loading...

বাঁশের সাকোর ভোগান্তিতে দশ গ্রামের বিশ হাজার মানুষ

0

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা থেকে:

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও দুটি ব্রীজের অভাবে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে শাখা নদী পারাপার করছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা এলাকার ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করেও সেতু দুটি নির্মানে এগিয়ে আসেনি কেউই। ফলে অর্থনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষগুলোর জীবনে। কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালাহাট ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে মৃত:প্রায় বারোমাসী নদীর উপর রয়েছে দুটি বাঁশের তৈরী সাকো। একটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ফিট। অপরটির ৬০ ফিট। স্থানীয়রা বাঁশ, তারকাটা, টাকা-পয়সা ও শ্রম দিয়ে বছরের পর বছর সাকো তৈরী করে নিজেদের চলাচলে প্রয়োজন মেটাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও ব্রীজ দুটি তৈরী করা সম্ভব হয়নি। প্রায়শই এসব সাকোতে ঘটছে দুর্ঘটনা। ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারায় ব্যবসায়ী, অসুস্থ্য রোগী এবং শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে। ফলে যোগাযোগের ভোগান্তি সারা বছরের। বর্ষায় তা আরো বেড়ে যায়।

নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত ইন্দুর ঘাট এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ ফিট। যা কিশামত ফুলবাড়ী ও ঝাউকুটি বা পশ্চিম ফুলমতি গ্রাম ঘিরে অবস্থিত। স্থানীয়রা জানালেন, সাকোর ঐপাড়ে রয়েছে ৭টি গ্রাম। এই পথ দিয়ে ৭ গ্রামের মানুষ ছাড়াও ফুলবাড়ী উপজেলার এই অংশের মানুষ সরাসরি লালমনিরহাট জেলা শহরে বিভিন্ন প্রয়োজনে ও ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াত করে। লালমনিরহাট যেতে ধরলা নদীতে ঘরুর ঘাট ও খোকার ঘাট হয়ে মোগলহাট দিয়ে তারা শহরে প্রবেশ করে। এছাড়াও সাকোর ওপারে কান্দাপাড়া, কলাবাগান, আনন্দবাজার, কলিরচর, কেরকেরারচর, বাঘেরচর, ঝাউকুটি, কিশামত ফুলবাড়ীর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাধীনতার পর থেকেই চরম ঝুকির মধ্যে এই পথ দিয়ে পারাপার করছে।

এই এলাকার কাশেম ও জহুরুল জানান, সাকোর এই পাড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির মধ্যে যাতায়াত করছে। আগে ছয়মাস ডিঙ্গি নৌকায় এবং শুকনো সময় বাঁশের সাকোয় পারাপার করা হতো। বড় বর্ষা বা বন্যা হলে স্কুল বন্ধ থাকতো। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে।

অপরদিকে এই বারোমাসী নদীর উপর এই এলাকা থেকে ভাটিতে দুই কিলোমিটার দূরে রয়েছে নবিউলের ঘাট নামে আরেকটি বাঁশের তৈরী সাকের ঘাট। এই সাকোর ওপারে রয়েছে খরুয়া, পেঁচাই, ঝাউকুটি, খারুয়াছিট ও খারুয়ারচর গ্রাম। এসব গ্রামের মানুষ স্বাধীনতার পর থেকে এভাবে ঝুঁকিতে পারাপার করলেও কোন প্রতিষ্ঠান বা জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসেনি সাকো দুটি’র উপর ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করতে।

প্রতিদিন শতশত মানুষ নড়বড়ে সাকোর উপর দিয়ে নিজেদের প্রয়োজনে পারাপার করছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা ভারী পণ্য হাট-বাজারে নিয়ে আসতে পারছে না। গুরুতর রোগী পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুকির মধ্যে যাতায়াত করছে। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৮ বছর পরও কেউ এগিয়ে আসেনি গুরুত্বপূর্ণ এই সাকো দুটিতে ব্রীজ নির্মানের ব্যাপারে সহযোগিতা করতে। এনিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ এলাকার সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে সদ্য কর্মস্থলে যোগদানরত ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী আশিক ইকবাল সরজমিনে ফিজিবিলিটি দেখে উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

loading...
%d bloggers like this: