loading...

বাস-ট্রেনের ওপর চাপ কমাচ্ছে রেন্ট এ কার

0

ঈদে বাড়ি ফিরতে সামর্থ্যবানরা ট্রেন, বাস, লঞ্চ বা বিমানের পাশাপাশি নিজস্ব বা ভাড়া করা গাড়ির ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করছে। চলতি সপ্তাহ থেকেই ভোরে বিপুলসংখ্যক প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস বের হতে দেখা গেছে রাজধানী থেকে।

রেন্ট এ কার নামে পরিচিত গাড়ি ভাড়ার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, বাসের মতোই ঈদে প্রতিটি গাড়ি দিনে সম্ভব হলে একাধিক ভাড়া নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আর ট্রেন-বাসের টিকিটের মতো গাড়ি ভাড়া পাওয়াও এখন কঠিন।

হাল আমলে রাজধানীতে জনপ্রিয় হওয়া উবারে চালানো গাড়িও চুক্তিতে ঢাকার বাইরে যাচ্ছে।

আর বিপুলসংখ্যক মানুষ গাড়ি ভাড়া করে যাওয়ায় বাস-ট্রেনে চাপ কিছুটা হলেও কম হচ্ছে। আর অন্যান্য বছরের মতো ঈদের আগে আগে এখনও মহাসড়কে সেখাবে যাত্রী চাপ পড়েনি।

সপরিবারে বা দল বেঁধে যেতে ১২ বা ১৪ আসনের মাইক্রোবাস এমনকি বাস ভাড়া করেও বাড়িতে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে আপাত দৃষ্টিতে খরচ বেশি মনে হলেও যাত্রীরা বলছেন, এতে ভোগান্তির পাশাপাশি খরচও কমে।

কারণ, ঈদে ব্যাগ নিয়ে স্টেশন বা টার্নিমালে যাওয়া, ঘাটে ঘাটে ঈদ বকশিসসহ নানা আবদার মেটানো, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, যাত্রার অনিশ্চয়তা, গন্তব্যে পৌঁছার পর আবার যানবাহন ভাড়া করে বাসায় ফেরা মেলালে খরচটা খুব বেশি পড়ে এমন না।

এর বাইরেও একটি সুবিধা পাওয়া যায়, সেটি হলো তুলনামূলক কম যানজট হয় এমন সড়ক ধরে চলে যাওয়া যায় গাড়ি ভাড়া করে গেলে। ফলে আগেভাগেই গন্তব্যে পৌঁছা যায়।

মোহাম্মদপুরের ‘মামা-ভাগিনা রেন্ট-এ-কার’ এর মালিক মোস্তফা মোল্লা ঢাকাটাইমসকে জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে গাড়ির চাহিদা বেশি।

ভাড়ার গাড়ির মধ্যে আবার ১৪ আসনের ‘হাইস’ মাইক্রোবাসের চাহিদা বেশি। আকারে বড় বলে বেশি যাত্রীর পাশাপাশি মালামালও বহন করা যায় এই মাইক্রোবাসে।

মোস্তফা জানান, উত্তরবঙ্গের দিকে একটা গাড়ি পাঠালে প্যাকেজ (সব খরচসহ) ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা পরে। ঈদের আগে খরচটা আরও কম থাকে।

১৪ জন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে করে গেলে সব মিলিয়ে এর চেয়ে বেশি খরচ হবে, সেটি নিশ্চিত।

‘বাসে না গিয়ে অনেকেই আমাদের কাছে আসে। বাসে তো আপনি নিজের মতো করে যেতে পারবেন না। অনেকে আবার ঈদে সবার জন্য কেনাকাটা করে নিয়ে যায়। বাসে তো একজনের তিন/চার টা বড় ব্যাগ নেওয়া যায় না। অনেক সময় ব্যাগ হারায়। আমাদের গাড়িতে তো আর হারানোর সুযোগ নাই।’

ঈদে অবশ্য অন্য সময়ের চেয়ে খরচ বেশি পড়ে। কারণ জানতে চাইলে মোস্তফা বলেন, ‘এই সময় সব ড্রাইভার পাওয়া যায় না। অনেকে আগেই বাড়ি যায়। যে ড্রাইভাররা ডিউটি করে তাদের আবার একটু বেশি টাকা দিতে হয়। এদিক দিয়ে অন্যান্য সময়ের চাইতে ২/৩ হাজার টাকা বেশি নেই।’

ঈদে বাড়ি যাওয়ার অপেক্ষায় কামরুল ইসলাম। আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণে ঈদের অগ্রিম টিকেট নেয়ার সুযোগ হয়নি। বৃহস্পতিবার শেষ অফিস। আমরা লোক চার জন। রেন্ট-এ-কার থেকে একটা গাড়ি নেব। বাসের চাইতে ভালো হবে।’

‘খরচ একটু বেশি পড়লেও ভোগান্তি থাকবে না। চারজন অনায়াসে বাড়ি চলে যাব। আমি একটা রেন্ট-এ-কারে কথা বলে রেখেছি।’

কাশেম এন্টারপ্রাইজ এর মালিক আবুক কাশেম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই টাইমে আমাদের প্রায় গাড়ি বুক থাকে। চাহিদা হাইসের বেশি। যারা মানুষ কম, তারা করলা, এলিয়ন নিয়াও যায়।’

বাসের তুলনায় রেন্ট-এ-কারের সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের গাড়ি তো আর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নামায় না। বাসা পর্যন্ত দিয়া আসে। এদিক দিয়েও যাত্রীরা অনেক সুবিধা পায়। বারবার গাড়ি পাল্টানো ঝামেলা থাকে না।’

পরিচিতজনের সংখ্যা বেশি হলে বাস বুকিং করে যাওয়ার উদাহরণও আছে। ভাড়া করা বাস নিয়ে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যাবেন মোহাম্মদপুরের কলিম। সাথে পরিবার ও একই অঞ্চলের আরও ৪০ জন।

১৫ জুন ঢাকা ছেড়ে যাবে কলিমদের বাস। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘বাসের টিকিটের জন্য লাইন ধরা লাগে, শেষে টিকিট পাওয়া যায় না। ঈদের সময় ভাড়াও বেশি। পছন্দ মতো সিট পাওয়া যায় না। এর চাইতে আমরা একটা বাস ভাড়া করি, ৩৫ জন, ৪০ জন যাই হই, এক সাথে যাই।’

‘সবাই মিলে মজা করতে করতে যাওয়া যায়। পিকনিকের মতো। আমরা যারা একত্রে যাই তারা সবাই পরিচিত। সবচেয়ে বড় কথা খরচটাও কম হয়, অনেক কম।’

loading...
error: Content is protected !!