loading...

বেড়ায় ক্ষেত খাইলো গৌরীপুরের মৎস্য চাষী হারুনের!

0

ফিসারীর দেখভালের জন্য দায়ীত্ব দেয় বন্ধু আমিনুলকে, আর অংশিদার দাবীকরে জোরপুর্বক সারে চার লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায় সেই বন্ধুই। ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলাধীন পুম্বাইল গ্রামের মোঃ মতিউর রহমানের ছেলে মোঃ হারুন অর রশিদ (২৮) এর সাথে। এই বিষয়ে গৌরীপুর থানায় ২৩/০৬/২০১৯ তারিখে মোঃ আমিনুল হক (৩০), মোঃ রেজাউল (২২), মোঃ আলিমুল (২৭) মোঃ কাসেম মুন্সী (৫৫), সহ আরও অজ্ঞাত নামা ২০/২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজহার সুত্রে জানাযায়, ইং ২২/০৫/২০১৯ তারিখ মোতাবেক বাংলা ৮ই জৈষ্ট্য ১৪২৬ সাল রোজ বুধবার বেলা অনুমান ০২.৩০ ঘটিকায় সমস্ত বিবাদীগন মাছ ধরার জাল, খাচা ও রামদা, লাঠি, কাতরা, বল্লম ইত্যাদি মারাত্মক অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হইয়া বেআইনী জনাতাবদ্ধে হারুনের লিজকৃত পুকুর হইতে ২০ মন গুলশা মাছ যাহার ওজন মূল্য অনুমান ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা ও বিভিন্ন প্রজাতির বাংলা মাছ যাহার ওজন মূল্য অনুমান-৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা একুনে -৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার মাছ জাল দিয়া মাছ মারিয়া ধরাধরি করিয়া নিয়া যায়। ও বিবাদীদের নিজ পুকুরে কিছু মাছ ছাড়িয়া দেওয়া হয় আর কিছু মাছ অটোযোগে বাজারের দিকে নিয়ে যায়। সাক্ষির মাদ্যমে সংবাদ পাইয়া হারুন ঘটনাস্থলে যাইয়া বিবাদীগনকে বাধা নিষেধ দিলে বিবাদীগন তাহাদের হাতে থাকা অস্ত্রাদি নিয়া মারপিট ও খুন জখম করার জন্য তার উপর চড়াও হয়।

মামলার বাদি হারুন অর রশিদ জানান, আমি গত ২০১৭ ইং সালের মার্চ মাসে তেরশিরা গ্রামের মোঃ আব্দুর রহিমের নিকট থেকে ১০০ শতাংশ (১০ কাঠা) জমিতে ফিসারি করার জন্য ৫ বছরের লীজ নেই। এবং অদ্যাবধী পর্যন্ত আমি উক্ত ফিসারীতে মাছ চাষ করে আসিতেছি। আমার বাড়ি থেকে ফিসারী দূরে হওয়ার কারনে তেরশিরা গ্রামের কাশেম মুন্সির ছেলে আমিনুল (২৮) কে মাঝে মাঝে আমি বলিয়া টুকটাক কাজ করাইতাম। পরে যখন আমি বুঝতে পারলাম যে আমার অবর্তমানে কেউ আমার পুকুরের মাছের খাবারের বস্তা কেউ চুরি করে নিয়ে যায়, এমনকি এনার্জি লাইট, মোবাইলও চুরি হয়ে যায়। পরে আমার তাকে সন্দেহ হওয়ায় আমি আর তাকে কোন কাজের কথা বলিনা, বা পুকুরেও আসতে বলিনা। পরে গত, ১৩/০৫/১৯ ইং রোজ সোমবার দুপুরে আমি পুকুরে মাছ ধরতে গেলে আমিনুল ও তার ভাই রেজাউল আমাকে মাছ ধরতে নিষেধ করে। এবং আমার হাত পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দেয়ার হুমকি দেয়। এমনকি ভবিষ্যতে আমি পুকুরপারে আসলে আমাকে খুন করে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়। আমি বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্যদের নিয়ে সমাধান করতে চাইলে তাহারা কারো সাথে আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক না। পরে আমি এ বিষয়ে একটি সাধারন ডাইরি করার জন্য গৌরীপুর থানায় যাই, এই সংবাদ পেয়ে তারা ২২/০৫/২০১৯ তারিখ বেলা অনুমান ০২.৩০ ঘটিকায় সমস্ত বিবাদীমিলে মাছ ধরার জাল, খাচা ও রামদা, লাঠি, কাতরা, বল্লম ইত্যাদি মারাত্মক অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার লিজকৃত পুকুর হইতে ২০ মন গুলশা মাছ যাহার ওজন মূল্য অনুমান ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা ও বিভিন্ন প্রজাতির বাংলা মাছ যাহার ওজন মূল্য অনুমান-৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা একুনে -৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার মাছ জাল দিয়ে ধরে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, আমরা জানি হারুন ৫ বছরের জন্য পুকুর লিজ নিয়েছে কিন্তু এখন আমিনুল অংশিদার দাবি করে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য বেশ কয়েকবার দরবার হয়েছে কিন্তু সমাধান হয়নি।

আসামী আমিনুলের যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি হারুনের কাছ থেকে লিজ নিয়েছি পুকুর। কিন্তু তিনি লিজের কোন প্রকার লিখিত প্রমান দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে মামলার দায়ীত্বরত এস আই বাহারুল ইসলাম জানান, আমরা আসামী ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

loading...
%d bloggers like this: