loading...

যে ৩ কারণে বিশ্বকাপটা ক্রোয়েশিয়ারই প্রাপ্য

0

স্টাফ রিপোর্টার ঃ

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষের পথে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ম্যাচটি রয়ে গেছে অপেক্ষায়। রোববার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আসা ক্রোয়েশিয়া লড়বে ১৯৯৮ এর চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে।

ফরাসিরা দুর্দান্ত। কিন্তু যেভাবে ক্রোয়েশিয়া ফাইনালে উঠে এসেছে তাও অবিশ্বাস্য এক গল্পের মতো। চলুন দেখে নেওয়া যাক কেন এই ক্রোয়াট দলের বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়াটা প্রাপ্যই হয়ে গেছে বলতে গেলে!

এক. অলৌকিক যুথবদ্ধতা ও সর্বোচ্চ উজ্জীবনী মন্ত্র

ক্রোয়েশির কোচ জ্লাতকো দালিচ এক অবিশ্বাস্য কাণ্ডই ঘটিয়েছেন। এই দলটির মধ্যে বিশ্বকাপে যে আবহ তা কোনোকালেই ছিল না। এর চেয়ে ভালো কিছু হতেও পারে না। খেলোয়াড়রা বারবার সেই কথাই বলে গেছেন।

তারা বিশ্বকাপে নিজেদের সত্যিকারের একটি পরিবারের মতোই মনে করছেন। ৫০ দিন ধরে আছেন একসাথে। খেলোয়াড়দের চেষ্টা দেখলেই বোঝা যায় মাঠে তারা একে অন্যের জন্য প্রাণ দিতে সদা প্রস্তুত। তিনটি ম্যাচ এক্সট্রা টাইমে জিততে হলেও ক্রোয়াট দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রকাশমান যুথবদ্ধ ভাবটা সবার মন কেড়েছে।

দুই. মানসিক শক্তি ও ক্যারেক্টার

ডেনমার্ক, রাশিয়া ও ইংল্যান্ড- এদের প্রত্যেকের বিপক্ষেই পেছন থেকে উঠে এসে জিতে সামনে এগুতে হয়েছে ক্রোয়াটদের। এর মধ্যে দুটি ম্যাচের ফল এসেছে পেনাল্টি শ্যুট আউটে। ক্রোয়েশিয়ান কামব্যাক কিংরা এইসব ম্যাচে তাদের মানসিক শক্তির তীব্রতা ও ক্যারেক্টারের প্রমাণ দিয়েছেন শারীরিক ভাষাতেও।

অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ বারবার বলেছেন, ‘আমরা আমাদের ক্যারেক্টার দেখিয়েছি।’ ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে ব্যক্তিত্বের শক্তির এই বিষয়টি ক্রোয়াটদের জন্য বড় এক অস্ত্র। ইতিহাসে যতগুলো দল শিরোপা জিতেছে তারা তাদের প্রবল ক্যারেক্টারের প্রমাণের ধারাবাহিকতা দেখিয়ে টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

তিন. অভিজ্ঞতার সমান আত্মবিশ্বাস

ক্রোয়েশিয়ার এই সোনালি প্রজন্মের নেতা মদ্রিচ। রিয়াল মাদ্রিদের এই তালিসমান ছাড়াও দালিচের দলে বিশ্বের বড় বড় ক্লাবে খেলা খেলোয়াড়ের দারুণ উপস্থিতি।

এই দলে আছে বার্সেলোনা, ইন্তার মিলান, জুভেন্তাস ও লিভারপুলের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা সব ক্লাবের খেলোয়াড়। ইভান রাকিতিচ, মারিও মানজুকিচ, ইভার পেরিসিচ, মাতেও কোভাসিস ও দেজান লভরেন এই দলে।

দলের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৭ বছর ১০ মাস। সেই হিসেবে দারুণ অভিজ্ঞতা এবং গ্রুপপর্বে আর্জেন্টিনাকে হারানোর ম্যাচই প্রথমে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছিল এই বিপজ্জনক দলটির ব্যাপারে।

ওখানে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস গিয়ে জোট বেঁধেছে। আর কি চাই? এই দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই কিন্তু তাদের ক্লাব দলের নিয়মিত একাদশের অপরিহার্য সদস্য। নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে তাই খুব জানা আছে ক্রোয়াটদের।

সূত্র : ফিফা।

loading...