loading...

প্রেমের পর বিয়ে, প্রেমের জয় – মজার গল্প

0

একটা সুন্দরী মেয়ে অনেকক্ষন ধরে উকিলের চেম্বারে বসে আছে।
কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে ইচ্ছা হচ্ছে, কিন্তু না জানি কখন ওর ডাক এসে যায় সে জন্য গানটাও ঠিকমত শুনতে পাচ্ছিল না।
উকিলের একটা লোক এসে মেয়েটিকে বলল, দিদি, উকিল সাহেব আপনাকে ডাকছে।
উকিল সাহেবের রুমটা বেশ সাজানো পরিপাটি, চারিদিকে সেলফ, মাঝখানে একটা বিশাল ডেক্স, আর দুটো কম্পিউটার রয়েছে।
মেয়েটি উকিল সাহেবের ডেক্সের সামনে দাড়াল।
সাদা-কালো দাড়ি-গোফওয়ালা উকিল তার নাকের ডগায় থাকা চশমার আধা ফোকর দিয়ে মেয়েটির দিকে তাকালেন, বললেন বসো। (লোকটাকে বেশ রাশভারী আর রাগী বলে মনে হল)
মেয়েটি উকিলের সামনের চেয়ারে বসে পড়ল।
– কি সমস্যা?
– আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসি।
– সেটা আমাকে কেন বলতে এসেছো, ছেলেটাকে বলো গিয়ে যাও!
– 3 বছর আগেই বলেছি।
– সে কি মেনে নিয়েছে?
– তিন বছর আগেই মেনে নিয়েছে।
– তাহলে কি সমস্যা?
– আমরা বিয়ে করতে চাই।
– করে ফেল।
– কিন্তু এখানেই সমস্যা।
– সেটা কি?
– ছেলে তার বাবাকে খুব ভয় পায়।
– তোমার বয়স কত?
– ২০, আর ছেলের বয়স ২৪।
– তাহলে তোমরা দুজনেই তো প্রাপ্তবয়স্ক , তাহলে আবার কি সমস্যা?
– ছেলে ভয় পায় তার বাবা পরে যদি কোন ঝামেলা করে। তাই আমি এসেছি আপনার কাছে সহায়তা চাইতে যাতে পরে কোন সমস্যা না হয়।
– দেখ মেয়ে, সংবিধানেই লেখা আছে যে ১৮ বছর হলেই সে মেয়ে/ছেলেকে সাবালক বলে গন্য করা হয়। এসময় তারা তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে তাতে কেউ বাধা দিতে পারে না।
– কিন্তু এরপর যদি ছেলের বাবা কোন আইনি ঝামেলা করে?
উকিল এবার চেয়ার ছেড়ে উঠলেন, বাম পাশের সেল্ফ থেকে একটা বই নিয়ে কিছু পাতা উল্টালেন,

এর পর মেয়েটির কাছে এসে বললেন, সেক্ষেত্রে ছেলেকে প্রমান করতে হবে যে সে যা করেছে তা সাবালকের অন্তর্ভুক্তি নিয়েই করেছে, তাহলে ছেলের বাপের কিছু করার থাকবে না।
– আঙ্কেল, ওর বাবা যদি ওকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়? সকল সম্পত্তি থেকে ওকে বিতাড়িত করে দেয়, তাহলে..
উকিলের মাথায় চুল নেই, তাও হাতের কলম দিয়ে মাথা চুলকালেন, তারপর অনেকক্ষন কিছু বই ঘাঁটলেন, এরপর মেয়েটিকে এক ঝাঁক আইনের নিয়ম দ্বারা বুঝালেন যে সেক্ষেত্রে ছেলে ইচ্ছা করলে মানবাধিকার খর্ব করার অপচেষ্টার অভিযোগ করতে পারে তার বাবার বিরুদ্ধে এবং তখন তার বাবা বাধ্য তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে।
– তাহলে সব বিষয় দেখে বুঝলাম জয় আমাদেরই হবে, মানে আমাদের প্রেমের জয়। মেয়েটি জিজ্ঞেস করলো, আর কোন বাধা নেই তো আমাদের বিয়েতে?
– নাহ, তুমি নিশ্চিন্ত থাকো।
– তাহলে আপনি বলছেন আপনার ছেলে আমাকে বিয়ে করলে আপনি কোন ঘন্টাই করতে পারবেন না, তাই তো?
– মানে?
– মানে আমি আপনার ছেলেকে বিয়ে করতে চলেছি…

আর নয়, বাকিটা বাকি থাক।
(রিমা আক্তার, ঢাকা)
loading...
%d bloggers like this: