loading...

গফরগাঁওয়ের পিআইও আলিশান বাড়ি দেখে মানুষের ‘মাথা খারাপ’অবস্থা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল করিমকে ঘুষ না দিলে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের সরবরাহপত্র (ডিও) দেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ না দেওয়ায় বরাদ্দের অর্থ ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে । ইতিপূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগও করেছেন। যদিও এতে কোন ফল আসেনি । গফরগাঁও ঘুরলে লোকজনের মুখে মুখে কেবল তারই নাম । উপজেলার সিংহভাগ উন্নয়নের টাকাই নাকি তার পকেটে । ময়মনসিংহ শহরের সানকিপাড়ায় গেলে ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়া পিআইও রেজাউল করিমের সন্ধান মিলে ! সানকিপাড়াস্থ তার আলিশান বাড়ি দেখে মানুষের ‘মাথা খারাপ’ অবস্থা।

নিজ বাড়ি টাঙ্গাইল জেলা ছাড়াও বিভিন্ন স্থান মিলিয়ে নিজ এবং স্ত্রী-সন্তানের নামে অঢেল সম্পত্তি রয়েছে তার। যদিও পিআইওর চাকরিটাও এখন নামমাত্র তার । সপ্তাহের অধিকাংশ সময় তিনি ব্যস্ত থাকেন নিজের বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ব্যালেন্স আর সহায়-সম্পত্তির দেখভাল নিয়ে। ছোট চাকরিতে কোটিপতি বনে যাওয়া ব্যক্তি রেজাউল করিম গফরগাঁও উপজেলায় কর্মরত আছেন ৪ বছরেরও অধিক সময় ধরে । বিত্তশালী ওই কর্মচারীর চাকুরীবিধি লঙ্ঘন করে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা এবং দুর্নীতি-লুপাটের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। ক্রমান্বয়ে সেই পিলে চমকানো খবরগুলো প্রকাশ করা হবে। গফরগাঁওয়ের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পিআইওর কার্যালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দের সরবরাহপত্র দেওয়ার জন্য পিআইও রেজাউল করিম বরাদ্দের টনপ্রতি তিন হাজার টাকা করে অগ্রিম ঘুষ আদায় করে নেন। যাঁরা অগ্রিম ঘুষ দিতে পারেন না, পিআইও তাঁদের ডিও লেটার দিয়ে নিজে টাকা তুলে তাঁর ঘুষের অর্থ রেখে বাকিটা প্রকল্পের সভাপতির হাতে ধরিয়ে দেন।

কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পেও একইভাবে তিনি ঘুষের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে রাখেন। কর্মসৃজন কর্মসূচিতে প্রতিটি প্রকল্পে দুই থেকে তিনজন শ্রমিকের প্রতিদিনের অর্থ পিআইওকে দিতে হচ্ছে বলে বেশ কয়েকটি প্রকল্প কমিটির অনেক সভাপতিরা জানিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা আরও অভিযোগ করেন, ঘুষের টাকা আদায়ের জন্য পিআইও তাঁর কার্যালয়ে ব্যক্তিগতভাবে চুক্তিভিত্তিক একজন ক্যাশিয়ারও নিয়োগ দিয়েছেন। ঘুষের অর্থ থেকেই ওই ক্যাশিয়ারকে বেতন দেন পিআইও। এর আগেও একজন ইউএনও দুর্নীতির অভিযোগে এই পিআইওকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। অজ্ঞাত কারণে পিআইও আজো স্বপদে বহাল রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, এমনিতেই বরাদ্দ করা চাল বা গম বিক্রি করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম অর্থ পাওয়া যায়। তার ওপর প্রকল্প কার্যালয়ে বরাদ্দের একটা বড় অঙ্কের অর্থ কেটে রাখা হয়। ফলে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। আরেক ইউনিয়নের একজন সাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ নন ওয়েজ প্রকল্পের আওতায় আমার এলাকায় একটি ছোট ব্রিজ নির্মাণ করেছি। বরাদ্দের মধ্যে একটি অংশের টাকা শুরুতে দেওয়া হয়। কাজ শেষে অবশিষ্ট টাকা তুলতে গেলে পিআইও বরাদ্দের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ ঘুষ হিসেবে দাবি করেন। রাজি না হলে তিনি ঐ টাকা ফেরত পাঠান। তাই এখন তার টাকাকৃত ঘুষ সকলেই দিতে বাধ্য থাকেন । পিআইও রেজাউল করিমের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অনুসন্ধান করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করে দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকা অফিসে হরহামেশাই ফোন আসে । তারা বলেন, পিআইও একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তার বিরুদ্ধে যেহেতু অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে । তাই, তার স্থাবর সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করবে দুদক এটা আমরা চাই ।

পাশাপাশি তার অস্থাবর সম্পদের তথ্যও তুলে ধরা হোক দুদকের মাধ্যমে । এছাড়া স্পষ্টই বোঝা যায় যে, পিআইও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন ।তারা বলেন, দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে এই পিআইও শাস্তি দেয়া জরুরী, নইলে অন্যরা সুযোগ নিবে।

loading...
error: Content is protected !!