loading...

ঠোঁটের যত্নে প্রসাধনী

0

অনলাইন ডেস্ক:

ঠোঁট মানুষের মুখমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, ঠোঁট শুধু খাদ্য গ্রহণেই অংশ গ্রহণ করে না বরং সুন্দর-পরিপাটি এক জোড়া ঠোঁট যে কারোর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে পারে বহু গুণে। তাই তো বাজারে রয়েছে ঠোঁট রাঙানোর ও ঠোঁট সাজানোর অনেক রকম প্রসাধনী। প্রতিদিনই নামকরা প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান গুলো নিত্য নতুন প্রসধনী নিয়ে আসছে ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী। আজ আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেব ঠোঁটের সব ধরণের প্রসধনীর সাথে। আসুন জেনে নেই –

লিপ এক্সফ্লোয়েটরঃ

শুরুতেই আসি ঠোঁটের সৌন্দর্য্ বর্ধনের ব্যপারে। ঠোঁটের স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখতে ও মৃ্ত কোষ দূর করতে রয়েছে লিপ এক্সফ্লোয়েটর। এটি আপনার ঠোঁট যেমন পরিষ্কার করবে তেমনি ঠোঁটের আর্দ্রতাও বজায় রাখতে সহায়তা করবে। সেই সাথে ঠোঁটের গোলাপি আভাও ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের লিপ এক্সফ্লোয়েটর পাওয়া যায়, তন্মধ্যে ভিক্টোরিয়া সিক্রেট, ইএলএফ অন্যতম।

লিপ বামঃ

লিপ বাম আমরা কম বেশি সবাই ব্যবহার করি, তাই সবাই নিশ্চয়ই এই নামটির সাথে পরিচিত। শীতকালে তো বটেই, অনেকেই আছে যারা সারা বছরই লিপ বাম ব্যবহার করে অভ্যস্ত। লিপ বাম ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বিশেষ ভাবে সহায়তা করে, কেননা সেই ভাবেই এটি তৈরি। আজকাল বিভিন্ন ফ্লেভার ও ঠোঁটের ভিন্নতার উপর নির্ভর করেও লিপ বাম তৈরি হচ্ছে।

লিপ অয়েলঃ

লিপ অয়েল হচ্ছে লিপ বামেরই মত ঠোঁটকে আর্দ্র রাখার প্রসাধনী। কিছু কিছু লিপ অয়েল আছে যেগুলো লাগালে ঠোঁটের আর্দ্রতার পাশাপাশি ঠোঁট রাঙানোর কাজ-ও করে থাকে। কালার্ড লিপ অয়েল-ও এখন ভালোই সহজলভ্য।

পেট্রোলিয়াম জেলীঃ

পেট্রোলিয়াম জেলী চেনে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। সকলেই পরিচিত এই জিনিসটির সাথে। এটি সাধারণত পেট্রোলিয়াম অয়েল থেকে তৈরি করা হয়; এই পেট্রোলিয়াম এবং পেট্রোলিয়াম জাতীয় সব পদার্থ ত্বকের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন পেট্রোলিয়াম ব্যবহারে ঠোঁট কালো হয়ে যেতে থাকে।

ভ্যাসলিনঃ

ভ্যাসলিন পেট্রোলিয়াম জেলীর-ই রূপ বিশেষ। তবে এতে পেট্রোলিয়ামের পরিমাণ কিছুটা কম থাকে এবং অন্যান্য ঠোঁট পরিচর্যাকারী পদার্থ মেশানো হয়।

পমেডঃ

যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশে ত্বক ও ঠোঁটের সুরক্ষায় পমেড ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি হচ্ছে মূলত তেল, পেট্রোলিয়াম ও গ্লিসারিনের মিশ্রণ। যা আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক।

চ্যাপস্টিকঃ

চ্যাপস্টিক ভ্যাসলিনেরই স্টিক ভার্সন। কার্যকারিতা ভ্যাসলিনের-ই মত, তবে এর সুবিধা হচ্ছে যেহেতু স্টিকে থাকে তাই হাত ময়লা থাকলেও ব্যবহার করা যায় সহজেই আর স্টিক-ও থাকে ধূলো-ময়লার সংস্পর্শের বাইরে।

লিপ ট্রিটমেন্টঃ

ঠোঁটের যত্ন ও ঠোঁটের নানা সমস্যার কথা মাথায় রেখে বাজারে আসছে অনেক রকম লিপ ট্রিটমেন্ট প্রসধনী। এসব প্রসধনী ঠোঁটের নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি। কিছু কিছু আছে যেগুলো ঠোঁটের অতিরিক্ত শুষ্কভাব দূর করে, কোন কোন টা ঠোঁটে গোলাপি ভাব আনে, আবার কিছু প্রোডাক্ট ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করে থাকে।

লিপ প্রাইমারঃ

লিপ প্রাইমার হচ্ছে লিপস্টিকের বেস কোট, এতে লিপস্টিক যেমন লং লাস্টিং হয় তেমনি লাগানোর সময় ছড়ায়-ও কম। তাছাড়া ঠোঁটের দাগ-ও ঢেকে দেয় এবং শুষ্ক ঠোঁটকে করে আর্দ্র। আপনার যদি লিপ প্রাইমার না থাকে, তবে লিপ বামের সাথে কনসিলার মিশিয়ে এর কাজ চালিয়ে নিতে পারেন।

লিপ প্লাম্পারঃ

লিপ প্লাম্পার হয়ত অনেকের কাছেই অপরিচিত। এর ব্যবহারে চিকন ঠোঁটে আসে প্রাকৃতিক ফোলা ভাব, যা অনেকেরই কাঙ্খিত। যাদের ঠোঁট এমনিতেই ভারি বা মোটা তাদের এটির প্রয়োজন নেই।

লিপ লাইনারঃ

লিপ লাইনারের ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কেননা অনেকেই আছে যারা এর সঠিক ব্যবহার জানে না। লিপ লাইনারের দক্ষ ব্যবহারে ঠোঁটের আকৃতি পুরোপুরি বদলে দেয়া যায় আর সেজন্য অনেক অনুশীলন প্রয়োজন।

লিপস্টিকঃ

লিপস্টিক চেনে না বা কখনো দেয় নি এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া কঠিন-ই নয় বরং অসম্ভব। যারা একদমই প্রসাধনী ব্যবহার করে না, তাদেরকেও লিপস্টিক লাগাতে দেখা যায়। সঠিক ভাবে লিপস্টিকের ব্যবহার আপনাকে দিতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন লুক, যা সকলের নজর কাড়তে বাধ্য।

লিপ গ্লসঃ

লিপ গ্লসের ব্যবহার ঠোঁটে আনে বাড়তি আবেদনের মাত্রা। লিপস্টিকের উপরে হালকা লিপ গ্লসের ছোঁয়া কিংবা শুধু লিপ গ্লস লাগিয়েও আপনি ফুটিয়ে তুলতে পারেন ঠোঁটের বাড়তি সৌন্দর্য।

লিপস্টিক লকার বা সিলারঃ

অনেকেই আছে যারা লিপস্টিক ব্যবহারের কিছুক্ষণ পরেই লিপস্টিক নাই হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে লিপস্টিক লকার বা সিলার আপনাকে সাহায্য করতে পারে। লিপস্টিক ব্যবহারের পর একটু খানি লিপ লকার বা সিলার আপনার লিপস্টিককে করবে দীর্ঘস্থায়ী।

loading...
%d bloggers like this: