন আমদানি হচ্ছে ব্যাপক হারে।কাস্টমস এর সহকারী কশিনার উওম চাকমা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন যে সব পন্য বোঝাই ট্রাক ভারতের প্রেটাপোল বন্দরে আসছে সেসব ট্রাক ঐদিনই প্রবেশ করছে বেনাপোল বন্দরে। ফলে ভারতের কালিতলা, বনগাও পৌর পার্কিং সহ সি ডাব্লূই সি ওয়ার হাইজেও পন্য বোঝাই কোন ট্রাক দাড়িয়ে থাকছে না।

যদিও ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনারের এক পত্রে বলা হয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাইস প্রতিদিন ১ হাজার ট্রাক হ্যান্ডেল করার ক্যাপাসিটি রয়েছে। তার পরও মাত্র ৩’শ ট্রাক পন্য আমদানি হচ্ছে এই বন্দর দিয়ে।কিন্তু বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঠিক ও সময় উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহন করায় ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় এখন আর পন্য বোঝাই ট্রাকের লম্বা লাইন নেই।

কাস্টমস কতৃপক্ষের ২৪/৭ যথাযথ ভাবে কার্য্যকর করায় পাল্টে গেছে আমদানি রফতানি বানিজ্যের দৃশ্যপট। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি কমে গেলেও রাজস্ব আদায়ে কোন প্রভাব পড়েনি। চলতি জুন মাসে ২‘শ ২৫ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। বেড়েছে রাজস্ব আদয়ের প্রবৃত্বির হার।তবে রাজস্ব ফাকি রোধে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করায় রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।তবে বেনাপোলের পাশ্ববর্তী ভোমরা বন্দরে সব ধরনের পন্য আমদানির অনুমোতি দেয়ায় সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা ঔ বন্দরে চলে গেছে বলে বেনাপোলস্থ ব্যবসায়ী সংগঠন গুলো অভিযোগ।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বেনাপোল কাস্টম হাউজ’র রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরনের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যাপক আইনী পরিবর্তন এনেছে। বন্দর থেকে উচ্চ শুল্কের পন্য দ্রুত খালাশ করতে ব্যবসায়ীদের অহবান জানানো হয়েছে। সে লক্ষে ব্যবসায়ীরা কাজ করে যাচেছ। তবে রাজস্ব ফাকি রোধে ব্যাপক কড়া কড়ি আরোপ করায় সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা অন্য বন্দরে চলে যাওয়ায় এই পথে কমে গেছে আমদানি।

বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, বেনাপোলের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে এখন আর ট্রাকের লম্বা লাইন নেই। সেখানকার সরকারী ও বেসরকারী পার্কিং গুলোতে ট্রাকের জট নেই। দিনের পণ্য দিনে খালাশ ও দিনের রাজস্ব দিনে আদায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব নিয়ম চালু করতে কাস্টম ও বন্দরের অফিসার , পুলিশ, বিজিবি এবং সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন সহ সকল বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠন গুলোর ভুমিকা ছিল প্রশংসণীয়।

loading...