loading...

পত্লীতলায় ভিজিএফের চাল, ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ, ১৮ বস্তা চাল উদ্ধার

0

প্রতিনিধি বদলগাছী (নওগাঁ):
নওগাঁর পত্লীতলায় বৃহস্পতিবার নজিপুর পৌরসভায় ভিজিএফ কর্মসূচীর চাল বিতরণ নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। দ্ঃুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পাচারের সময় স্থানীয় জনতারা পৌর আওয়ামী লীগের নেতা গোপালকে আটক করে। এদিকে নিয়োম অনুযায়ী বরাদ্দকৃত চাল জন প্রতি ১০ কেজি দেওয়ার কথা থাকলেও কোন নিয়োমনীতিকে তোয়াক্কা না করে ১০ কেজি চালের পরিবর্তে জন প্রতি দেওয়া হয়েছে ৪ থেকে ৫কেজি করে। চাল বিতরণের অনিয়োমের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে নজিপুর পৌর এলাকার ৪হাজার ৬শত ২১ জন দুঃস্থদের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচীর চাল বিতরণের জন্য স্থানীয় গোয়ার্স মার্কেটে স্থান নির্বাচন করা হয়। এর আগে ঐ চাল বিতরণের জন্য উপকারভোগিদের মাঝে কার্ড ইস্যু করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুঃস্থদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরন শুরু করা হয়। এ সময় উপকারভোগিদের মধ্যে ১০ কেজির পরিবর্তে জনপ্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি করে চাল বিতরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে কানাঘুষা শুরু হলে পরবির্ততে জন প্রতি ৮ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হয়। এদিকে ভিজিএফের ১৮ বস্তা চাল পাচার করে নতুন হাট গোডাউনে ঢোকানোর সময় স্থানীয় জনতা পৌর আওয়ামী লীগের নেতা গোপালকে হাতে নাতে আটক করে স্থানীয় জনতা । এ সময় গোপাল বলেন, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরুন কুমার পাল এবং পৌর মেয়র মো. রেজাউল কবীর চৌধুরীর কাছ থেকে তিনি ভিজিএফ এর ৩টন চাল কিনে নিয়েছেন। ভিজিএফের চাল পাচার ও ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং চাল বিতরণ বন্ধ করে দেয়।

পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা পারভিন ও সহকারি পুলিশ সুপার তারেক জোবায়ের ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে পুনরায় চাল বিতরণ শুরু করা হয়। এ বিষয়ে পৌর মেয়র মো. রেজাউল কবির চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চাল পাচারের কোন ঘটনা ঘটেনি। কিছু সমস্যা হয়েছিল যা ইউএনও মহোদয় মিমাংসা করে দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা পারভিনের সাথে বার বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি অনাকাংখিত। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়ম করায় এলাকাবাসী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

loading...