loading...

যুবলীগকর্মী হত্যার রহস্য উন্মোচন, দ্বিতীয় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন

0

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট:

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া এলাকায় আলোচিত যুবলীগকর্মী শফিকুল ইসলাম শপু হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করার লোমহর্ষকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন হত্যাকারী দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতি।

এরআগে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে হত্যাকারী স্ত্রী ইতির বাড়ির পরিত্যক্ত পুকুর থেকে শপুর গলিত লাশ উদ্ধার হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ঘটনার জট খোলতে সক্ষম হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ ও এসআই মনির হোসেন।

শুক্রবার (১৪ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহের ১ নং আমলী আদালতে হত্যাকারী আফরোজা শেখ ইতি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ কামাল আকন্দ হত্যাকান্ডে ইতির জড়িত থাকা ও স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বিরবনে জানা যায়, নিহত শফিকুল ইসলাম শপু তার প্রথম স্ত্রী মাহমুদার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করায় দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

নিহত শপুর প্রথম স্ত্রী মাহমুদার ঘরে ৪ বব্ছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে । সে প্রথম স্ত্রীকে রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী ইতিকে তার পূর্বের স্বামী সন্তান থাকা সত্বেও পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে পূর্বের স্বামীর ঘর থেকে নিয়ে এসে বিয়ে করে । শর্ত ছিল আগের স্ত্রীকে তালাক দিবে শপু । এরপর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী ( মহানগর যুবলীগ সদস্য প্রয়াত আজাদ শেখের বোন ) ইতি কে নিয়ে আজাদের বাড়িতে বসবাস করতে থাকে শপু। কিন্তু প্রথম স্ত্রী কে তালাক দেয় না। গোপনে প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে শপু। দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে এ নিয়ে শপুর প্রায় সময় বাকবিতন্ডা হয়।

আজাদ হত্যার পর ভিকটিম শফিকুল ইসলাম শপু তার দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির সাথে আগের মত ব্যবহার না করে প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বেশি রাখে । এ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় । সে সিদ্ধান্ত নেয় কিছু একটা করবে। ঘটনাচক্রে ১০ জুন গোপনে প্রথম স্ত্রী বাড়িতে গিয়ে তার স্বামীকে দেখতে পায় ইতি । এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। পরিকল্পনা করে কিছু একটা করবে।

যুবলীগকর্মী শপু ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে আসে । বিকেলে পাশের মোড়ে খেলা দেখে রাত অনুমান ১২ টার দিকে বাসায় এসে প্রতিদিনের ন্যায় ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে । পরে দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওড়না দিয়ে স্বামীর গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে । ভোর রাতে বিছানার চাদর দিয়ে পেচিয়ে টেনে নিয়ে পাশের সেই পরিত্যক্ত পুকুরে নিয়ে পায়ে লাথিয়ে কচুরির নিচে লাশ গুম করে আসে।

এ ঘটনায় ১৩ জুন রাতে কোতোয়ালী মডেল থানায় নিহতের মা নুরুন্নাহার বাদি হয়ে আফরোজা শেখ ইতি ও তার বড় ভাই দীন ইসলাম ওরফে দীনেশসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ঘটনার অধিকতর তদন্তে ডিবি পুলিশের এসআই মোঃ মনিরুজ্জামানকে তদন্তকারী অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৪ জুন বেড়িয়ে আসে শপু হত্যার মূল রহস্য।

loading...
%d bloggers like this: