loading...

নাম যার শহর অালী ওরফে,টাউন অালী

0

আনোয়ার হোসেন শাহীন বিশেষ প্রতিনিধঃ
আমি ছোটবেলা থেকে এ জনপদের হাটে,বাজারে চা স্টলে , অাড্ডায় লেখার শিরোনামের নামটি অনেক বার শুনেছি।শুনেছি তার গল্প,কাহিনী,অসাধারন তার দেশ প্রেমের কথা। তাঁকে অনেকে না দেখলে ও  না চিনলেও নাম দুটি ষাট  সত্তর দশকে কিংবদন্তীর মতো  লোকে মুখে বেশ প্রচলন ছিল।

হালে অনেকটাই কালের অাবর্তে এ নামটি  অতলে হারিয়ে যেতে বসেছে।এই মানুষটি হলেন ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বোকাইনগরের মমিনপুর গ্রামের শহর অালী। পিতা মরহুম ইমান অালী,মাতা মরহুমা কিতাব জানের গর্ভে ১৯৪৫ সালে  ১০ মে জন্ম গ্রহণ করেন।সম্প্রতি একান্ত কথা হয় তাঁর সাথে।কুশল বিনিময়ের পর , ফিরে গেলাম ৬৯ সালের জানু্য়ারী মাসের ছাত্রসমাজের ১১ দফা অান্দোলন সহ নানা বিষয়ে  অালাপন চলে বেশ খানিকটা সময়।

এ প্রসঙ্গ আওরিয়েতে তিনি বলেন আমি গৌরীপুর কলেজের ছাত্র, কলেজ ভিপি ফজলুল হকের নেতৃত্বে  ১১ দফা সপক্ষে অান্দোলন সেদিন মিছিলে অংশ নিয়ে ছিলাম।কাছ থেকে দেখেছি  জালেম অাইয়োব শাহীর তৎকালীন মহকোমা প্রশাসক এস অালীর নির্দেশে দারোগা মজিদ মল্লিক গুলি করে কিভাবে হারুণকে হত্যা করেছিল।

ঘটনার কয়েকদিন  পর এসডিও  এস অালী মামলার তদন্তে অাসলে তিনি লাঞ্চিত হন।তৎকালীন গৌরীপুর ছাত্র ডানপিটে দুদান্ত সাহসী শহর অালী সেদিনের ঘটনা ব্যাপরে বলেন,হারুণ মারলো,অাবার ছাত্রদের নামে মামলা দিলো। এমনিতে বিক্ষোদ্ধ  ছাত্ররা  এসডিও এস অালী  এসেছেন থানায়।  অামি অবস্থান  করছি কালীপুর  বাজারে। মনে মনে ভেবে রেখেছি।

অাজ একটা কিছু করে করবো। ভাবতে ভাবতে এসডিও সাহেব থানা থেকে বের হওয়ার পর কাছা বাজারে অাসলেই গাড়ী থামাতে বলি। গাড়ী থামান  দরজা খুলে তিনি নামতে উদ্দ্যত হন।এ সময়  দোকানে ঝাপের বাশ দিয়ে পিটিয় অাক্রান্ত  করি। তখন অামার সাথে  ছিল কাউরাটের প্যার্লাম্যন্ট  সেক্রেটারি অাকবর অালী উকিলের ছেলে পরবতিতে কাষ্টম  কর্মকতা মহিম উদ্দিন। সে এস ডিও কে হারুণ হত্যার ক্ষিপ্ত হয়ে ইংরেজী ভাষায় বকতে থাকেন অার অামি পেটাতে থাকি।পরে  লোকজন পুলিশ জরো হতে থাকলে অামরা সরে পরি।

এ ব্যাপারে  অবঃ সেনা সদস্য মোমতাজ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি ঘটিয়ে শহর অালী অামার ঘরে অাশ্রয়  নেন।এ সময় বলি বাচঁতে হলে টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করতে হবে। তা না হলে ময়মনসিংহ  জেনে গেলে  সমস্যা হবে। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে অামার দোকান থেকে প্লাস নিয়ে কাউরাটের অাঃ কদ্দুছ   ( প্রতিবাদি যুবক) থানার পাশ দেয়ালের উপরে  উঠে প্লাস দিয়ে টেলিফোনের তার কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন  করে ফেলে।   এ সময় অামি নিচে দাড়িয়ে  ছিলাম। পরে শুনেছি এসডি সাহেরের মাথায় তিনটি সিলি লেগে ছিল।

শহর অালী  বলেন ,  এ ঘটনায় অামার নামে মামলা হয় অামি  পালিয়ে বেড়াই।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অামি যাইনি  কারণ নিরাপত্তা কারণে।ছাত্রলীগের  সাংগঠনিক সম্পাদক সুবক্তা জহির বেগ মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহনের লক্ষে ভারতে  প্রবেশের পরে গুলি করে মেরে পেলে।  দেশ স্বাধীনের পর বাজার কালীখলায় আমাকে মেরে ফেলতে অস্ত্র তাক করেছিল সে দিন বেঁচে যাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট অাবুল কালাম মোহাম্মদ অাজাদের  কারণে। অামার কৈশর যৌবনে এলাকায় অনেক মারপিট সহ নানা অঘটনে যুক্ত ছিলাম।

অামি গেলে ও অামাকে মেরে ফেলতো, সে কারণে যাওয়া হয়নি।দুই নামের বিষয়টি  জানতে চাওয়া হলে,তিনি একটা হাসি দিয়ে বলেন,দেশ স্বাধীনের পর  কলেজে ভর্তি হই এ কলেজ থেকে বি এ পাশ করি। ক্লাশে অামি পিছনে বসতাম।পিছনে বসলে দুষ্টুমি  করা যেতো।জৈনক স্যার ক্লাসে লেকচার দিচ্ছেন।অামি ঐ দিন একটু বেশী সামনে বসা সহপাঠীদের পিছন থেকে গুতা গুতি করছিলাম। এতে তারা শিহরিত  হয়ে হাসি ঠাট্টা করেছিল। স্যার রেগে ধমক দেন ফলে ক্লাশে  পিনপতন  নিরবতা চলে অাসে।স্যার বলেন ষ্টেন অাপ, কে কথা বলছো  দাড়াও।অামি দাঁড়াই। স্যার অামাকে অামাকে বলেন  নাম কি তোসার,তখন অামি বলেছিলাম স্যার বাংলায়  বলবো না  ইংলিশে বলবো,বাংলা  অামার নাম শহর অালী অার ইংলিশে হচ্ছে টাউন অালী।এ কথা বলতে যেয়ে ক্লাশে  অাবার হাসির রোল পড়ে।

বর্তমানে  ৭৫ বছর বয়সি চার ছেলে এক মেয়ের জনক  শহর অালী  তারুণ্যের দুরন্তপনার  কথা স্মরন করে  স্মৃতি কাতর হয়ে বলেন,জাতীর জন বঙ্গবন্ধুর  জন্য অামরা অান্দোলন  করেছি।হারুণকে  মেরে ফেললো, অামি শুলির নির্দেশ দাতার উপর ছড়াও হই। ফলে অামার কোন চাকুরী  হলো না।এ সব অামি করেছি দেশপ্রেম বোধ থেকে।কিন্ত দুঃখের বিষয় অাজো হারুণের জাতীয়ভাবে   স্বীকৃতি  হলো না। হারুন সহ তার পরিবারটি ছাত্র গনঅান্দোলন  শহীদ হিসাবে স্বীকৃতির দাবী করছি।

loading...
%d bloggers like this: