loading...

চাঁদা না দেওয়ায় জোরপূর্বক পূত্রবধূর সাথে শশুরের বিয়ে পড়ালেন চেয়ারম্যান তাবারিয়া

0

তারেক আহম্মেদ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো চীফঃ

চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় শশুরের সাথে নিজ পূত্রবধুর জোরপূর্বক বিয়ে দিয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং  ধাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান আ.ক.ম তাবারিয়া চৌধুরী। অন্তঃসত্ত্বা পূত্রবধূ সাথী বেগমের সাথে শশুর বাবর আলীর অবৈধ সম্পর্কের ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাই ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়। 

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মহেষপুর গ্রামের বাবর আলীর ছেলে ইউসুফ আলীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের জাবড়ি কাজিপাড়া গ্রামের মৃত জোবদুল হক জোবুর মেয়ে সাথী খাতুনের সহিত প্রায় ১ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর একই বাড়ীতে সবাই বসবাস করত। এরপর পূত্রবধূর দিকে কুঃনজর পড়ে শ্বশুর বাবর আলীর। পরে পূত্রবধূর সাথে জমে উঠে শশুরের প্রেম।

 

বিষয়টি এলাকায় স্থানীয় ভাবে সমাধানের জন্য ২২ জুন সারারাত ১৪ নং ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে ঘটনার সাথে জড়িত পূত্রবধূ ও শশুরকে আটকে রাখে চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী। তবে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান না করে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারটির কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন এই চেয়ারম্যান।

 

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক সেই শালিসে বাবর আলীকে দিয়ে স্ত্রী তিন সন্তানের জননী নাসীমা বেগমকে  তালাক দেয়া হয়। এরপর ছেলে ইউসুফ আলীকে দিয়ে স্ত্রী সাথী বেগমকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। সে সময় দেড় লাখ টাকা দেন মোহরে পূত্রবধূ সাথীর সঙ্গে শ্বশুর বাবর আলীর জোরপূর্বক বিয়ে পড়ান চেয়ারম্যান তাবারিয়া।

চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তালাক ও বিয়ের কাজটি সম্পূর্ণ করেন একই ইউনিয়ের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) আনারুল ইসলাম। এর সার্বিক সহযোগিতা করেন অত্র ইউনিয়ন পরিষদের কাম কম্পিউটার অপারেটর সেতাউর রহমান। পরে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বেই দুই ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান ও হোসেন আলী শালিসে উপস্থিত সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন বলে জানান বাবরের স্ত্রী নাসিমা বেগম ও এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরীর কাছে চাঁদা দাবীর বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন । এবং বিয়ে পড়ানোর বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। ইউনিয়ন পরিষদে তাদের আটকে রেখে তালাক সম্পন্ন করা হয়েছিল বলেও তিনি তিনি জানান।

এছাড়াও তিনি প্রতিবেদককে মুঠো ফোনে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি প্রদান করেন।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জর্জ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড. নুরুল ইসলাম সেন্টু’র কাছে আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি বে-আইনী এবং অসামাজিক। যা ইসলামী শরীয়াহ্ কোন ভাবেই এটা সমর্থন করে না।

loading...