loading...

এদের কী জবাব দেবেন নেইমাররা?

0

অধিকাংশ সময় বল পায়ে থাকল, স্কিল মুগ্ধতা ছড়ালো, দেখার মতো মুহুর্মুহু আক্রমণ হলো। অথচ হেরে মাঠ ছাড়তে হলো। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘটল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কাজান এরিনায় মুখোমুখি হয় ব্রাজিল-বেলজিয়াম। আক্রমণাত্মক সূচনা করে ব্রাজিল। সূচনালগ্নে নান্দনিক ফুটবলের পসরা সাজায় সেলেকাওরা। ফলে সুযোগ আসতেও বিলম্ব হয়নি। তবে ৮ মিনিটে তা কাজে লাগাতে পারেননি থিয়াগা সিলভা।

পরেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে ব্রাজিল। কিন্তু ১৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। কর্নার থেকে কেভিন ডি ব্রুইনার ক্রসে ফার্নান্দিনহোর আত্মঘাতী গোলে লিড পায় রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা।

পিছিয়ে পড়ে গোল পেতে মরিয়া হয়ে পড়ে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ শিবিরে একের পর এক আক্রমণ হানতে থাকে দলটি। কিন্তু বিধিবাম! তা-ই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় দলটির জন্য। আরেকটি গোল হজম করে এর খেসারত গুনতে হয় তাদের। ৩১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ফেলাইনির কাছ থেকে বল পান লুকাকু। মাঝমাঠ থেকে তা একাই টেনে চারজনকে কাটিয়ে বল বাড়ান ডি ব্রুইনার দিকে। ডি বক্সের বাইরে থেকে অসামান্য দক্ষতায় দূরপাল্লার বুলেটগতির শটে তা জালে বল জড়ান তিনি। এতে স্কোরলাইন হয় বেলজিয়াম ২-০ ব্রাজিল।

এরপর দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে বেলজিয়াম। ঘন ঘন আক্রমণে ব্রাজিল শিবিরে ত্রাস ছড়ান বেলজিয়ানরা। তবে আর গোলের দেখা পায়নি তারা। মাঝে মাঝে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠেছে নেইমার-মার্সেলোরা। তবে তাদের আক্রমণগুলো ছিল একেবারে অগোছালো। ফলে গোল পায়নি তারাও।

২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে গোলের জন্য বারংবার আক্রমণে উঠে আসে ব্রাজিল। ফলও আসে। কুতিনহোর ক্রস থেকে পাওলিনহোর বদলি হিসেবে নামা রেনাতো আগুস্তোর হেড থেকে করা ৭৬ মিনিটের গোলে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনে ব্রাজিল। তখন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মরিয়া হয়ে উঠে সেলেসাওরা।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে নেইমার প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন কিন্তু কুরতোয়া এদিন যেনো গোলবারের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি নেইমারের প্রচেষ্টা এর আগেও একবার ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। পুরো ম্যাচেই তার অসাধারণ সেভের কারণেই গোলবঞ্চিত হয়েছেন নেইমার-জেসুসরা।

ব্রাজিল তাদের সেরা দল নিয়েও হারের যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়েছে। এর পেছনে দলের সেরা ডিফেন্ডার কাসেমিরোর অনুপস্থিতি বড় অবদান যেমন রেখছে তেমনি তার বদলে যিনি একাদশে ছিলেন সেই ফার্নান্দিনহোর আত্মঘাতী গোলও বড় অবদান রেখেছে।

এটি কোচ তিতের অধীনে ব্রাজিলের মাত্র দ্বিতীয় হার। রাশিয়া বিশ্বকাপে তারা ফেবারিট হিসেবেই এসেছিলো। কিন্তু বেলজিয়ামের কাছে সেই স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটলো।

এমনটা হওয়ার কী কথা ছিল? হয়তো ছিল কিংবা ছিল না। রাশিয়াতেই নেইমাররা তাঁদের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন ছুঁতে পারতেন। সেটা পারলেন না। বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ব্রাজিল।

প্রিয় দলকে, প্রিয় খেলোয়াড়কে সমর্থন দিতে গ্যালারিতে গলা ফাটিয়েছে হাজারো দর্শক। তিতের শিষ্যরা তাদের হতাশই করল। প্রিয় দলের হার মেনে নিতে পারেনি অনেকেই। দর্শকদের কেউ ডুকরে কেঁদেছে। কেউ বাষ্পরুদ্ধ হয়ে গেছে। এসব দর্শকদের কী জবাব দেবেন নেইমাররা?

loading...