loading...

গৌরীপুর সাড়ে তিন বছর পর ৬২ প্রাইমারী স্কুলের দপ্তরী নিয়োগ পরীক্ষা

0

মশিউর রহমান কাউসার,গৌরীপুর ব্যুরো চিফ: প্রায় সাড়ে তিন বছরে ৩ দফায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর অবশেষে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৬২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার (২২ মার্চ) বেলা ১১টায় স্থানীয় পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ৬২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরী নিয়োগের জন্য তৎকালীন ইউএনও ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি দূর-রে-শাওয়াজ ১ম দফায় বিজ্ঞপ্তি দেন ২৩/০৩/১৫ ইং তারিখে। পরবর্তীতে নানা জটিলতার কারনে এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

২য় দফায় ১৫/০৬/১৭ ইং তারিখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন তৎকালীন ইউএনও ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি মর্জিনা আক্তার। মামলা জনিত ও নানা জটিলতার কারনে ২য় দফায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যক্রমও স্থগিত হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০/০২/১৯ ইং তারিখে নতুন নীতিমালার আলোকে উল্লেখিত ৬২ বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেন উপজেলা

শিক্ষা অফিসার ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম খান। এ বিজ্ঞপ্তিতে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনের শেষ সময়সীমা ছিল ০৬/০৩/১৯ ইং তারিখ। এতে নতুন করে আবেদন করেন ১১৩ জন।

এ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শুক্রবার (২২ মার্চ) স্থানীয় পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এতে পূর্বের আবেদনকারীগন অংশগ্রহন করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে দফায় দফায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এ পদে স্থানীয় আবেদনকারীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছিল। অবশেষে প্রায় ৩ বছর ৯ মাস পর সকল জটিলতার অবসান ঘটিয়ে এ পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবরে আবেদনকারী প্রার্থীদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। অপরদিকে জনমনে গুঞ্জন ওঠেছে ওই পদে নিয়োগের জন্য স্থানীয় একটি চক্র ইতিমধ্যে প্রার্থীদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

অভিযোগ ওঠেছে পূর্বের আবেদনকারীদের মাঝে অনেকেই লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাননি।

এ নিয়োগ কমিটির সভাপতি ইউএনও ফারহানা করিম সাংবাদিকদের জানান, উক্ত পদে মোট আবেদনকারী সংখ্যা ৪৮৩ জন। এর মধ্যে নতুন আবেদনকারী সংখ্যা হচ্ছে ১১৩ জন। শুক্রবার সকাল ১১টায় স্থানীয় পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তাদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নপত্র যাতে ফাঁস না হয় এক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তিনি বলেন ৬২ টি বিদ্যালয়ে উক্ত পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে ১টি বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সে বিদ্যালয়টি হচ্ছে সহনাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সকল প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে আবেদনকারীদের মাঝে পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। কোন আবেদনকারী প্রবেশপত্র পেয়ে না থাকলে যোগাযোগ করলে তাদেরকে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, উল্লিখিত ৬২ স্কুলের ছয় সদস্য’র নিয়োগ কমিটিতে রয়েছেন- সভাপতি পদে ইউএনও ও সদস্য সচিব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সদস্য হিসেবে মাননীয় সংসদ সদস্য’র মনোনীত একজন প্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, এসএমসি কমিটির সভাপতি।

 

loading...
%d bloggers like this: