loading...

ইন্টারনেটকে পূঁজি করে আব্দুল কাইয়ুমের ব্ল্যাকমেইলিং ব্যবসা

0

ডেস্ক রিপোর্ট :

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন আব্দুল কাইয়ুম । ছাত্রজীবনে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত ছিলেন, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নিবন্ধন বাতিল হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বে ।

সেই সংগঠনের সূত্র ধরেই কাইয়ুমের উত্থান । ছাত্রশিবিরে বিশেষ অবদান রাখায় সংগঠনের আইসিটি বিশেষজ্ঞদের সাথে গড়ে ওঠে তার বিশেষ সখ্যতা । সংগঠনটি সিনিয়র আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তাকে তাদের সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসাবে গড়ে তোলে ।

আইসিটি তালিম নিয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে ফিরে আসে নিজ উপজেলা ঈশ্বরগঞ্জে । ঈশ্বরগঞ্জের রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সমাজের সন্মানী মানুষ , বিত্তশালী , স্থানীয় সাংবাদিকদের নামে ফেসবুকে বিভিন্ন ভুয়া আইডি ও পেজ খুলে এবং ওয়েব সাইটে বিভিন্ন পত্রিকা প্রকাশের নামে ঐসব লোকদের নামে ভুয়া, মনগড়া সংবাদ, কুরুচিপূর্ণ ছবি প্রকাশ করে ।

এছাড়াও ইউটিউবে নিজেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অফিসার , সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রেকডিং আদায় এবং তা প্রকাশ করত । প্রকাশের পর ঐসব লোকদের মাঝে ভীতি সঞ্চয় করে হুমকি দিত । মোটা অংকের টাকা দাবি করে । দাবিকৃত টাকা না পেলে ছবি ও ভিডিও এডিটিং করে আরো মড়িয়া হয়ে অপপ্রচার করতো । মানসন্মানের ভয়ে তার দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করেছেন অনেকেই ।

এভাবেই ঈশ্বরগঞ্জ থেকে আব্দুল কাইয়ুমের উত্থান শুরু ।

ক্রমশ: নেটওয়ার্ক বাড়তে থাকে কাইয়ুমের । উপজেলা শহর থেকে অবস্থান নেয় ময়মনসিংহ জেলা শহরে । এই শহরে জামায়েত ইসলামী সমর্থিত একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি নেয় কাইয়ুম । ঐ প্রতিষ্ঠান থেকেই ময়মনসিংহ শহরের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তার গড়া ওয়েবসাইটগুলিতে একই কায়দায় ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করতে থাকে ।

ব্ল্যাকমেইল করা ঐসব সংবাদ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সন্মানী মানুষ ভুক্তভোগীরা । একপর্যায়ে তার দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করে পরিবার ও সমাজের মানুষ থেকে মানসন্মান বাঁচাতে তারা কাইয়ুমের হাতে তুলে দেন লাখ লাখ টাকা ।
কাইয়ুম এতটাই ধুরন্ধর (ধূর্ত) প্রকৃতির যে, সে যার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করত তার নিকটজনরা ঐ সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে প্রচার করতো ।

এতে ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজের অর্থাৎ কাছের মানুষজনদের ভুল বুঝত । এতে সন্মানী ঐব্যক্তিটি তার প্রিয় মানুষটিকে শত্রু ভাবত এবং বন্ধু ভাবাপন্ন মানুষটির ক্ষতি করত । এসবছিল কাইয়ুমের কূট কৌশলের নমুনা ।
এদিকে ফেসবুক ও ওয়েবসাইটে বিভিন্ন নামে ভুয়া পেজ খুলে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই প্রতারক আব্দুল কাইয়ুমকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি পুলিশ ।

শনিবার তাকে ২শ’ ডলারসহ গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে । এব্যাপারে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানায় কাইয়ুমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আ্যাক্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি আজিজুর রহমান ।
আব্দুল কাইয়ুমের প্রতারণার শিকার এমনই একজন । তিনি মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. ইদ্রিস খান ।
ড. ইদ্রিস খান জানান, এই কাইয়ুম অনেকদিন ধরেই আমাকে টার্গেট বানিয়ে আমার নামে কুরুচিপূর্ণ ছবি, মনগড়া ইন্টারভিউ, মিথ্যা ও বানোয়াট রিপোর্ট লিখে ফেসবুকে ও ইউটিউবে প্রচার করে । একটি ছবিতে সে আমাকে যৌনপল্লীর নারীদেরও ছবি আমার সাথে জোড়া লাগিয়ে অপপ্রচার করে ।

এইসব প্রকাশনা বন্ধ করতে চাইলে আমাকে অনেক টাকা দিতে হবে বলে জানায় । মান সন্মানের ভয়ে আমি তাকে ১৩ লাখ টাকা দিয়েছি বিভিন্ন সময়ে । এরপরও সে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে হুমকি দিতে থাকে ।

একপর্যায়ে আবারও টাকা দাবি করে । বিষয়টি আমি পুলিশকে অবগত করি । অত:পর পুলিশের পরামর্শে কাইয়ুমকে আবারও টাকা দেব বলে জানাই । টাকা হস্তান্তরের স্থানটি পুলিকেও জানাই । পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

loading...