loading...

সাতক্ষীরা সদরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে মেগা প্রকল্পে যুক্ত হলো ২০টি স্কুল

0
শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফঃ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে মেগা প্রকল্পের আওতায় এবার সাতক্ষীরা সদরে ১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
সারা দেশে ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রত্যেকটিতে ১০টি করে স্কুলের ভবণ উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প আগামী নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এছাড়া আরো ১০টি করে নতুন ভবন নির্মাণেরও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর সংসদীয় আসনে উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে মির্জানগর আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঘোনা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডি, বি, বালিকা বিদ্যালয়, সাতানি ভাদড়া স্কুল এন্ড কলেজ, শাখরা কোমরপুর এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বৈকারি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নবারুন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ভাড়ুখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেজুরডাংগা আরকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শিবপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শিক্ষা
প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বুলবুল আখতার স্বাক্ষরিত পত্রে এ খবরের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জেলা সদরের পল্লী এলাকার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। অপরদিকে উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পের পাশাপাশি আরো ১০টি প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মান করা হবে ভোটের আগেই।
ঈদের পরে দু এক দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি এসে পৌছাবে সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে। এমনই সুখবর দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় মসজিদ-মন্দিরসহ সামাজিক, ধর্মীয় ও খেলাধুলা বিষয়ক অবকাঠামোও নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ৬৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সংস্কার প্রকল্পে সরকার প্রতিটি প্রকল্পে ৫লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
সূত্র জানায়, সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে গৃহীত মেগা প্রকল্পে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি) এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
তিন হাজার নতুন ভবন এবং তিন হাজার ২৫০টি ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার দুটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ইতিমধ্যে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ৩২৩টি সরকারি স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে চার হাজার ছয়শ’ কোটি টাকা এবং ২০০ সরকারি কলেজ উন্নয়নের জন্য এক হাজার আটশ’ কোটি টাকা ছাড়ের সরকারি অর্ডার (জিও) দেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ পাবেন এমপিরা। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা, গুরুদুয়ারা, ঈদগাহ ও খেলার মাঠের উন্নয়ন হবে।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন ছাড়া দেশের ৪৯১টি উপজেলায় এক কোটি করে মোট চারশ’ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এ জন্য পরে আরো এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।
সূত্র জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক এমপি তার নির্বাচনী এলাকায় ১০টি নতুন ভবন করতে পারবেন। এ প্রকল্পের আওতায় সাতটি ক্যাটাগরিতে তিন হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও আসবাবপত্র দেয়া হবে।
প্রতিটি ভবনে টানা বারান্দা, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক টয়লেট, সুপেয় পানি, ছাত্রীদের জন্য পৃথক কমন রুম, শিক্ষকদের জন্য একটি কক্ষ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা টয়লেট ও র‌্যাম্পের ব্যবস্থা থাকবে।
দেশে চারতলা ভিতবিশিষ্ট চারতলা ভবন হবে দুই হাজার ১৫০টি, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ছয়তলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা ভবন হবে ১০০টি, পাহাড়ি এলাকায় চারতলা ভিতবিশিষ্ট চারতলা ভবন হবে ৫০টি, উপকূলীয় এলাকায় নিচতলা ফাঁকা রেখে পাঁচতলা ভবন (নিচতলায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র-কাম শ্রেণিকক্ষ) হবে ১৫০টি।
এ ছাড়া হাওর এলাকায় পাঁচতলা ভবন হবে ৫০টি, লবণাক্ত এলাকায় চারতলা ভিতবিশিষ্ট ভবন হবে ১৭৫টি এবং নদী-ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য সেমিপাকা কাঠামোয় নির্মাণ হবে ২৫টি ভবন। এসব ভবন নির্মাণ করতে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা।
ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে সারাদেশে আরো তিন হাজার ২৫০টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যমান একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও আসবাবপত্র কেনার জন্য পাঁচ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাঁচটি করে নতুন মাদরাসা ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
গত সাড়ে আট বছরে সারা দেশে স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় ১০ হাজার ১১টি নতুন ভবন নির্মাণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। আরো চলমান রয়েছে দুই হাজার ৪৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ কাজ।
মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নেও বরাদ্দ পাচ্ছেন এমপিরা। এ লক্ষ্যে ৬৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
এ প্রকল্পের আওতায় প্রতি উপজেলায় অন্তত দুই কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম হবে, যা পরিচালনা করবেন এমপিরা। ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ পাঁচ হাজার ১৮০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১০ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
এমপিরা নিজের নির্বাচনী এলাকায় কোথায় কোথায় নলকূপ ও টয়লেট নির্মাণ করতে হবে, তা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে লিখিত জানাবেন। অধিদফতর এমপিদের চাহিদামতো নলকূপ ও টয়লেট তৈরি করবে। নির্বাচনের আগেই এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
loading...